
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম নগরীর নতুন ফিশারীঘাট এলাকায় গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এক রহস্যজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনায় বাকলিয়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। একজন পেশাদার সাংবাদিককে না পেয়ে তার বিশ্বস্ত গাড়ি পাহারাদারের উপর মানসিক নির্যাতন, অশ্রাব্য গালিগালাজ এবং শেষ পর্যন্ত মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে। জানা যায়, সাংবাদিক এবাদুল হোসেন তার ব্যবহৃত গাড়িটি নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বস্ত পাহাড়াদার আলাউদ্দিনের কাছে পাহারার দায়িত্ব দিয়ে যান। দায়িত্বশীলতার সাথে আলাউদ্দিন সারারাত গাড়িটি পাহারা দিচ্ছিলেন। তবে রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সিভিল পোশাকে বাকলিয়া থানার এএসআই জমিরসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে হঠাৎ করেই আলাউদ্দিনকে ঘিরে ফেলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। “সাংবাদিক কোথায়?” — এমন প্রশ্নের জবাবে আলাউদ্দিন সাংবাদিকের অবস্থান দেখিয়ে দিলেও সেখানে গিয়ে সাংবাদিককে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
এরপর শুরু হয় এক ধরনের মানসিক নির্যাতন। অভিযোগ রয়েছে, এএসআই জমিরের সঙ্গে থাকা কথিত সোর্স স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সাদেকুজ্জামান আলো, মিনহাজ এবং আরও কয়েকজন মিলে আলাউদ্দিনকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে সাংবাদিককে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এএসআই জমির আলাউদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেন এবং তার পকেটে থাকা প্রায় ৪ হাজার টাকা নিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলেন, “সাংবাদিককে বলিস, তোর মোবাইল নিয়ে যেতে।”
পরবর্তীতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই জমির মোবাইল নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও গালাগালির অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে থাকা সাদেকুজ্জামান আলো জানান, তারা একটি অভিযানে ছিলেন এবং “কুত্তা ফারুক” নামের এক ব্যক্তিকে ধরতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফেরার পথে ওই স্থানে দাঁড়ান। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি নিজেই আলাউদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, “সাংবাদিক শোনার পরেও এরকম আচরণ করবে, আপাতত বিশ্বাস হয় না। আমি বিষয়টা জিজ্ঞেস করে দেখি। তবে প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে — আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য কি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন? একজন সাংবাদিককে না পেয়ে তার বিশ্বস্ত পাহারাদারকে টার্গেট করে এমন আচরণ কি আইনের শাসনের পরিপন্থী নয়?
সচেতন মহলের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ও অনাস্থা বাড়াবে।