অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমীপে,
শ্রদ্ধেয় খসরু ভাইজানরে ,
গরম গরম কথার শুরুতে আমার লাখ কোটি সালাম জানিবেন। আশা করি, আল্লাহ মালিকের অপার মহিমায় ভালো থাকিয়া নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নানান ফর্মূলা তৈরী ও বাস্তবায়ন করিয়া ভালোই আছেন। আমিও গ্রাম বাংলার এক মফস্বল শহরে থাকিয়া দেশের ভবিষ্যতের কথা ভাবিয়া ভাবিয়াই নানান রকম চিন্তা করিয়া ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্ছার মতো খাইয়া না খাইয়া বাঁচিয়া আছি।
গেলবার সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সমীপে গরম কথা লিখিবার সময় এইবার আপনার সমীপে লিখিব বলিয়াছিলাম বলিয়াই আপনাকে লিখিতেছি বলিয়া রাগ করিবেন না বরং শত ব্যস্ততার মধ্যেও গরম কথাটুকু পড়িয়া দেখিবেন ও যাহা প্রয়োজন তাহা করিবেন আর ভুল হইলে নিজ গুনে মাফও করিয়া দিবেন।
ভাইজানরে,
আপনি হইলেন, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও এইদেশের বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। বর্তমানে আপনি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘স্থায়ী কমিটি’র সদস্য ও এই সরকারের অতি গুরুত্ব পূর্ণ ব্যাক্তি । আপনি চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও দক্ষিণ এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতিও ছিলেন। এ ছাড়া আপনি দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল, সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করিয়াছিলেন। দেশ জুড়িয়া ‘ক্লীন ম্যান’ হিসাবে আপনার খ্যাতি রহিয়াছে। যাক, সেই সব কথা।
ভাইজানরে,
আপনার মরহুম পিতা মাহমুদুন্নবী চৌধুরীও মন্ত্রী ছিলেন। আপনিও আগেও মন্ত্রী ছিলেন ও এখনো মন্ত্রী । মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী এমন ভাগ্য চট্টগ্রামে কয়জনেরই বা আছে ? ফজলুল কাদের চৌধুরীর ছেলে সালা উদ্দিন কাদের চৌধুরী সেই যোগ্যতায় আসীন হইলেও বাপ বেটার শেষ সময়টুকু ছিল করুণ ও অতি ভয়াবহ। যাহা গোটা দেশবাসী জানে। পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পীকার ছিলেন ফজলুল কাদের চৌধুরী।আপনার পিতা আলহাজ্ব মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের আইন পরিষদ নির্বাচনে ডবলমুরিং-সীতাকুন্ড আসন থেকে জয়লাভ করিয়া এবং যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করিলে তিনি প্রথমে গণযোগাযোগ মন্ত্রী ও পরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব লাভ করিয়াছিলেন।
একই আসন থেকে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন আপনি। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবদুল লতিফের কাছে আপনি পরাজিত হন। তিনি এখন ফ্যাসিষ্ট সরকারের লোক হিসাবে কারাগারে দিন যাপন করিতেছে। ফ্যাসিষ্ট সরকার বিরোধী আন্দোলনে বাঘা বাঘা বিএনপি নেতাদের মধ্যে মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আপনিও আটক হইয়াছিলেন। ছিলেন কারাগারেও।
ভাইজানরে,
পতেঙ্গায় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাতা ও অতি দ্রুত ফ্যামিলী কার্ড প্রদান করিবার কারণে আপনার নির্বাচনী এলাকার লোকজন খুশীতে ফুরফুর মেজাজে আছে। লোকেরা আপনার প্রশংসা করিতেছে। শহরের অতি গুরুত্ব এলাকা হইলো আপনার নির্বাচনী অঞ্চল।এখানকার তরমুজ গোটা বাংলাদেশে বিখ্যাত ছিল। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে আইন – শৃংখলা উন্নত করা দরকার বলে আপনার শশুভাকাঙ্কীরা বলিতেছে।







