
মোঃ আজম খাঁন
পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মকবুল মিয়া সংযোগ সড়ক হয়ে খাঁন বাড়ী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে উন্নয়নবঞ্চিত—এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
পাঁচটি পাড়ার কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের প্রধান এই সড়কটির বর্তমান চিত্র যেন উন্নয়নবঞ্চনার এক বাস্তব দলিল। কোথাও খানাখন্দ, কোথাও কাদা-পানি, আবার কোথাও জলাবদ্ধতা—বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বারবার মাটি ও ইট ফেলে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করলেও স্থায়ী সংস্কারের অভাবে অল্পদিনেই তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
অনুসন্ধানে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে এসেছে। সড়কের মাঝামাঝি রয়েছে বড়লিয়া খান বাড়ী মসজিদ এবং মহান সাধক শাহসুফি হযরত ছমদ আলী শাহ (রহ.)-এর মাজার শরীফ। প্রতিদিন নামাজ আদায় ও মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের দীর্ঘদিনের বেহাল দশা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে পটিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী বড়লিয়া ৭নং ওয়ার্ডে দলীয় কর্মসূচিতে গেলে এলাকাবাসী তার কাছে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন ওই এলাকাকে বিএনপিপন্থী মানুষের বসতি হিসেবে উল্লেখ করে উন্নয়ন না করার বিষয়ে একটি বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রচলিত।
তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ অভিযোগটি সত্য হলে, কোনো এলাকার মানুষের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সরকারি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল কি না, সেটি নিছক স্থানীয় অভিযোগ নয়; এটি নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন বৈষম্যের গুরুতর প্রশ্ন।
প্রশ্ন উঠছে—১৭ বছর পরও কি সেই কথিত রাজনৈতিক বৈষম্যের ছায়া কাটেনি?
বর্তমানে পটিয়ার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এনামুল হক এনামের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চললেও বড়লিয়া খাঁন বাড়ী সড়ক কেন এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন তালিকায় স্থান পাচ্ছে না—তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সড়কটি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার পেছনে স্থানীয় পর্যায়ের গাফিলতি, প্রশাসনিক জটিলতা, অবহেলা কিংবা অন্য কোনো অদৃশ্য কারণ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
এখানে মূল প্রশ্ন রাজনৈতিক নয়; প্রশ্ন হলো নাগরিক অধিকার ও সমান উন্নয়নের। একটি এলাকার মানুষ কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাস করেন, তা কখনোই সরকারি উন্নয়ন পাওয়ার মানদণ্ড হতে পারে না।
তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়দের দাবি—সড়কটির সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রকৌশলগত যাচাই, উন্নয়ন তালিকাভুক্তকরণ এবং দ্রুত আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
১৭ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বড়লিয়া মকবুল মিয়া সংযোগ সড়ক হয়ে খাঁন বাড়ী সড়কটি আধুনিক ও টেকসইভাবে সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।
উন্নয়ন কোনো দল বা গোষ্ঠীর অনুগ্রহ নয়—এটি জনগণের অধিকার। তাই রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই সড়কের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে কি না, সেটিই এখন বড়লিয়ার পাঁচ পাড়ার মানুষের অপেক্ষার প্রশ্ন।