২৯ মার্চ রবিবার বিকাল ৪:৩০ টায় বাদ আছর চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত দরগাহ লেইনস্থ তনজিমুল মোছলেমিন এতিমখানা মিলনায়তনে চট্টগ্রামের কৃতিপুরুষ, দৈনিক নয়াবাংলা’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল্ ছগীর’র ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি সাংবাদিক এস.এম. জামাল উদ্দিন এই দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন। কবি আসিফ ইকবালের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন অব প্রেস কাউন্সিল নির্বাহী পরিষদ ও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রবীণ সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত।
বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক নয়াবাংলা সম্পাদক ও প্রকাশক জিয়াউদ্দিন এম. এনায়েত উল্লাহ হিরু, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজ কল্যাণ ফেডারেশনের মহাসচিব হাফেজ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, চট্টগ্রাম এডিটর’স ক্লাবের সভাপতি ও পূর্ব বাংলা সম্পাদক এম. আলী হোসেন।
বক্তব্য রাখেন হাজী আহমদ হোসেন খান, হাফেজ আনোয়ার হোসেন, আবদুস শুক্কুর, ফটো সাংবাদিক আসিফ ইকবাল, নুরুন্নবী প্রমুখ। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন ক্বারী মাওলানা আরিফুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবীণ সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত বলেন, মরহুম আবদুল্লাহ আল ছগীর দেশের জনগণের প্রতি সেবার মনোভাব নিয়ে সংবাদপত্র প্রকাশ করেছিলেন। বিট্রিশ ভারতে খ্যাতনামা ব্যক্তিরা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন জনগণের সমস্যা, অভাব, অভিযোগ, দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরার জন্য। আবদুল্লাহ আল ছগীর সেই খ্যাতনামা ব্যক্তিদের অনুসরনীয় সহকর্মী ছিলেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সংবাদপত্রের বিকাশে আবদুল্লাহ আল ছগীরের অবদান অপরিসীম।
বক্তাগণ বলেন, সংবাদপত্র প্রকাশ করে ছগীর সাহেব জাতীয় প্রেক্ষাপটে একটি দায়িত্বশীল সম্পাদক রূপে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আবদুল্লাহ আল ছগীর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক নয়াবাংলাকে প্রথম শ্রেণীর দৈনিকে উন্নীত করতে সক্ষম হন। দৈনিক আজাদীর পর পরই সেই সময় দৈনিক নয়াবাংলা চট্টগ্রামে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঘাত-প্রতিঘাতে প্রতিনিয়ত জর্জরিত চট্টগ্রামের সংবাদপত্র শিল্প। বক্তাগণ আরো বলেন, চট্টগ্রামের সংবাদপত্র জগতে আবদুল্লাহ আল ছগীর প্রতিষ্ঠিত দৈনিক নয়াবাংলা জনকল্যাণের ক্ষেত্রে বেশ আশাবাদ সৃষ্টি করেছিল। আবদুল্লাহ্ আল্ ছগীর সাহেবের সংবাদপত্র প্রকাশের পেছনে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল। সমাজের বড়, ছোট সকলের সঙ্গে, সু-সম্পর্ক ছিল তাঁর। তিনি আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন দীর্ঘ ৩৫ বছর আগে আজও তাঁর আদর্শ আমাদের উজ্জীবিত করে। পরিশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা এবং আবদুল্লাহ আল ছগীরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। পূর্বাহ্নে তনজিমুল মোসলেমিন এতিমখানায় খতমে কোরআন ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।