1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
ভয়াল ২৯ এপ্রিল: অরক্ষিত উপকূলবাসী - পূর্ব বাংলা
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

ভয়াল ২৯ এপ্রিল: অরক্ষিত উপকূলবাসী

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মাহমুদুল হক আনসারী
ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এদিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস তছনছ করে দিয়েছিল দেশের উপকূলীয় জনপদ। সেদিন ২৫০ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত এবং ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস তছনছ করে দেয়। ওই ঘটনায় দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যান। ১ কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। সেদিনের ভয়াল এই ঘটনা এখনও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়ায় চট্টগ্রামের উপকূলবাসীকে। দুঃসহ সে স্মৃতি আজও কাঁদায় স্বজনহারা মানুষগুলোকে।
ওই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল ফসলের ক্ষেত, লাখ-লাখ গবাদি পশু। সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ছিল দেড় বিলিয়ন ডলার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ভোলা, হাতিয়া, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, আনোয়ারা, বাঁশখালী, কক্সবাজারের চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায়। এই ঘূর্ণিঝড়ের ৩৫ বছরেও সেসব উপকূলীয় এলাকার অনেক অংশ অরক্ষিত।
ওই ঘটনায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয় হালিশহর, আগ্রাবাদ, কাটঘর, বন্দর, পতেঙ্গাসহ নগরীর উল্লেখযোগ্য এলাকা। বন্দর থেকে ছিটকে যায় নোঙ্গর করা বড় বড় জাহাজ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নৌবাহিনীর জাহাজ। জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায় নৌবাহিনীর অনেক অবকাঠামো। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজ। শিশু-সন্তান ও পরিবার নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় জলোচ্ছ্বাসে আটকা পড়েন নৌ ও বিমান বাহিনীর বহু সদস্য। ভেসে যায় অনেকের আদরের ছোট্ট শিশু।
সেদিন রাত ১০টার পর ১০ থেকে ২৫ ফুট উচ্চতায় সাগরের পানি মুহূর্তেই ধেয়ে আসে লোকালয়ে। জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের তা-বলীলায় ওই রাতে অনেক মা হারায় সন্তানকে, স্বামী হারায় স্ত্রীকে, ভাই হারায় বোনকে। কোথাও কোথাও গোটা পরিবারই হারিয়ে যায় পানির স্রোতে। ২৯ এপ্রিলের সেই ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি বয়ে উপকূলীয় মানুষের কাছে দিনটি ফিরে আসে বার বার। দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি শোকাবহ দিন।
দিনটির কথা মনে করে এখনো উপকূলীয় এলাকার বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, আনোয়ারাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার উপকূলী অঞ্চলের মানুষগুলো শোকাহত দিনযাপন করে। এই দিন চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজনৈতিক সামাজিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং পরিবার থেকে নিহতদের স্বরণে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি, মেজবানসহ ইসালে স্ওায়াব মাহফিল ও স্মরণ সভার আয়োজন করে।
সেই দিনের করুন ভয়াবহ স্মৃতিকে স্বরণ করতে উপকূলীয়বাসি তাদের নিহত আত্মিয় স্বজনদের মাগফেরাত কামনায় মসজিদ, মন্দির, গির্জায় বিশেষভাবে দোয়া ্ও মোনাজাতের আয়োজন করে থাকে।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের বাড়ি ঘর ক্ষেত খামার, গবাদি পশু, মাছের ঘের ব্যাপকভাবে ক্ষতি স্বাধিত হয়। আত্মিয় ্ও নিকট আত্মিয় স্বজনের মৃত্যুর সাথে শত শত কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এখনো বাশখালী, আনোয়ারাসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় জনগনের যাতায়াত ব্যবস্থা দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় পিছিয়ে পড়ে আছে। উপকূল এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জান মালের ব্যাপকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। দূর্ভোগ লেগে আছে। নদী ভাঙ্গন, বেড়িবাঁধ মেরামত কর্মসূচী উপকূল বাসিকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বাংলাদেশ যেহেতু দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। সেহেতু এখানে বন্যা, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ফলে সরকারের প্রয়োজন উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ, পরিচ্ছন্ন ভাবে বাস্তবায়ন করা। যাতায়তের উন্নত ব্যবস্থা তৈরি করা। বিদ্যুত সরবরাহ তথ্য প্রযুক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
উপকূলীয় এলাকা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের বিপদ সংকেত প্ওায়ার পর সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র সমূহে যথাসময়ে নিরাপদে জনগনকে নিয়ে আসার সব ধরণের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে হবে। নদী, খাল, বেড়িবাধ রক্ষায় নিয়োজিত রাষ্ট্রিয় মন্ত্রণালয়গুলোকে দূর্নিতিমুক্ত থেকে উপকূল এলাকার সব ধরণের বাধ রক্ষা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে হবে। অতীতের বেড়িবাঁধের অনেক দূর্নিতির সে¦তপত্র প্রকাশ হয়েছে। বিগত সরকারের সময় শত শত কোটি টাকা বেড়িবাধের অর্থ নয়ছয় করে আত্মসাধ করা হয়েছে। দূর্নীতি মুক্তভাবে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার ও নির্মানে বর্তমান সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় দায়িত্ব প্রাপ্ত টিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সেই সময়ের মন্ত্রি এমপিদের দূর্ণিতির খতিয়ান জনগন জানতে চায়। যেই পরিমান উপকূলীয় এলাকার জন্য উন্নয়ন কর্মসূচী বরাদ্দ হয়ে থাকে সেই অর্থের যথাযথ ভাবে ব্যবহার হয়েছে কিনা, কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যারা নয়ছয় করে জনগনের অর্থ লুটপাট করেছে তাদেরকে আইনের আ্ওতায় আনার দাবি উপকূলবাসির।
লাখ লাখ উপকূলীয় অধিবাসি নিরাপদ জীবনযাপনে দীর্ঘসময় থেকে সরকারের নিকট বেড়িবাঁধসহ নদীরক্ষার দাবি করে আসছে। আজকের ঐতিহাসিক এই শোকাবহ দিবসে উপকূলীয় জনগন তাদের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের নিকট উপকূলবাসির নিরাপত্তায় সঠিক ও কার্যকর কর্মসূচীর বাস্তবায়ন চাই।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla