বিশেষ প্রতিনিধি
সমুদ্র সৈকত রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীর বসতভিটা ও ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে এই অঞ্চল রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে এর ডিজাইন প্রস্তুতের কাজ চলছে । এটিতে ৫৪৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।এটি বাস্তবায়ন হলে সাইক্লোন মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় বন্যা ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ়করণ, লবণাক্ত পানির প্রবেশরোধ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি , স্থানীয় সাপমারা খালে মাছ ধরা ট্রলারের নিরাপদ আশ্রয় স্থলে রুপান্তর , উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী ও পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বহুগুণ।
খবর পাওয়া গেছে, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী আনোয়ারা উপজেলার ১১ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ব্লকের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে । যদিও এসব বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুনীতি হয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবী করে আসছে। ২৯ এপ্রিল ‘৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ে এসব এলাকায় অনেকে বসতভিটা ও বাড়ীঘর হারিয়েছে। হারিয়েছে বহু আত্মীয় স্বজন , ফলজ, বনজ ও মৎস্য সম্পদও ।
কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পর ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেল পারকি সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রাম শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত এ সৈকত ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ।
স্থানীয়রা সৈকতের চেয়ে একে বেশি চেনে ঝাউবাগান হিসেবে; অর্থাৎ এখানে সৈকত তো আছেই, আছে বিশাল ঝাউবাগান। সঙ্গে আছে সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামের জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র পারকি সমুদ্র সৈকত নিয়ে চলছে নানামুখি আলোচনা। যারা আগে এসেছেন, তাদের কাছে এখন অনেকটাই অচেনা হয়ে পড়েছে আকর্ষণীয় এ সৈকতটি। দেশী বিদেশী পর্যটকদের কাছে চরম আকর্ষণের পারকির চর এখন অন্যরকম। ভরা মৌসুমেও মানুষের পদভারে সেই জমজমাট অবস্থা নেই। নেই সেই হাকডাক-জাঁকজমক অবস্থা। নানা সমস্যাও যেন জেঁকে বসে অযাচিত প্রতিবন্ধকতায় চরটি হারিয়ে ফেলছে তার সৌন্দর্য। আর চরের ব্যবসায়ীরাও মুখোমুখি হয়েছেন কঠিন জীবনযুদ্ধে।
আনোয়ারার অবহেলিত উপকূলবর্তী রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়া পাড়া থেকে পারকি সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকা এখনো অরক্ষিত আছে। এই ৩ কিলোমিটারের মধ্যে বন্দরের বাতিঘর সহ পর্যটকদের জন্য নির্মিত হােটেল, মোটেল, রিসোর্স ও হরেক রকম দোকানপাত রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমে প্রবল জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় এই এলাকা ঝুঁকিতে থাকে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশ সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এখানে বিভিন্ন সময়ে জলোচ্ছ্বাসে হারিয়ে গেছে একে একে সৈকতের সব গাছ। নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই বিচটি রক্ষা পাবে ও পাশাপাশি রক্ষা পাবে স্থানীয়রাও।