নিজস্ব প্রতিনিধি
সন্ধ্যা নামতেই চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় বাড়তে থাকে সেবাপ্রত্যাশীদের আনাগোনা। কারও অভিযোগ স্কুলছাত্রীকে অপহরণের, কেউ জমিসংক্রান্ত বিরোধের সমাধান চাইছেন, আবার কেউ এসেছেন চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের আশায়। অভিযোগ নিয়ে আসা এসব মানুষের কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিচ্ছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার এই চিত্রে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি অক্সিজেন এলাকার এক বাসিন্দা তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ নিয়ে থানায় হাজির হলে ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেকেন্ড অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরিবারের দাবি, পুলিশের তৎপরতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যাটির সমাধান হওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
জমিসংক্রান্ত বিরোধে নিজেই শুনলেন অভিযোগ
মাওলানা কায়কোবাদ নামের এক ব্যক্তি জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে প্রতিকার চাইতে থানায় গেলে ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন নিজেই তাঁর কথা শোনেন। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) নির্দেশ দেন। দ্রুত বিষয়টি যাচাই করে আইনানুগভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জমিসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে আইনগত এখতিয়ার, কাগজপত্র ও ঘটনার প্রকৃতি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ ধরনের অভিযোগে পুলিশের দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া।
মোবাইল চুরির অভিযোগে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
অহিদুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ নিয়ে থানায় এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অভিযোগের পর ফোনটি উদ্ধার করে তাঁর হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। চুরি যাওয়া ব্যক্তিগত সম্পদ ফিরে পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সন্ধ্যা নামলেই এমন চিত্র
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। থানার ডিউটি অফিসার অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করার কাজে ব্যস্ত থাকেন। অন্যদিকে, অভিযোগের ধরন বুঝে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের নির্দেশনা দেন ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন।
চট্টগ্রাম মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা পুলিশের জন্য বড় দায়িত্ব। সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনা, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জনবান্ধব পুলিশিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় প্রত্যাশা
মাদক, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পুলিশি তৎপরতার প্রত্যাশা রয়েছে স্থানীয়দের। তাঁদের মতে, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিজ্ঞতায় ইতিবাচক দিক উঠে এলেও পুলিশের সামগ্রিক কার্যক্রম মূল্যায়নে অভিযোগের নথি, গৃহীত পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের প্রকৃতি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নাগরিকদের প্রতি মানবিক আচরণ অব্যাহত থাকলে পুলিশের প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
দিন কিংবা রাত—বিপদে পড়ে থানায় আসা মানুষ যেন তাঁদের কথা বলতে পারেন, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পান এবং ন্যায়সংগত প্রতিকার পাওয়ার পথ খুঁজে পান, সেটিই জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মূল প্রত্যাশা। বায়েজিদ বোস্তামী থানায় এই সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীরা।