1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিয়ন্ত্রণহীন দূর্নীতি, রুখবে কে ? - পূর্ব বাংলা
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিয়ন্ত্রণহীন দূর্নীতি, রুখবে কে ? দাপ্তরিক ছুটির দিনেও নগর উন্নয়নে সক্রিয় চউক চেয়ারম্যান, ব্যক্তিগতভাবে তদারকি বিভিন্ন কার্যক্রম বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসে ওষুধ ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষা ও পেশাদারিত্বের ক্ষমতায়নের দাবি আলমগীর নূরের সেচ্চাসেবক লীগ নেতা বাবলা দেবনাথের ক্ষমতা দাপট দেখিয়ে বহাল তবিয়তে পটিয়ায় ৭০ বছরের বৃদ্ধা শিক্ষিকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জালিয়াতি ও প্রাণনাশের হুমকি কুয়েত গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের উদ্দোগে ফাতেহা ইয়াজদাহুম, মাসিক খতমে গেয়ারবি শরীফ ও দোয়া মাহফিল দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের শাহ আলমই কি বড়লিয়া বিএনপির নতুন মুখ? বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০০পরিবারের মাঝে কারিতাসের নগদ অর্থ বিতরণ এফআইএসটির গাড়ী চালকের মারধরের শিকার ফরেস্ট একাডেমির বেয়ারা ডেমোক্রেটিক লীগের ৫০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২২ শে সেপ্টেম্বর

রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিয়ন্ত্রণহীন দূর্নীতি, রুখবে কে ?

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

মাহমুদুল হক আনসারী
দূর্নীতি নামক শব্দটির অর্থ আমরা কম বেশি সকলেই অবগত। দূর্নীতি অর্থ অর্থপাচার। কালো টাকার মালিক। দেশের টাকা বাহিরে পাঁচার করা। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে পঙ্গু করে দেয়া। সরকারের ক্ষমতায় থেকে জনগনের অধিকার খর্ব করে জাতীয় অর্থ পকেটস্থ করাকে দূর্নীতি হিসেবে জনগন বুঁঝে।
এই দূর্নীতি স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের শুরু থেকে। এখনো পর্যন্ত চলমান রয়েছে। দূর্নীতির কারণে বাংলাদেশ এবং জনগন মেরুদন্ড সোজা করতে পারছে না। যারাই সরকারে যায়, তারাই সরকারে থেকে দূর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ কোটি টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। ফলে দেশের টাকা, জনগনের টাকা লুটপাট হয়। দূর্নীতিবাজ ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান টাকা দেশে গোপন করতে না পেরে বিদেশে পাচার করে দেয়। স্বাধীনতার পর পঞ্চান্ন বছরের হিসেবে লাখ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে দূর্নীতিবাজরা পাঁচার করেছে। কোনোভাবেই তাদের কারণে দেশের অর্থনীতি দাঁড়াতে পারছে না। এই জন্য দূর্নীতিবাজ অপরাধীরা দায়ী।
উন্নয়নের নামে দূর্নীতি বন্ধ করতে হবে। উন্নয়ন রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য বিষয়। একটি সমাজ তার অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন অপরিহার্য বিষয়। উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ছাড়া সমাজ, রাষ্ট্র অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না। পরিবার থেকে সমাজ রাষ্ট্র সব জায়গায় ধারাবাহিক ভাবে উন্নয়ন কর্মসূচি থাকতে হয়। রাষ্ট্রের পরিচালকদের দায়িত্ব হলো দূর্নিতিমুক্ত উন্নয়ন কর্মসূচি সঠিক পন্থায় বাস্তবায়ন করা।
সরকারের প্রশাসনিক স্তর রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী বিস্তৃত। লাখ লাখ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি নির্ধারিত বেতন ভুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারি হিসেবে নিয়োজিত আছে। তারা জনগনের টেক্সের টাকায় বেতন ভোগী কর্মচারী। মাস শেষে বেতন ভাতা পেয়ে থাকে। পেনশন , উৎসব ভাতা সহ রাষ্ট্রীয় নানা সুবিধে ভোগ করে। স্বাধিনতার পঞ্চান্ন বছরে এই দেশে হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী তৈরি হয়েছে। চাকরি পেয়েছে। আবার চাকরির শেষে অবসরে গেছে। তাদের পরিবার-পরিজন, পোষ্য, আত্মীয় স্বজন নানা ভাবে রাষ্ট্র থেকে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে। আবার সেখানে কতিপয় সংখ্যক সরকারি কর্মচারী দূর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি কালো টাকার মালিক। তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা চায়।
বাংলাদেশে সরকারি চাকরি একটি গৌরবের পেশা। একটি সরকারি চাকরি অর্জন, পরিবার-পরিজনের জন্য সোনার হরিণ। সরকারি চাকরি এনে দেয়, সেই পরিবারের সুখ, শান্তি ও ভোগ বিলাসের উন্নত জীবন। বিলাস বহুল গাড়ি, সরকারি বাসা, সন্তানের জন্য বিভিন্ন প্রকারের রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা। এর পরেও কয়েক বছর পর পর নতুন করে বেতন ভাতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের জীবন মান সুবিধে বেড়ে যায়। দিন শেষে তারা রাষ্ট্রের জনগনের কর্মচারী। সেই কথা মাথায় রেখে জনগনের কথাও চিন্তা করা দরকার।
এতো সব সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্র থেকে ক্ষমতা প্রাাপ্ত  সেই সরকারি কর্মচারি,কর্মকর্তা রাষ্ট্রের অর্থ লুট করে দেশে বিদেশে অর্থের প্রাচুর্য্য গড়ে তুলে । একজন পুলিশের, সিপাহির কয়েকটি প্লাট, প্লট, বাড়ি, গাড়ি, জমি, জমার হিসেব প্ওায়া যায়। ওসি থেকে এসপি আরো বড় বড় পুলিশ অফিসারদের সম্পদের হিসেব বলতে গেলে বড় খাতা কলম নিয়ে বসতে হবে। যার জলন্ত উদাহরণ পুলিশ কর্মকর্তা বেনজির আহমদ, মতিউর সহ অসংখ্য সরকারি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর নাম আসবে। সাথে ইউনুস সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টাদের দূর্নীতি ও অর্থ পাঁচারের হিসেব দেখলে চোঁখ কপালে উঠে যায়। দেশের ইউপি কার্যালয়ের সচিব থেকে গণ ভবনের কর্মচারি। একজন পিয়ন জাহাঙ্গিরও চারশত কোটি টাকার মালিক । এই ভাবে পঞ্চান্ন বছরের একটি স্বাধীন মানচিত্রকে লুটে পুটে খাচ্ছে দূর্নীতিবাজ আমলা কর্মচারী উপদেষ্টারা ।
বাংলাদেশ   স্বাধীনতার পর অর্থনৈতিক ভাবে যে সফলতা অর্জন করেছে তা ধ্বংস করেছে এ দেশের তথাকথিত কতিপয় রাজনীতি। এ দেশে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি, গণতন্ত্র জনগনের স্বচ্ছ ভোটাধিকার কখনো ছিল না। বাংলাদেশের উপর যাদের নজরদারি বল প্রয়োগ ও উপদেশ পরামর্শদাতা ছিল তারা কখনো বাংলাদেশকে বিশুদ্ধ গণতন্ত্র সাপলাই দেয়নি। উন্নত দেশ শুধু বাংলাদেশকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে ।
বাংলাদেশ প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জন করল্ওে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ, নির্দলীয় জনবান্ধব সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে দেয়নি। বাংলাদেশের এই বয়সে এই দেশ দুনিয়া জুড়ে একটি দূর্নীতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। কারণ এই দেশে এমন কোনো সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারি খুজে প্ওায়া যাবে না যিনি দূর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়। ফলে বাংলাদেশের অগ্রগতি উন্নয়নের সিংহ ভাগ অর্থ দূর্নীতিবাজদের পেটে ডুকে যায়। নিঃশেষ হতে হয় জনগনকে।
এ দেশের পচানব্বই পার্সেন্ট জনগন কঠোর পরিশ্রমি । খালে বিলে কাজ করে । কৃষি , খামারি , তাঁতি , দিনমজুর। তাদের পরিশ্রমের অর্থ টেক্সের টাকায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ দূর্নীতির অর্থের মালিক।
ফলে স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরেও বাংলাদেশ ঋণগ্রস্থ একটি দেশ। বর্তমানে একলক্ষ প্রায় ত্রিশ হাজার মাথাপিছু ঋণ প্রতিটি নাগরিকের। আজকের জন্ম নেয়া শিশুটিও সেই ঋণের বোঝা বহন করে জন্ম গ্রহণ করছে। তলাবিহিন ঝুঁড়ির এই বাংলাদেশ প্রকৃত ভাবে লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন অগ্রগতি দৃশ্যমান দেখলে দূর্নীতির পাহাড় আর ঋণের বোঝায় বাংলাদেশের জনগন জর্জরিত । ঋণ আর দূর্নীতির শীর্ষ অবস্থানে বাংলাদেশ ।
আমাদেরকে এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে অবশ্যই উন্নয়ন থেকে দূর্নীতি আলাদা করতে হবে। সেবা থেকে দূর্নীতি আলাদা করতে হবে। উন্নয়ন কর্মসূচি পরিচ্ছন্ন এবং জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। দূর্নীতিবাজদের প্রশাসনের কোনো চেয়ারে রাখা যাবে না । তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। পুরোনো এবং দাগি কর্মচারিদের আইন করে চাকরি থেকে অবসরে দিতে হবে। পরিচ্ছন্ন মেধাবি যোগ্য শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান সেই জায়গায় দিতে হবে। যারা সোনার বাংলাদেশকে লুটপাট করে ডাকাতি করেছে তাদেরকে আইনের আ্ওতায় এনে সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনতে হবে।
জনপ্রতিনিধি থেকে মন্ত্রী, এমপি, সচিব এই পর্যন্ত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি ব্যবহার করে যারাই লুটপাটের সাথে জড়িত সকলকেই আইনের আ্ওতায় এনে শাস্তি ও সম্পদ জব্দ করতে হবে। জনগন আর দূর্নীতি লুটপাটের সংবাদ, অর্থ পাচারের সংবাদ দেখতে চাই না। দেশের জনগন লুটপাটের সাথে জড়িতদের বিচারের আ্ওতায় দেখতে চায়।  দূর্নীতির সমস্ত অর্থ জাতীয় কোষাগারে ফেরত আনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন চাই।
উন্নয়ন ধারাবাহিক ভাবে চলুক। দূর্নীতিকে সমুলে ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র থেকে বিলুপ্ত করতে হবে। প্রশাসনের সব সেক্টরকে পুনর্বিন্যাস করে সাজাতে হবে। এ যাবৎকালে যত অর্থ পাচার হয়েছে তা ফেরত আনতে হবে। দূর্নীতিবাজরা যেনো পালিয়ে যেতে না পারে সরকারকে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। দূর্নীতির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের প্রত্যাশা জনগনের।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla