
নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন ধরে দূর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রামে পরিচিত হয়ে আসছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের আমল থেকে প্রতিষ্ঠানটি দূর্ণীতির আখরায় পরিনত হয়েছে। উপরের কর্মকর্তা থেকে নিচের পদের দারোয়ান পর্যন্ত কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চেয়ারম্যান ও সচিব পরিবর্তন হলেও অন্য কর্মকর্তারা রয়েছে বহাল তবিয়তে। তাই সিডিএর নীতিগতভাবে কোন পরিবর্তন আসেনি। সিডিএ’র একজন দারোয়ান যখন ৪০ লক্ষ টাকার জমি কিনেন তখন এই খবরে অনেকে হতবাক হয়ে যান।
জানা যায়, দারোয়ান থেকে সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত এলডিএ হারাধনের বিরুদ্ধে ৩০ লক্ষ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
কর্মচারী হারাধন গত এক দশকে চট্টগ্রাম শহরের আশেপাশে এবং তার নিজ গ্রামে নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছেন।
জানা যায়, নগরীর কাট্টলী এলাকায় ৩ কড়া জায়গার রেজিষ্ট্রী নিয়ে নির্ধারিত মূল্যের আট লক্ষ টাকা না দিয়ে বা বাকী রেখেই দখল নিতে যান হারাধন। জোরপূর্বক দখল করতে গেলে বিক্রেতা বাঁধা দেয়। এতে দুই পক্ষে শুরু হয় বাকবিতন্ডা। বিক্রেতার স্ত্রী ও মেয়েদের গায়ে হাত তুলে হারাধন ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা। হারাধনের বিরুদ্ধে উঠে আসে নারী নির্যাতনের অভিযোগও। এক পর্যায়ে জায়গা বিক্রেতা উপায় না পেয়ে আকবর শাহ থানায় অভিযোগ করেন। ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে সবাই অবাক হয়, সিডিএর একজন দারোয়ানের অর্থ ও প্রভাব দেখে। অবৈধভাবে দখল করতে যে সব গুন্ডা পান্ডাদের সে ব্যবহার করেছে, তাদের ভাড়া খরচও অনেক টাকা। সিডিএ’র একজন দারোয়ান হয়ে এত টাকা কোথায় পেল হারাধন। তা এখন লোকমুখে কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। সম্পত্তি ক্রয়ের বিষয়ে হারাধনকে প্রশ্ন করা হলে সে কাট্টলীতে জায়গা ক্রয় করেছেন মর্মে স্বীকার করে বলেন, নিজের স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে জায়গা কিনেছি। এখন জায়গার বিক্রেতা জায়গা না দিলে, টাকা ফেরত দিলে টাকা নিয়ে চলে যাবো।
অন্যদিকে বিক্রেতা বিপ্লব বলছে, হারাধন আমার থেকে জায়গা কিনেছে। কিন্তু চেকের আট লাখ আমার টাকা না দিয়ে সময়ের আগেই সন্ত্রাসীদের নিয়ে জায়গা দখল করতে চলে আসে। এতে আমি বাঁধা দিলে তারা আমার ঘরের জিনিসপত্র ফেলে দেয়। আমার স্ত্রী সন্তানের গায়ে পর্যন্ত হাত তুলেছে হারাধন ও তার লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডা বাহিনী। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রভাবশালীদের দিয়ে আমাকে এখনো হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আমার বাকী অর্থ না দিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জায়গা দখল করবে বলে ভয়ভীতি দেখায় উপায় না পেয়ে আমি হারাধন গংদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এ বিষয়ে হারাধন থেকে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে, তথ্য যেটা
পান দিয়ে দেন বলে ফোন কেটে দেন।