1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
রাবিপ্রবির পিডি গফুরের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ - পূর্ব বাংলা
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

রাবিপ্রবির পিডি গফুরের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

 

* একদিনের সাইট ভিজিটের বিল ৭৫ হাজার টাকা

*  একটি টেবিলের দাম ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা

*  নামমাত্র কাজ করে ৩৯ লাখ টাকা বিল উত্তোলনের অভিযোগ

এস এম পিন্টু:

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উন্নয়ন কাজে ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। একদিনের সাইট ভিজিটের জন্য ৭৪,৫৯৯ টাকা খরচ, ৮০ হাজার টাকা দামের টেবিলকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও সামান্য কাজ করেই ৩৯ লাখ টাকা বিল বিল উত্তোলনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া, টেন্ডার প্রক্রিয়া, ঘুষ লেনদেন, বিল-ভাউচার, সরকারি অর্থ ডাবল ক্লেইম করা, প্রকল্প পরিচালনায় অজ্ঞতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার, কোটি টাকা খরচ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করাসহ পাহাড়ের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য রয়েছে।

জানা যায়, নেইম প্লেট ও গেইট নির্মাণ কাজটি শুরু করার পূর্বেই ২০২৫ সালের ২৪ জুন প্রকৌশলীদের স্বাক্ষর ছাড়াই ৩৯ লক্ষ টাকা তুলে নেন। টেন্ডারের সঠিক প্রক্রিয়া না মেনে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে  ৮০ হাজার টাকা দামের ৪টি টেবিল কিনেছেন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা করে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কাজ করতে এবং বিল তুলতেও মোটা অংকের কমিশন আদায় করার অভিযোগ আছে, কমিশন না দিলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ঠিকাদারদের। ফলে অনেকেই কমিশন দিতে বাধ্য হতেন যার দরুণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হতো। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা জানান, ৪টি ভবন তৈরী করতে শিক্ষা প্রকৌশল তদারকিতে থাকলেও প্রকল্প পরিচালক হওয়ার সুবাদে শিক্ষা প্রকৌশলের মাধ্যমে ঠিকাদারদের সাথে লেনদেন এবং বিল দেওয়ার ক্ষেত্রেও লেনদেন করেছেন তিনি। কনসালট্যান্সি ফার্ম শেলটেক প্রাইভেট লি. এর সাথেও রয়েছে অবৈধ লেনদেন।

জানা যায়, ট্রেনিং কিংবা মিটিংয়ের কাজে ঢাকা যাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ করে কর্মচারীদের নামে অগ্রিম টাকা উত্তোলন করে পরবর্তীতে প্রত্যার্পন নেওয়া ছাড়াও ডিএ ও নিতেন তিনি। একটি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের একদিনের ট্রেনিং এর জন্য ২৫ হাজার টাকা অগ্রীম উত্তোলন করা হয়েছে, পরবর্তীতে ১১ নভেম্বর প্রত্যার্পন নেওয়া হয়েছে।  একইসাথে তিনি ডিএ ও উত্তোলন করেছেন। আরেকটি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়,একজনের নামে অগ্রিম নেওয়া হয়েছে কিন্তু যার নামে নেওয়া হয়েছে নথিতে তাঁর স্বাক্ষর নেই এবং একই কাজে আবদুল গফুর নিজের নামেও বড় অংকের টাকা প্রত্যার্পণ তুলেছেন সেই সাথে ট্রেনিং এ যাওয়ার ক্ষেত্রেও নিয়েছেন ডিএ। ভ্রমণ কিংবা ট্রেনিং এ যাওয়ার ক্ষেত্রে এমন অগ্রিম নেওয়ার বিধান নেই বলে জানা যায়। ঢাকায় যতবার মিটিং কিংবা গমন করেছেন ব্যাক্তিগত কাজে হলেও নিয়েছেন অগ্রিম এবং ডিএ। অগ্রিম নেওয়ার মাধ্যমে ভূয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। একইসাথে কর্মচারীদের নামে অগ্রিম নেওয়ার বিধান সরকারি চাকুরী নীতিমালায় না থাকলেও কর্মচারীকে দিয়ে জোরপূর্বক অগ্রিম নিয়ে নিজের পকেট ভারী করতেন তিনি।

প্রকল্প পরিচালক হওয়ার যোগ্যতা না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক করা হয় আব্দুল গফুরকে। প্রকল্প পরিচালনায় অজ্ঞতার দরুন প্রকল্পের কাজ শুরু করার পূর্বে এনভায়রনমেন্টাল ইমপেক্ট এ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) রিপোর্ট এবং পরিবেশ অধিদপ্তর হতে পাহাড় কাঁটার অনুমোদন না নিয়ে ভবন তৈরীর কাজ শুরু করে এবং প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পাহাড় কাঁটায় পরিবেশ অধিদপ্তর হতে মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।

৭ জানুয়ারি, ২০২৬ শৃঙ্খলা বিরোধী কাজের সংশ্লিষ্ট থাকায় সাময়িক বহিষ্কার হওয়ার পর অর্থ খরচের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার সহ বিএনপি নেতাদের ব্যবহার করে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছেন গফুর।

কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান শেলটেক প্রাইভেট লিমিটেড কাজ পরিদর্শনে আসলে ১ দিনের কাজ পরিদর্শনে আবদুল গফুর ভ্যাট ট্যাক্স বাদেও নিজ নামে বিল করেন ৭৪,৫৯৯ টাকা। যেখানে তিনি অদ্ভুত সব খাত দেখিয়ে বোট ভাড়া,গাড়ি ভাড়া,স্টেশনারী,দুপুরের খাবার সহ নানাবিধ ভুয়া খরচ দেখিয়ে নিজের পকেট ভারী করেন।কনসালটেন্ট নিয়মিত কাজ তদারকি করার কথা থাকলেও প্রকল্প পরিচালকের সাথে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে মাসে দুই মাসে একবার আসেন তাঁরা। কনসালটেন্টের আগমন উপলক্ষে প্রতিবারই লাখ লাখ টাকার খরচ দেখিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা, কর্মচারীর নামে নিয়ে পকেট ভারী করতেন পিডি আব্দুল গফুর।

মাষ্টারপ্ল্যান ফাইলে দেখা গেছে  প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরের নামে  ১৯ ,৬৮,৫২২ টাকামার্শাল চাকমা নামের প্রজেক্টের একজন কর্মচারীর নামে ১৪,০৭,৩২৮ টাকা, নিশান চাকমা নামে একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার টাইপিস্টের নামে ১২,০৯,০০০ টাকা, আবদুল হক সেকশন অফিসারের নামে ৪,৯৯,৫৫০ টাকা, মনজুরুল ইসলামের নামে অগ্রিম নিয়ে খরচ করেন:১৭,৩৭,৫৬৮ টাকাসহ অনের নামে স্বাক্ষর ছাড়া টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

এবিষয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান বলেন, ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ আছে আব্দুল গফুরের বিরুদ্ধে। অনিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিলেও আদালত তার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের বহিস্কৃত পিডি মো. আব্দুল গফুরের মোবাইলে কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla