
এম. আলী হোসেন
প্রতি বছরের ন্যায় এবার বন্দরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ১৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ছাড়াই বন্দর দিবস পালন করা হয়। অথচ গতবছরও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করে বন্দর চেয়ারম্যান বন্দর দিবস উৎযাপন করে। দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ‘বন্দর’ কেমন যেন স্কুল কিংবা মাদ্রসার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মতো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বন্দর দিবস পালনকে উৎসবমুখর পরিবেশ বলে চালিয়ে দিয়ে সচেতনমহলে সমালোচনার ঝড় তুলেছে। সাংবাদিকদের নানান প্রশ্নের জবাব না দেবার জন্য ও নিজেদের দূর্বলতা আড়াল করার জন্য সাংবাদিকদের মুখোমুখী হননি এবার বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দিবসের শুরুতে ২৫ এপ্রিল রাত ১২টা ১ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থানরত সব জলযান ও জাহাজ থেকে একযোগে এক মিনিট হুইসেল বাজানো হয়। একই সঙ্গে বন্দরের মসজিদ ও মন্দিরে প্রয়াত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রুহের মাগফেরাত এবং দেশ ও বন্দরের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি বন্দরের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য বন্দরের কার্যক্রম নিয়ে ভিডিও প্রদর্শন এবং নবনির্মিত ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবনের স্ক্রিনে দিনব্যাপী তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বন্দর এলাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়।
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় দিবসটি উপলক্ষে বন্দর ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন চবকের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।
এ সময় বন্দরের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন), সদস্য (অর্থ), সদস্য (প্রকৌশল), সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা), মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের পরিচালক এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পতাকা উত্তোলন শেষে চেয়ারম্যান কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে বন্দর দিবসের কেকও কাটেন।
সুত্রমতে, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের সাবেক এমডি ও বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের কৃতকর্ম ঢাকতে নতুন বন্দর চেয়ারম্যান সংবাদ সম্মেলন থেকে বিরত থাকেন। রহস্যজনক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের উপদেষ্টা ও সমন্বয়ক নামদারীদের ম্যানেজ করে এনসিটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেয় এবং তুলে দিতে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আছে কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বন্দরের শীর্ষ পদে কিছু কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে আছেন এবং বন্দরের স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদেরকে অব্যাহতির মাধ্যমে বন্দর থেকে বিদায় করার জোর দাবী আছে সেবা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে। এসব কর্তারা বন্দরে বিভিন্ন অপকর্ম করে বন্দরকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারায় লিপ্ত আছে ফলে দেশের আমদানি রপ্তানির উপর প্রভাব পড়ছে । নিত্যপণ্যের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে মানুষও ফুঁসে উঠছে । বিষয়টি এখনই ভাবা উচিত।