নুরুল ইসলাম রিপন
—————————-
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মানুষ আসেন যারা শুধু একটি নির্দিষ্ট দলের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং তাঁদের ব্যক্তিত্ব, দেশপ্রেম ও কর্মগুণে হয়ে ওঠেন সবার শ্রদ্ধার পাত্র। তেমনি একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ও রাজনীতির আদর্শিক পুরুষ ছিলেন সাবেক রাজপথ কাপানো ছাত্র নেতা চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দীন। ভিপি নাজিম উদ্দীন ২০২৩ সালের ২৩শে অক্টোম্বরতিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তাঁর প্রয়াণের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা রয়েছে তা অপুরনীয়। ছাত্র ইউনিয়নের একজন লড়াকু কর্মী হিসেবে তাঁর রাজপথে একটি বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে লড়াই, তাতেও তিনি আজীবন রাজপথে সাহসী ভুমিকা নিয়ে সকল আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনি বিএনপিতে যোগদান করার পর কিছুদিন চট্টগ্রাম মহানগর রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন পরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন। হাটহাজারী থেকে উপজেলা নির্বাচন করেছিলেন।
ব্যক্তিত্ব ও সর্বজনীন গ্রহণযো মরহুম ভিপি নাজিম ছিলেন অত্যন্ত সদালাপী ও মার্জিত স্বভাবের একজন মানুষ। ছাত্র রাজনীতি বা যুব রাজনীতির নবীন কর্মীদের হাতে তিনি কবিতার বই, সাহিত্য ও কলম তুলে দিতেন, যা আজকের কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী শিবিরের নেতাকর্মীদের কাছেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল আকাশচুম্বী। ভিপি নাজিম উদ্দীন কোনো বিলাসী জীবনের মোহে রাজনীতি করেননি; গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সেবাই ছিল তাঁর জীবনের মূল ব্রত। আজকের তরুণ রাজনীতিকদের জন্য তাঁর সততা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম একটি জীবন্ত পাঠশালা। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কর্ম, উন্নয়ন এবং আদর্শিক রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন তিনি আধুনিক চট্টগ্রাম গঠনে যার অবদান অনস্বীকার্য, সেই ভিপি নাজিম উদ্দীনের নাম ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।
মরহুম ভিপি নাজিম উদ্দীন। একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিতে জনগণের আন্দোলনে এক সময়ে রাজপথ নিজ রক্তে রঞ্জিত করা লড়াকু রাজনী
একজন নির্মোহ রাজনীতিবিদ ও সৎ রাজনীতিবিদ ছিলেন ভিপি নাজিম উদ্দীন।
২০২৩ সালের ২৩ অক্টোম্বর ৭৫ বছর বয়সে সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে ইহকাল ত্যাগ করেছেন।
মরহুম ভিপি নাজিম উদ্দীন একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের সকল ক্রান্তিকালে জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একজন আপোষহীন সাবেক ছাত্র নেতা হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। জনসেবার মহান লক্ষ্য সামনে নিয়ে রাজনীতি করতেন, ‘চাকসুর একজন অনন্য সংগঠক, সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর অবদান জাতির নিকট চিরঅম্লান হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন একাধারে প্রাজ্ঞ ও জনঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ এবং সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ হিসেবেও সর্বমহলে তাঁর ছিল অকৃত্রিম গ্রহণযোগ্যতা। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চেতনাকে দৃঢ়ভাবে বুকে ধারণ করে মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে তাঁর লড়াই ছিল অবিস্মরণীয়। বর্তমান সময়ে তাঁর মতো আদর্শনিষ্ঠ রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে দেশের অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং বিএনপির সাবেক নেতা নাজিম উদ্দিন।
তিনি ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর তারিখে ঢাকার শ্যামলী সিকেডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৫ বছর।
চাকসু নির্বাচন: ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর নেতা হিসেবে ভিপি পদে জয়ী হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক জীবন: পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি পরবর্তীতে ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ফোরাম’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে।
তিনি আজ দৃশ্যমান জগৎতে আমাদের মাঝে না থাকলেও সকলের হৃদয়ে চিরকালের জন্যে স্হান করে নিয়েছেন, ইতিহাসের পাতায় চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দীনের নাম স্বনাক্ষরে লেখা থাকবে। লেখক:— সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ।