1. adminbackup@wordpress.org : adminbackup :
  2. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  3. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  4. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মানুষের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির মুক্তি কোথায়? সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা আয়োজিত সাহিত্য আড্ডায় দীপক কুমার পালিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষকে মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হতে উৎসাহিত করে সার অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি ও পাচার রোধে ডিসিদের চিঠি বিসিআইসির পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন সেনাবাহিনী প্রধান ইপিজেডের নিরাপত্তায় পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার প্রত্যাশা, সভাপতি আশরাফ সম্পাদক ইমরান দীঘিনালা বন বিহারে ২ দিনব্যাপী ২৭তম কঠিন চীবর দান উৎসব দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী ইদ্রিস মুন্নার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার `গুলিতে’ আহত যুবদলকর্মীর মৃত্যু কক্সবাজারে ঢল নেমেছে পর্যটকদের, প্রশ্নের মুখে সার্বিক নিরাপত্তা রাউজানে প্রবাসীর পরিবারকে হত্যার পর লাশ গুমের হুমকির অভিযোগ

মানুষের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির মুক্তি কোথায়?

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ারবাজারের পতন শুধু টাকার ক্ষতি নয়, হাজারো পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার করুণ ইতিহাস
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেল। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা অনেক স্বপ্ন দেখেছি, অনেক সম্ভাবনার কথা শুনেছি। একটি সাজানো-গোছানো, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা করেছি। কিন্তু আজ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, মানুষের নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতন আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে।
আসলে দেশ কোন পথে এগোচ্ছে? আগামী দিনগুলোতে কী হতে যাচ্ছে? সাধারণ মানুষ আজ যেন কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না।
যে দেশে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, যে দেশে মানুষ তার উপার্জিত অর্থ ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে, সে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ কীভাবে তৈরি হবে? মানুষের মনে আস্থা ফিরিয়ে না এনে শেয়ারবাজারের পতন কীভাবে রোধ করা সম্ভব?
শেয়ারবাজার কেবল কিছু সংখ্যার ওঠানামা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের জীবনের সঞ্চয়, অবসরকালীন নিরাপত্তা, সন্তানের শিক্ষার স্বপ্ন, পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং একজন মানুষের সারাজীবনের পরিশ্রম।
আমি দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নিজের চোখে দেখেছি, কত মানুষ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়েছেন। কত পরিবার আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কত মানুষ মানসিক যন্ত্রণায় দিন কাটিয়েছেন। এমনকি বিনিয়োগের ক্ষতি ও অসহনীয় মানসিক চাপের মধ্যে কেউ কেউ স্ট্রোকসহ নানা শারীরিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন, প্রাণও হারিয়েছেন বলে আমরা শুনেছি। কিন্তু এই মানুষগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, তাঁদের পরিবারের দুর্দশা এবং তাঁদের মানবিক বিপর্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কি কখনো যথাযথভাবে করা হয়েছে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে আমার বিনীত প্রশ্ন—এই অসহায় বিনিয়োগকারীদের দায়িত্ব কে নেবে? তাঁদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের মূল্য কে দেবে? তাঁদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কার?
আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা জনগণের শাসক নই; আমরা জনগণের সেবক। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক মুক্তির পথ তৈরি করা।
আমরা সবাই বলি, সবার আগে দেশ। কিন্তু দেশকে ভালোবাসার অর্থ শুধু স্লোগান দেওয়া নয়; মানুষের জীবন, সম্পদ, অধিকার ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করার মধ্য দিয়েই দেশপ্রেমের প্রকৃত পরিচয় দিতে হয়।
আজ দেশের মানুষ জানতে চায়, অর্থনৈতিক মুক্তি কবে আসবে? বিনিয়োগকারীদের আস্থা কবে ফিরবে? শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কবে প্রতিষ্ঠিত হবে? যারা বাজারে অনিয়ম ও কারসাজির মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কবে?
আমি সরকারের কাছে বিনীতভাবে কয়েকটি দাবি জানাতে চাই—
১. শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হোক।
২. বাজারে কারসাজি, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও দায় নির্ধারণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৩. ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হোক।
৪. বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হোক।
৫. দেশের সার্বিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
মাননীয় সরকার, মনে রাখবেন—একটি দেশের অর্থনীতি শুধু বড় বড় প্রকল্প দিয়ে শক্তিশালী হয় না; সাধারণ মানুষের আস্থা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সুরক্ষার মধ্য দিয়েই অর্থনীতির প্রকৃত ভিত্তি গড়ে ওঠে।
আমরা আর কোনো স্বপ্নের অপমৃত্যু দেখতে চাই না। আমরা চাই না, একজন অবসরপ্রাপ্ত মানুষ তাঁর শেষ সম্বল হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ুন। কোনো বাবা-মা যেন সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার সঞ্চয় হারিয়ে দিশেহারা না হন। কোনো পরিবার যেন আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে জীবনের আশা হারিয়ে না ফেলে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও যদি আমরা মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে আমাদের উন্নয়নের সাফল্য সাধারণ মানুষের জীবনে কতটুকু পৌঁছেছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
দেশ বাঁচুক, মানুষ বাঁচুক, অর্থনীতি বাঁচুক। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনুন। মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিন।
এটাই আজ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এটাই সময়ের দাবি।— দীপক কুমার পালিত আহ্বায়ক বাংলাদেশ সংখ্যালঘু সম অধিকার, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla