1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘিরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ ‘কন্ট্রাক্টে’ পাসপোর্ট করে দেওয়ার আশ্বাস, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ; দালালদের তৎপরতা অস্বীকার কর্তৃপক্ষের - পূর্ব বাংলা
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘিরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ ‘কন্ট্রাক্টে’ পাসপোর্ট করে দেওয়ার আশ্বাস, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ; দালালদের তৎপরতা অস্বীকার কর্তৃপক্ষের ঈদগাঁওতে ময়লা আবর্জনার দূর্গন্ধে বিষিয়ে উঠেছে পরিবেশ হারানো অস্ত্রের সন্ধান চায় র‌্যাব, তথ্যদাতাকে দেওয়া হবে পুরস্কার ফুটবলার সাইদীর উপর হামলার প্রতিবাদে ঈদগাঁওতে মানববন্ধন কাপ্তাই লেকের পানি নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন সড়ক দুর্ঘটনায় ঈদগাঁওয়ের একই পরিবারের ভাই-বোন সহ নিহত ৪, আহত ৫ চট্টগ্রাম ১৯ নং ওয়ার্ডের আনোয়ার খাঁ কলোনী এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ বাংলাদেশে টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার চাই এখনই হজ নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পটিয়া রণাঙ্গণের বীর সেনানী চৌধুরী মাহাবুবুর রহমান

পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘিরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ ‘কন্ট্রাক্টে’ পাসপোর্ট করে দেওয়ার আশ্বাস, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ; দালালদের তৎপরতা অস্বীকার কর্তৃপক্ষের

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

আসাদুল ইসলাম

সকাল ১০টা বাজতে না বাজতেই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবাপ্রত্যাশীদের ভিড় বাড়তে থাকে। চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, থানা ও ওয়ার্ড থেকে নানা প্রয়োজনে পাসপোর্ট করতে আসেন সাধারণ মানুষ। তবে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে অফিসের আশপাশে কথিত দালালচক্রের তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের মূল ফটকের কিছুটা দূরে বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন। নতুন কেউ সেখানে আসলে তাদের কাছে গিয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে—‘পাসপোর্ট জমা দিতে এসেছেন কি না।’ কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের কেউ কেউ ‘কন্ট্রাক্টে’ পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। কাগজপত্রে জটিলতা থাকলেও তা ‘ব্যবস্থা করে’ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

মাঠপর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, পাসপোর্ট করতে আসা কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী দালাল বা এজেন্সির মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কাজ করানোর কথা জানিয়েছেন। চন্দনাইশের বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজের নামে এক সেবাপ্রত্যাশী জানান, এলাকার একজন দালালের মাধ্যমে তিনি প্রায় ৯ হাজার টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করার জন্য এসেছেন। রাউজানের নাজের আহমেদ নামে আরেক ব্যক্তি জানান, তার বাবা একটি এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করার কাজ দিয়েছেন।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সরাসরি আবেদন করতে গেলে কাগজপত্র নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জটিলতার আশঙ্কা থেকেই তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কাজ করাচ্ছেন।

ছদ্মবেশে কথা বলে যা জানা গেল

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে একজন সাংবাদিক সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীর পরিচয়ে অফিসের বাইরে অবস্থান করে কয়েকজন কথিত দালালের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় জহির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি জানতে চান, পাসপোর্ট জমা দিতে এসেছেন কি না। সাংবাদিক জানান, তিনি কক্সবাজারের বাসিন্দা এবং মায়ের জন্য চট্টগ্রাম থেকে পাসপোর্ট করার বিষয়ে তথ্য নিতে এসেছেন।

এ সময় জহির দাবি করেন, তিনি ‘কন্ট্রাক্টে’ পাসপোর্ট করে দিতে পারবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অফিসের ভেতরে তার ‘লোক’ রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ব্যবস্থা করে দেওয়া সম্ভব। এমনকি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদও ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

পাসপোর্ট করতে মোট কত টাকা লাগবে জানতে চাইলে জহির বলেন, সরকারি ফি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার দিন তাকে অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা দিতে হবে। এরপর ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় তিনি নিজের মোবাইল নম্বরও দেন।

পাশে থাকা মো. সোহেল নামে আরেক ব্যক্তি নিজেকে পাসপোর্ট অফিসের পেছনে থাকা ‘মদিনা টেলিকম’ নামের একটি দোকানের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, কক্সবাজারের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে ‘ডাবল স্টিকার’ লাগবে এবং এ জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

পরদিন আবার অফিসের সামনে গেলে ইকবাল নামে আরেক ব্যক্তি পাসপোর্ট করার প্রস্তাব দেন। সাংবাদিক কক্সবাজারের বাসিন্দা এবং চট্টগ্রাম থেকে মায়ের পাসপোর্ট করানোর তথ্য জানতে এসেছেন জানালে ইকবাল নিজেকে সরাসরি অফিসের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় না দিয়ে বলেন, ‘আমি ব্রোকার, দালাল আর কি।’

ইকবালের দাবি, ৪ হাজার টাকা দিলে তিনি ‘কন্ট্রাক্টে’ পাসপোর্টের কাজ করে দিতে পারবেন এবং অফিসের ভেতরে তার লোক রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, কক্সবাজারের বাসিন্দার ক্ষেত্রে ‘ডাবল স্টিকার’ লাগবে।

ব্যাংকে সরকারি ফি জমা দেওয়ার পর অফিসে গিয়ে কোনো সমস্যা হলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল দাবি করেন, তিনি প্রতিদিন এ ধরনের অনেক কাজ করেন এবং একটি ‘কোড’ লিখে দেবেন, যাতে পরে কোনো সমস্যা হবে না। অনুসন্ধানের সময় তাকে পাসপোর্ট অফিসের পেছনে থাকা ‘শাহ আমানত কম্পিউটার’ নামের একটি দোকানের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও দেখা যায়।

দালালদের মধ্যে নান্নু দা, রফিকসহ আরও কয়েকজনের নামও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এ ছাড়া নাম-পরিচয় জানা যায়নি—এমন আরও কয়েকজনকে পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা পর্যায়েও রয়েছে যোগাযোগের দাবি

অনুসন্ধানে জহির উদ্দিনের সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার কথিত দালালদের যোগাযোগ থাকার দাবিও উঠে আসে। জহিরের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে পাসপোর্ট করতে আগ্রহীদের সংগ্রহ করে তার কাছে নিয়ে আসেন।

একপর্যায়ে জহিরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বয়স্ক ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে জহির তাকে ‘আমার লোক’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং জানান, ওই ব্যক্তি চন্দনাইশ এলাকার লোকজনের পাসপোর্টের কাজ তার মাধ্যমে করান।

তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে অফিসের ভেতরে কারও সঙ্গে কথিত দালালদের যোগসাজশ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধানে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, কক্সবাজার জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের সাধারণভাবে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট করার সুযোগ নেই। তবে কেউ সরকারি চাকরির কারণে চট্টগ্রামে অবস্থান করলে অথবা চট্টগ্রামে বর্তমান বসবাসের বৈধ প্রমাণপত্র, কাউন্সিলর সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে পাসপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

দালালচক্রের বিষয়ে জানতে চাইলে উপপরিচালক বলেন, অফিসের চারপাশ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাধীন এবং তিনি নিজে কোনো দালালচক্রকে দেখতে পাননি। তবে এ ধরনের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অফিসিয়ালভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক না থাকলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করেও কাউকে পাসপোর্ট করে দেওয়ার সুযোগ নেই। দালালরা কেন এমন দাবি করছে, তারা কার কাছে ফাইল তৈরি করে পাঠাচ্ছে—এসব বিষয় তাদের কাছ থেকেই জানতে হবে।

তবে দালালদের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে অনুসন্ধানে নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমানোর প্রশ্ন

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য বলছে, প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অনভিজ্ঞতা, কাগজপত্র নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা এবং দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে কিছু ব্যক্তি মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর করছেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ এবং কথিত দালালদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কতটা মিল রয়েছে, অফিসের ভেতরে তাদের কোনো সহযোগী রয়েছে কি না এবং অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

পাসপোর্ট সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত ফি সম্পর্কে জানতে পারেন এবং মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরশীল না হন, সে জন্য অফিসের সামনে স্পষ্ট নির্দেশনা, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla