বাংলাদেশের সমুদ্র ও নৌবন্দরের শিপিং কার্যক্রমে প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে নতুন ‘শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এনবিআর সূত্র জানায়, এর আগে শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স প্রদানের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বিধিমালা বা আইন না থাকায় লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। কাস্টমস এজেন্টস লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২০ মোতাবেক শিপিং এজেন্টস লাইসেন্স ইস্যু করা হতো। শিপিং এজেন্ট সংক্রান্ত কার্যাবলী পরিচালনা সহজতর ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।
এতদিন কাস্টমস স্টেশনভিত্তিক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সের সংখ্যা নির্ধারিত ছিল এবং তা এনবিআর সদর দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হতো। নতুন বিধিমালায় সেই সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কাস্টমস লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী কম সময়ে লাইসেন্স ইস্যু করতে পারবে। আগে লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীকে কাস্টমস এইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হতো। নতুন বিধিমালায় এসব প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। এখন আবেদনকারীর দাখিল করা কাগজপত্র যাচাই করেই সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে লাইসেন্স দেওয়া হবে।
আগে একটি কাস্টমস স্টেশন থেকে ইস্যুকৃত শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স শুধু সেই স্টেশন বা নির্দিষ্ট বন্দরেই কার্যকর ছিল। এখন নতুন বিধিমালার আওতায় লাইসেন্সধারী শিপিং এজেন্টরা বাংলাদেশের যেকোনো
সমুদ্র বা নৌবন্দরে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। এনবিআর আশা করছে, এই নতুন বিধিমালার ফলে শিপিং ও আমদানি-রপ্তানি খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি বন্দর ব্যবস্থাপনায় প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং সেবার মান উন্নত হবে।