রংপুরের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে ২৭ আগস্ট রাজধানী ঢাকায় এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জয় শ্রী রাম সনাতনী সংঘ’ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওপর এক অতর্কিত হামলা চালানো হয়, যার ফলশ্রুতিতে তাঁরা প্রাণ হারান। এই ঘটনায় সমগ্র সনাতনী সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। আজকের এই মানববন্ধন সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং বেদনার বহিঃপ্রকাশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৪টায় ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের হত্যার বিচার চান। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ‘জয় শ্রী রাম সনাতনী সঙ্ঘের, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা এই বাংলাদেশে শত শত বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করে আসছি। কিন্তু ইদানীংকালে সনাতনীদের ওপর হামলা ও অত্যাচার বেড়ে চলেছে। গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের হত্যা একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা, যা আমাদের নিরাপত্তাহীনতার বোধকে আরও গভীর করেছে।
সরকারের কাছে দাবি:দ্রুত তদন্ত ও বিচার: গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের হত্যাকারীদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সুরক্ষা বৃদ্ধি করতে হবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সব ধরনের অত্যাচার ও নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানি বা সহিংসতা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের হত্যার প্রতিবাদে আজ ঢাকায় সনাতনীদের এই মানববন্ধন একটি ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। আশা করা যায়, সরকার এই ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। সনাতনীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট চৈতালি চক্রবর্তী, নয়ন দাশ, দুলাল চন্দ্র বড়াল, মিনা দাস, নয়ন রায়, অতিক্রান্ত রায়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।