1. banglapostbd@gmail.com : admin :
  2. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
  3. admin@purbobangla.net : purbabangla :
কর্ণফুলীতে চোরাই জ্বালানি তেলের ভয়ংকর সিন্ডিকেট মূল নেপথ্যে ‘তেল শুক্কুর’ - পূর্ব বাংলা
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কর্ণফুলীতে চোরাই জ্বালানি তেলের ভয়ংকর সিন্ডিকেট মূল নেপথ্যে ‘তেল শুক্কুর’  ২ জাহাজে আয় ৫০ কোটি, বিএসসি আরও ৪টি জাহাজ কিনবে বিশ্বনাথের ছিনতাই চুরি-ডাকাতি ও মাদক বন্ধে সর্বমহলের সহযোগিতা চাইলেন ওসি বেনাপোল স্থলবন্দরে ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিক শাহাজানের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য জব্দ, প্রায় কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের মানববন্ধন   ২০ লিটার চোলাই মদসহ ১ মাদক ব্যবসায়ী আটক লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং কর্ণফুলী এলিট’র ঈদ পুনর্মিলনী ও নিয়মিত সভা    ১৫ কেজি গাজা সহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে আকবর শাহ থানা পুলিশ  হাটহাজারীতে প্রবাসীর ঘরের দেয়ালে ফুটোঃ থানায় অভিযোগ

কর্ণফুলীতে চোরাই জ্বালানি তেলের ভয়ংকর সিন্ডিকেট মূল নেপথ্যে ‘তেল শুক্কুর’

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ার মধ্যে দেশে যখন সরকার কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে, তখনো কর্ণফুলী এলাকায় গড়ে উঠেছে চোরাই জ্বালানি তেলের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা আব্দুর শুক্কুর, যিনি ‘তেল শুক্কুর’ নামেই সমধিক পরিচিত।

আমাদের  অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিপিসি’র অধীন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপো থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দরে আগত দেশি-বিদেশি জাহাজ সবখান থেকেই কৌশলে তেল সংগ্রহ করছে এই চক্রটি।
আইন অনুযায়ী ব্যক্তি পর্যায়ে জ্বালানি তেল আমদানি বা বাজারজাতের সুযোগ না থাকলেও অভিযোগ রয়েছে ওই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে তেল সংগ্রহ ও বিক্রি করে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্দরে নোঙর করা অনেক জাহাজ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করে। এই অতিরিক্ত তেল কম দামে গোপনে বিক্রি করা হয় স্থানীয় সিন্ডিকেটের কাছে।
কোনো শুল্ক বা সরকারি প্রক্রিয়া ছাড়াই এসব তেল বাজারে প্রবেশ করায় সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি কম দামে বিক্রির কারণে বৈধ বাজার ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।‘
স্থানীয়দের দাবি, দুই দশক আগে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করা আব্দুর শুক্কুর বর্তমানে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক। কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে তার বিলাসবহুল বাড়ি ও প্রভাবশালীদের সাথে গভীর যোগাযোগ থাকার কারণে তেল পাচার ও মজুদে তার কোন অসুবিধা হয় না।
খবর পাওয়া গেছে, তার নেতৃত্বাধীন গ্রুপে অন্তত ১৭ জন চিহ্নিত অপরাধী সক্রিয় রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে তেল চোরাচালান, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার একাধিক মামলাও রয়েছে।

এদের মধ্যে রয়েছে-রফিক, নাছির, আলী, বেলাল, নুরুচ্ছফা, জাফর, জিয়া, জসিম, মহিউদ্দিন, তৈয়ব, হোসেন, হারুন, খোরশেদ, আনছার, আমির, কাদের ও ইউসুফ। স্থানীয়রা জানান, দুই দশক আগে শুক্কুর ছিলেন শ্রমিক। এখন তিনি শতকোটি টাকার মালিক। কর্ণফুলীর জুলধা ইউনিয়নে তার আছে বিশাল বাড়ি। তার বিরুদ্ধে তেল চোরাচালানের অভিযোগে দেড় ডজনের বেশি মামলা হয়েছে। পতেঙ্গা গুপ্তখাল ডিপোসহ বঙ্গোপসাগরের চোরাই তেলের একক নিয়ন্ত্রক এই তেল শুক্কুর। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যের কারণে সব সময়ই ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এখনো ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতার ছত্রছায়ায় কর্ণফুলীতে চোরাই তেলের সাম্রাজ্য ধরে রেখেছেন। আগে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এখন হয়েছেন বিএনপির পৃষ্টপোষক।

প্রতিদিন কর্ণফুলীতে প্রায় ৫০ হাজার লিটার চোরাই তেল বেচাকেনা হয়। এসব তেলের মূল বিক্রেতা বিদেশি জাহাজ, দেশি কার্গো ভেসেল, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার জাহাজ, ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিশিং ট্রলার ও নৌকা। তেল চোর চক্রের সদস্যরা জাহাজ থেকে প্রতি লিটার তেল ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় কেনে। পরে সেই তেল পাইকারদের কাছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজার পর চট্টগ্রামে তেলের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। এর ফলে সম্প্রতি এই তেল চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জাহাজ থেকে চোরাই তেল কেনার পর তা কর্ণফুলী নদীর কমপক্ষে ১৫ পয়েন্টে খালাস হয়।এর মধ্যে ১৫ নম্বর মেরিন একাডেমি ঘাট, ১৪ নম্বর কালুমাঝির ঘাট, ১৩ নম্বর ঘাট, ১২ নম্বর টেইগ্যার ঘাট, ১১ নম্বর মাতব্বর ঘাট, বাংলাবাজার ঘাট, অভয় মিত্র ঘাট, সদরঘাট ও ফিশারিঘাট অন্যতম। কর্ণফুলীতে তেল চোরচক্রে রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাসহ কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তি।

জানা গেছে,  বিভিন্ন থানায় শুক্কুরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিডির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি, হামলা, হুমকি ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগও। এমনকি পারিবারিক বিরোধ নিয়েও থানায় অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের মতে, সিন্ডিকেটটি এতটাই শক্তিশালী যে বৈধ ঠিকাদারদের অনেক ক্ষেত্রেই কাজ করতে দেয়া হয় না। জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেরাই তেল খালাস ও পরিবহন করে।
পতেঙ্গা এলাকা থেকে শুরু করে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত এই নেটওয়ার্ক কার্যত একটি সমান্তরাল জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার লিটার তেল হাত বদল হচ্ছে। জাহাজ থেকে প্রতি লিটার ৫০–৫৫ টাকায় সংগ্রহ করে তা ৬০–৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই অবৈধ সিন্ডিকেট দেশের জ্বালানি খাতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla