বিশ্বমান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় কর্তৃক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ১৪অক্টোবর বুধবার নগরীর আগ্রাবাদের জাম্বুরি মাঠ এলাকায় বিএসটিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘উন্নত বিশ্বের জন্য অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি: সাশ্রয়ীওপরিচ্ছন্ন জ্বালানি’।
উক্ত আলোচনা সভার সভাপতি জনাব মোঃ মোমেন উস সাজ্জাদ, উপপরিচালক (মেট্রোলজি) ওঅফিস প্রধান তাঁর সূচনা বক্তব্যে বিশ্বমান দিবসের তাৎপর্য ও পণ্যের গুণগত মান রক্ষা ও তদারকির ক্ষেত্রে বিএসটিআই, চট্টগ্রাম এর অবদানসমূহ বিভিন্ন পরিসংখ্যানের মাধ্যমে তুলে ধরেন এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের ভিটামিন-এসহ অন্যান্য জরুরি পণ্যের মান পরীক্ষণ নিশ্চিতের ব্যাপারে জানান।তিনি উলেখ করেন, পণ্যের মান বজায় রাখা শুধু ব্যবসায়িক সুবিধাই বাড়ায় না, বরংপরিবেশ সুরক্ষায় ও টেকসই অর্থনীতি গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ভোক্তা সাধারণের সুবিধার্থেও সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে ডিজিটাল সেবা, কিউআরকোড এবং হেল্পলাইন (১৬১১৯) চালু করা হয়েছে।তিনি বাজারের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভার প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও পরিচালক (স্থানীয়সরকার) মনোয়ারা বেগম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বিএসটিআই কোনো অবস্থাতেইমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে ছাড় বা আপস করবে না; শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করেই কেবল লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।”তিনি উলেখ করেন, দেশের প্রধান বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে আধুনিক ল্যাবরেটরিসহ নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া দ্রুততম সময়ে সেবা লাভ করতে পারেন।এ ছাড়া পণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ পরিবর্তনসহ নানাবিধ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সামগ্রি কজনকল্যাণ ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ না করলে মান নিশ্চি তকরা অসম্ভব।বিএসটিআই-এর সেবা ও কার্যক্রম সম্পর্কে সাধার ণমানুষকে অবহিত করতে তিনি বড় বড় শপিংমলগুলোতে প্রচারণামূলক ব্যানার টাঙানোর পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. জামালউদ্দিন আহমেদ, পরিচালক, আইইটিও অধ্যাপক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংবিভাগ, চট্টগ্রাম প্রকৌশলও প্রযুক্তিবিশ্ববিদ্যালয়।তিনি এসডিজি এর ৭ নং অভীষ্ট তথা সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিশ্চিতকরণের জন্য বিভিন্ন প্রকার শক্তির সংমিশ্রণ ও নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার ব্যাটারির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে যথাযথ মান বজায় না থাকলে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।বাংলাদেশে শতভাগ বিদ্যুৎসুবিধার অগ্রগতি হলেও ২০৩০সালের মধ্যে২০% ও ২০৪১সালের মধ্যে৩০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য অর্জনে উন্নত মান নিয়ন্ত্রণ ও ল্যাবরেটরি সক্ষমতা বৃদ্ধি পরিহার্য। এর পাশাপাশি তিনি বাসাবাড়িওশিল্পকারখানায় জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং নিয়মিত এনার্জি অডিট জোরদারের তাগিদ দেন।বক্তব্যে তিনি বিএসটিআই-এর সোলার মডিউলও ইনভার্টারটেস্টিং ল্যাবের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং টেকসই ভবিষ্যৎগঠনে মান ভিত্তিক শিল্পায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “মান থেকেই টেকসই উন্নয়নের শুরু”।
সভার বিশেষঅতিথি জনাব পাঠান মোঃসাইদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), চট্টগ্রাম বলেন“বিএসটিআই-এর লোগো আমাদের আস্থার প্রতীক; তাই দেশীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও মান নিশ্চিতকরণে ব্যবসায়ীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”তিনিঅপচয়রোধে এনার্জি অডিট চালু, ডিজিটাল সেবা কিউআরকোডের মাধ্যমে তথ্য প্রাপ্তিসহজীকরণ এবং ল্যাব স্যাম্পলের পাশাপাশি বাজারের পণ্যের মান নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।এছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়িক অসদুপায় রোধে ধর্মীয় ওনৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার তাগিদ দেন তিনি।
সভার অপর বিশেষ অতিথি এস এম নাজের হোসেন, সভাপতি, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), চট্টগ্রাম- তাঁর বক্তব্যে বলেন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ভেজালরোধ এবং ন্যায্য মূল্যনিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।পাশাপাশি, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বাজারতদারকি ও মোবাইলকোর্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান।তিনি আরও উলেখ করেন যে, ভোক্তাদের সঠিক ওজন ওপরিমাপ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিএসটিআই-এর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সচেতনমহলের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।পরিশেষে, তিনি একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অংশীজনদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শিমুবিশ্বাস, সহকারী পরিচালক (সিএম) ও ফারহানা জাহান পারুল, সহকারী পরিচালক (সিএম)।
পরিশেষে ইব্রাহীম খলিল, উপ পরিচালক (রসায়ন) উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।