আসাদুল ইসলাম
______
মায়ের অস্ত্রোপচারের সময় জরুরি রক্তের প্রয়োজন হয়েছিল সফটওয়্যার ডেভেলপার Abu Sayed md Zihad। রক্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, পরিচিতদের ফোনকলসহ নানা জায়গায় ছোটাছুটি করতে হয় তাকে। সেই কঠিন অভিজ্ঞতাই তাকে ভাবায়—প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি সহজে রক্তদাতা ও রক্তপ্রার্থীদের একে অপরের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে জরুরি সময়ে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সেই ভাবনা থেকেই যাত্রা শুরু ‘Blood BD’ নামের একটি বিনামূল্যের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের।
অ্যাপ ও ওয়েবসাইটভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মে রক্তের প্রয়োজন হলে রোগীর তথ্য, রক্তের গ্রুপ, প্রয়োজনীয় ইউনিট, হাসপাতালের নাম ও সময় উল্লেখ করে ‘Blood Request’ পোস্ট করা যায়। এমনকি ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কোনো তারিখে অস্ত্রোপচারের জন্য রক্ত প্রয়োজন হলেও আগাম আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো লোকেশনভিত্তিক ডোনার সার্চ। ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট এলাকা বা উপজেলা নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় রক্তের গ্রুপের কাছাকাছি ডোনার খুঁজে নিতে পারবেন। এরপর উপলব্ধ ডোনারের সঙ্গে ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।
ডোনারদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘Blood BD’-তে। কোনো ডোনার রক্তদানের পর অ্যাপে তারিখ যুক্ত করলে পরবর্তী চার মাস তার প্রোফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক থাকে। এতে ঘনঘন রক্তের অনুরোধ বা ফোনকলের কারণে ডোনারদের হয়রানি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তায় রয়েছে OTP ভেরিফিকেশন ব্যবস্থাও।
উদ্যোক্তাদের দাবি, ‘Blood BD’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত একটি অলাভজনক উদ্যোগ। রক্তদানের বিনিময়ে অর্থ লেনদেনকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে প্রযুক্তিগত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখার কথাও জানিয়েছেন জিহাদ।
রক্তদাতাদের জন্য প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে রক্তদানের যোগ্যতা সম্পর্কিত তথ্য, BMI ক্যালকুলেটর, ডায়েট চার্ট, ব্যায়ামের নির্দেশনা এবং জরুরি সেবার প্রয়োজনীয় নম্বর।
পরবর্তী তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের মধ্যে Muhammad Abul Foyez সফটওয়্যার ডেভেলপার। তিনি শুরু থেকেই উদ্যোগটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বিশেষ করে ব্যাকএন্ড ও প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্টে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত রয়েছেন বলে জানান জিহাদ।
রক্তসেবার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক আরও প্রযুক্তি প্রকল্প নিয়েও কাজ করছেন জিহাদ। এর মধ্যে ভ্রমণকে সহজ করার লক্ষ্যে ‘Arivoo’ এবং শিশুদের নিরাপত্তায় জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর ‘ChildSafe (KidGuard)’ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।
উদ্যোক্তা জিহাদের লক্ষ্য একটাই—প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন একটি রক্তসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যেখানে জরুরি মুহূর্তে রক্তের জন্য কাউকে অসহায় হয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছুটতে না হয়।