আসাদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বিলুপ্ত কমিটি পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি মহানগরের আওতাধীন ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নগরের কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনস্থ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনের মাঠে আয়োজিত কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সমসাময়িক বিষয়াবলি ও সাংগঠনিক স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে’ চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল এ কর্মী সভার আয়োজন করে।
আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, সারা বাংলাদেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন ইউনিটসহ বর্তমানে যুবদলের মোট ৮২টি ইউনিট কমিটি রয়েছে। ঢাকার পর চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। তবে কমিটি বিলুপ্ত থাকার পরও সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদের নেতৃত্বে কেন্দ্র ঘোষিত সব কর্মসূচি সুন্দরভাবে পালন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাংগঠনিক প্রয়োজনেই গত ২৫ আগস্ট বিলুপ্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের কমিটি পুনর্বহাল করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মহানগর যুবদলের আওতাধীন ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের কমিটি দেওয়া হবে।
যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনা ধারণ করে নেতাকর্মীদের সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। যুবদল একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন উল্লেখ করে তিনি বলেন,নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় অতীতের মতো প্রস্তুত থাকবে।
বক্তব্যের সুযোগ না পেয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ
কর্মীসভায় বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েকজন নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আবদুল মোনায়েম মুন্না নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’। আমি সবাইকে চিহ্নিত করেছি, যারা বিশৃঙ্খলা করেছেন। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংগঠন কীভাবে চালাতে হয়, তা আমার জানা আছে।”
এর আগে সভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
কর্মীসভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ও ফেরদৌস আহমেদ মুন্না এবং রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি।
এ ছাড়া কর্মীসভায় মহানগর যুবদলের বিভিন্ন পদধারি পর্যায়ের নেতা, থানা যুবদলের আহ্বায়ক ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন ও শতাধিক কর্মী উপস্থিত ছিলেন।