1. adminbackup@wordpress.org : adminbackup :
  2. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  3. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  4. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল নেতা শাহিনকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে অভিযোগ

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

 

ভিজিটিং কার্ডে পদবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক, রাজনৈতিক ত্যাগের স্বীকৃতি দাবি শাহিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল নেতা এমডি আকতার হোসেন শাহিনকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা ও অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহসভাপতি পদবি সংবলিত তাঁর একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের নেতাদের বক্তব্যের পাশাপাশি শাহিনের রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত কর্মকাণ্ড ও দলীয় অবদান নিয়েও আলোচনা চলছে।

শাহিনের সমর্থকদের দাবি, তিনি দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৭ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে একাধিক মামলা, হামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তাঁরা তাঁকে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবেও উল্লেখ করেন।

শাহিনের সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তাঁকে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহসভাপতি উল্লেখ করে তাঁর ছবি সংবলিত একটি ভিজিটিং কার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর শাহিন নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বক্তব্য দিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ এক বিবৃতিতে সংগঠনের নাম ও পরিচয় ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদল ‘যুব-ঐক্য-প্রগতি’ মূলমন্ত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের আদর্শে পরিচালিত একটি সংগঠন। সংগঠনের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ ছাড়া যুবদলের নাম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

শাহিনের সমর্থকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা। তাঁদের দাবি, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পশ্চিম বাকলিয়া ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাকলিয়া থানা যুবদলের ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বলে তাঁর সমর্থকেরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম বক্কর ও সাধারণ সম্পাদক কাজী বেলালের নেতৃত্বাধীন কমিটির সময় উল্লেখযোগ্য কোনো পদে না থাকলেও দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বলে দাবি করেছেন সমর্থকেরা।
তাঁদের অভিযোগ, পুরোনো একটি ভিজিটিং কার্ডকে কেন্দ্র করে শাহিনকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবদান বিবেচনায় না নিয়ে একটি কার্ডকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিমত।

এ বিষয়ে এমডি আকতার হোসেন শাহিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলোতে বর্তমান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, নগর যুবদলের তৎকালীন সভাপতি কাজী বেলাল এবং ছাত্রদল নেতা গাজী সিরাজসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সহ-আসামি ছিলেন।
শাহিনের দাবি, দীর্ঘদিন দলের রাজনীতি করতে গিয়ে মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, “মানুষের ভুল হতে পারে; কিন্তু দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অর্জন কীভাবে অস্বীকার করা যায়?”
তিনি আরও বলেন, “আমাকে যুবদলের শাহিন হিসেবে সবাই চেনে। সারা জীবন রাজনীতি করেছি, কখনো পদ-পদবির পেছনে দৌড়াইনি। আমার অপরাধ হলো, ন্যায়কে ন্যায় এবং সত্যকে সত্য বলি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ করি। এ কারণে অনেকের অপছন্দের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি।”

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla