1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যেন এক মরণফাঁদ: যাত্রী সাধারণের চরম উদ্বেগ - পূর্ব বাংলা
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: অন্তত ৫ বাংলাদেশি আহত, ৩ জন আশঙ্কাজনক বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে ২ শিশুসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধার ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের আত্মপ্রকাশ-আহ্বায়ক শফিক রেহমান যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যেন এক মরণফাঁদ: যাত্রী সাধারণের চরম উদ্বেগ বোয়ালখালীতে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, থানায় জিডি ময়মনসিংহে পিকআপ-সিএনজি সংঘর্ষে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের চট্টগ্রামে বাস-লেগুনার সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ রাঙামাটিতে বজ্রপাতে ঘুমন্ত শিশুর মৃত্যু, আহত পরিবারের আরও ৫ সদস্য চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে প্রধান ঈদ জামাত সকাল ৭টায় ছুটিতেও বন্দরে তিন টাস্কফোর্স, কাস্টমসে ১০ টিম

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যেন এক মরণফাঁদ: যাত্রী সাধারণের চরম উদ্বেগ

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের যোগাযোগের একমাত্র ধমনী ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক’। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যস্ততম সড়কটি সাধারণ যাত্রী ও চালকদের কাছে এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাগাতার সড়ক দুর্ঘটনা, নির্বিচার প্রাণহানি এবং পঙ্গুত্ব বরণের মিছিল এই মহাসড়ককে পরিণত করেছে এক মৃত্যুফাঁদে। লোহাগাড়ার চুনতি, কর্ণফুলীর শিকলবাহা কিংবা পটিয়ার ভেল্লাপাড়া—মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় প্রতিদিনই ঝরছে তাজা প্রাণ, যা যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এক পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অতি সম্প্রতি ঈদের রাতেও কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা (ভেল্লাপাড়া) এলাকায় ‘ঈগল পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটি বেপরোয়া গতিতে ভুল লেনে (ডৎড়হম ঝরফব) চলার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মে মাসের শুরুর দিকে লোহাগাড়ার চুনতি বনপুকুর এলাকায় দুটি ‘মারছা পরিবহন’-এর বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিজিবি সদস্যসহ ৪ জন নিহত এবং ১৫ জন গুরুতর আহত হন।
এর আগেও চুনতি এলাকায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি পৃথক দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ কোরবানি ঈদের ৩ দিন পর বাঁশখালী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ২ জন। এতে উওেজিত জনতা বাসটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কটিতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও এর  স্থায়ী কোনো প্রতিকার মিলছে না। ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল ও দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহঃ অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবিন্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল এবং দুর্ঘটনার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উঠে এসেছে বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং প্রতিযোগিতা: দূরপাল্লার বাস (বিশেষ করে মারছা, ঈগল, সৌদিয়া ইত্যাদি) এবং পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক ওভারটেকিং এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা সবচেয়ে বড় কারণ। লবণবাহী ট্রাকের কারণে ‘পিচ্ছিল রাস্তা’: টেকনাফ, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়া থেকে শত শত ট্রাকে করে অপরিশোধিত লবণ পরিবহনের সময় পলিথিন বা ত্রিপল ব্যবহার না করায় লবণাক্ত পানি সরাসরি মহাসড়কের পিচ ঢালা রাস্তায় পড়ে। এই পানির কারণে সড়ক মারাত্মক পি”িছল হয়ে পড়ে, যার ফলে ব্রেক চাপলেই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় বা মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ফিটনেসবিহীন থ্রি-হুইলারের দাপট: উ”চগতির এই মহাসড়কে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে লেগুনা, মাহিন্দ্রা, সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো ধীরগতির ও কম ক্ষমতাসম্পন্ন থ্রি-হুইলার। এগুলো প্রায়শই দূরপাল্লার বাসের মুখোমুখি চলে আসে। ভুল লেনে গাড়ি চালানো: জ্যাম এড়াতে বা দ্রুত যাওয়ার তাড়ায় অনেক চালক আইন অমান্য করে মহাসড়কের ভুল লেনে (রং সাইড) গাড়ি ঢুকিয়ে দেয়, যা আকস্মিক মুখোমুখি সংঘর্ষের সৃষ্টি করে। সরু সড়ক ও তীব্র বাঁক: চার লেনের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় এবং মহাসড়কের বিভিন্ন  স্থানে বিপজ্জনক বাঁক থাকায় দ্রুতগামী যানবাহনগুলো প্রায়শই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এছাড়া এই মহাসড়কের উপর প্রচুর হাটবাজার রয়েছে। এতে ও দূর্ঘটনা সংগঠিত হচ্ছে। যাত্রী সাধারণ ও   স্থানীয়দের চরম উদ্বেগঃ এই ধারাবাহিক মৃত্যুর মিছিলে সাধারণ যাত্রীদের মনে তীব্র আতঙ্ক দানা বেঁধেছে। কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের নিয়মিত যাতায়াতকারী চাকুরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখন এই সড়কে যাতায়াত করা মানে জীবন বাজি রাখা। “ঘর থেকে বের হলে সুস্থভাবে ফিরতে পারব কি না, সেই গ্যারান্টি নেই। বাসের চালকরা যেভাবে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়, মনে হয় আমরা কোনো মরণখেলায় অংশ নিয়েছি। হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি আরও কঠোর হওয়া উচিত।”

মন্তব্য, একজন নিয়মিত যাত্রী, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুট। দুর্ঘটনার পর  স্থানীয় উত্তেজিত জনতা অনেক সময় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানালেও কিছুদিন পর পরি¯ি’তি আবার আগের মতোই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
টেকসই সমাধানের উপায় ও সুপারিশঃ বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, এই মহাসড়ককে নিরাপদ করতে হলে কেবল অভিযান নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ: লবণ পরিবহনে কঠোর আইন প্রয়োগ: ট্রাকে লবণ পরিবহনের সময় শতভাগ পানি নিরোধক ত্রিপল ও পলিথিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং নিয়ম অমান্যকারী ট্রাককে ভারী জরিমানার আওতায় আনতে হবে। গতির ওপর নিয়ন্ত্রণ: মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্পিড গান ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গতি পর্যবেক্ষণ করে বেপরোয়া চালকদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। থ্রি-হুইলার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ: মহাসড়কে লেগুনা, অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রার মতো ধীরগতির যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে এবং এদের জন্য বিকল্প ফিডার রোডের ব্যবস্থা করতে হবে। হাইওয়ে পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারি: হাইওয়ে পুলিশের টহল এবং ল্যান্ড ডিসিপ্লিন (লেন মেনে চলা) নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। মহাসড়কের উপর থেকে হাট বাজার উচ্ছেদ করতে হবে।
মহাসড়কের চার লেনে দ্রুত রূপান্তর: যানজট ও ওভারটেকিংয়ের ঝুঁকি কমাতে পুরো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শেষ করতে হবে।
উপসংহার: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রতিটি বাঁক আর কিলোমিটার যেন এখন রক্তে রঞ্জিত। পর্যটন ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিকে এভাবে “মৃত্যুফাঁদ” হয়ে থাকতে দেওয়া যায় না। যাত্রী সাধারণের উদ্বেগ দূর করতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, হাইওয়ে পুলিশ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জরুরী ভিওিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জনস্বার্থে দাবী জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla