
নজরুল ইসলাম
ভূমিকা : শিক্ষকতা পেশায় আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় চাকরি থেকে অবসরের পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গেজেটে প্রকাশিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নীতিমালা অনুযায়ী একটি বেসরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে A Guest teacher হিসেবে স্কুল অ্যান্ড কলেজের তহবিল থেকে সম্মানীতে নিয়োজিত হই। নিয়োজিত হয়ে গত ০৯ জুন,২০২৬ তারিখে শিক্ষার্থীদের ৬ষ্ট ও ৭ম শ্রেণির পাঠদানকালে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যপুস্তকে নিম্নবর্ণিত বৈষম্য দেখা যায়।
চীনের জনসংখ্যা ও আয়তনের বৈষম্য : চীন পূর্ব – এশিয়ার একটি অন্যতম দেশ। আয়তনের দিক থেকে চীন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। এর রাষ্টীয় নাম গণপ্রজাতন্ত্রী চীন, আর স্থানীয় নাম ঝুংঘু। দেশটির রাজধানীর নাম বেইজিং।
৬ষ্ট শ্রেণি: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৬ষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যপুস্তকের ৫ম অধ্যায়ের বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের নাগরিক শিরোনাম উল্লিখিত ৩৪ পৃষ্ঠার শেষাংশে একটি রাষ্ট্র গঠনের ৪টি উপাদানের মধ্যে রাষ্ট্রের জনসমষ্টি বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে আমি শিক্ষার্থীদের পড়াতে গিয়ে দেখা যায়, চীনের জনসংখ্যা ১৪১কোটি ৭ লক্ষ ১০ হাজার এবং ৩৫ পৃষ্ঠায় চীনের ভূখণ্ডের আয়তন দেখানো হয়েছে প্রায় ৯৫,৯৬, ৯৬০ বর্গকিলোমিটার।
৭ম শ্রেণি : অন্যদিকে ২০২৬ সালের ৭ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যপুস্তকের ১০ম অধ্যায়ের এশিয়ার কয়েকটি দেশ শিরোনাম উল্লিখিত ৯৫ পৃষ্ঠায় চীন সম্পর্কিত আলোচনায় উক্ত পাঠ্যপুস্তকে চীনের জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৪২ কোটি ৫২ লক্ষ জন। তাছাড়া উক্ত দেশটির আয়তন দেখানো হয়েছে ৯৫ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৯ বর্গকিলোমিটার।
বৈষম্য : উল্লেখ্য, একই বছরের ছাপানো ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে একই চেয়ারম্যানের অধীনে চীনের জনসংখ্যা ও আয়তনের বৈষম্য বোধগম্য নয়। এছাড়া চীন ভিন্ন দেশ হলেও বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য যা সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে তার জন্য বাংলাদেশের জনগণ চীন সরকার বা রাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু এরকম একটি বন্ধু রাষ্ট্রের জনসংখ্যা ও আয়তন ৬ষ্ট ও ৭ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যপুস্তকে দু’শ্রেণির বইয়ে ভিন্নতা দেখা যাওয়া দৃষ্টি কঠোর মনে হয়। তাই আমি শিক্ষার্থীদের ভুল শিক্ষা না দিয়ে এ বিষয়ে জনগণকে শুধু আমার চোখে ধরা পড়া বিষয়টি অবহিত করলাম। প্রয়োজনে আমার উপস্থাপিত তথ্যগুলো যাচাই করে আপনাদের মতামত জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। এছাড়া উক্ত বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলের নজরে আনা ও যাচাইঅন্তে আগামী বছরের জন্য পাঠ্যপুস্তক ছাপানোকালীন সংশোধনের যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হলো।