আসাদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের নিয়মিত গণশুনানির অংশ হিসেবে প্রতি বুধবারের মতো আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় গণশুনানি। সকাল ১০টা থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সেবাপ্রত্যাশীরা গণশুনানিতে আসতে শুরু করেন। বেলা ১১টার পর সেখানে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের ভিড় জমে যায়।
জেলা প্রশাসক একটি সরকারি কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করায় নির্ধারিত সময়ে গণশুনানিতে উপস্থিত হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে নানা ব্যস্ততার মধ্যেও বেলা ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি গণশুনানিতে উপস্থিত হয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের কথা শোনেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
গণশুনানিতে আসা মানুষের মধ্যে ছিলেন অসুস্থ রোগী, অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ভূমি সংক্রান্ত সমস্যায় ভুক্তভোগী, মাদ্রাসা-এতিমখানার সহায়তা প্রত্যাশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পটিয়ার আশিয়া গ্রামের মোছাম্মৎ দেলোয়ারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার স্বামী আবুল কালাম মাত্র তিন বছর বয়স ছেলে রেখে মারা যান। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে নানা কষ্ট ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ছেলেকে বড় করেছেন তিনি। বর্তমানে তার ছেলে একটি দোকানে চাকরি করলেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার পেটে আলসারজনিত সমস্যা রয়েছে। একই সঙ্গে দেলোয়ার নিজেও অসুস্থ। চিকিৎসা ও পরিবারের ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সংকটে পড়ে জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে সহায়তার আবেদন নিয়ে এসেছেন তিনি।
রাউজানের খামারটিলা এলাকার আবুল কালাম দীর্ঘ সাত বছর ধরে কিডনি ও হৃদরোগে ভুগছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি উপার্জন করতে পারছেন না। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই বলে জানান তিনি। তাই আর্থিক সহায়তার প্রত্যাশায় জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন নিয়ে এসেছেন।
অন্যদিকে পটিয়ার হাসান মাহমুদ অভিযোগ করেন, তার জায়গা-সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে অন্য একজন ভোগ করছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফাইল নিয়ে তিনি গণশুনানিতে উপস্থিত হন।
এছাড়া ভূমি সংক্রান্ত আরএস, বিএসসহ বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে আবেদন নিয়ে আসেন। বাঁশখালী থেকে হুজুর নুরুল আজম মাদ্রাসার এতিমখানার জন্য সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে উপস্থিত হন।
নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকা থেকে আসা এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির একটি পা নেই। তিনি আর্থিক সহায়তার আবেদন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আসেন এবং নিজের অসুস্থতা ও শারীরিক অক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আসেন।
এছাড়া এক নারী তার মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক সমস্যার অভিযোগ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে সহায়তা চান। এভাবে চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা, ভূমি বিরোধ, পারিবারিক সমস্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানার সহায়তাসহ নানা সমস্যা নিয়ে অসংখ্য মানুষ গণশুনানিতে উপস্থিত হন।
ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে উপস্থিত হওয়াকে স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। সময়ের স্বল্পতার কারণে তিনি সবার কথা শুনতে না পারলেও যাদের সমস্যা বিস্তারিতভাবে শোনা সম্ভব হয়নি, তাদের আগামী সপ্তাহের গণশুনানিতে সময় দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সরাসরি শুনে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ায় জেলা প্রশাসনের এই গণশুনানি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ব্যস্ততার মাঝেও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি ও অসহায় মানুষের কথা শোনার উদ্যোগকে মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।