আসাদুল ইসলাম
চট্টগ্রামে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে হারানো ১০৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে উদ্ধার করা ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম। তবে মোবাইল ফোন উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থানায় করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) প্রত্যাহার না করায় পরবর্তী সময়ে তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জেলা পুলিশের উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানায় মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় করা জিডি পর্যালোচনা করে এসব ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপারের কার্যালয়, নাসিরাবাদ, চট্টগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা ফোনগুলো মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফোন ফিরে পেয়ে আনন্দিত মালিকেরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মধ্যে এমন একজন নারীও রয়েছেন, যিনি প্রায় দুই বছর আগে চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট মোড়ে তাঁর মোবাইল ফোন হারিয়েছিলেন। তাঁর বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলায়। দীর্ঘ সময় পর শখের ফোনটি ফিরে পেয়ে তিনি আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার শখের মোবাইলটি এত দিন পর হাতে পাব, তা কল্পনাও করতে পারিনি।’
জিডি প্রত্যাহার না করায় বাড়ছে কাজের চাপ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কেউ মোবাইল ফোন হারালে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সেই জিডির তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে ফোন উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে ফোন উদ্ধারের পর অনেক মালিক থানায় গিয়ে তাঁদের জিডি প্রত্যাহার করেন না বা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন না। ফলে সংশ্লিষ্ট জিডির নথি থানায় থেকে যায়।
পরবর্তী সময়ে নতুন করে হারানো মোবাইল উদ্ধারের কার্যক্রম পরিচালনার সময় আগের জিডিগুলোও পর্যালোচনা করতে হয়। এতে তদন্তের পরিধি বাড়ে, সময় ব্যয় হয় এবং কাজের ক্ষেত্রে বাড়তি জটিলতা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেলে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করে জিডি প্রত্যাহারসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এতে পুলিশের নথি হালনাগাদ থাকবে এবং নতুন অভিযোগ নিয়ে কাজ করা সহজ হবে।
ফোন কিনেছেন, আতঙ্কিত না হয়ে পুলিশের সহযোগিতা করুন
চোরাই মোবাইল ফোন অনেক সময় প্রকৃত ঘটনা না জেনেই অন্য কেউ কিনে ব্যবহার করতে পারেন। এ ধরনের ফোনের সন্ধানে পুলিশ যোগাযোগ করলে কেউ কেউ আতঙ্কিত হয়ে ফোন বন্ধ করে দেন বা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে যান। এতে ফোনের অবস্থান শনাক্ত করা এবং উদ্ধার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে নাগরিকদের প্রতি পুলিশের আহ্বান, কেউ অজান্তে এমন ফোন কিনে থাকলে আতঙ্কিত না হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করুন। পুলিশ যোগাযোগ করলে ফোনের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিন এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করুন। অজান্তে ফোন কেনার ঘটনা থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি; তবে ফোনের মালিকানা ও ক্রয়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনি বিষয় নির্ধারিত হবে।
আগেও উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২০০ ফোন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের ১০৭টি ফোন উদ্ধারের আগে আরও দুই ধাপে প্রায় ২০০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছিল। ধারাবাহিক এসব উদ্যোগের মাধ্যমে হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবার পরিধিও বাড়ছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হারানো সম্পদ উদ্ধার এবং অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নাগরিকেরা মোবাইল ফোন উদ্ধারের পর জিডি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলে পুলিশের তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।