
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রম শুরু হয়।এতে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।সকাল ১০টায় ডিসি হিলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে।
“ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।”
“চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।”
তিনি বলেন, “ডেঙ্গু একটি মহামারী। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তাই কেউ যাতে আক্রান্ত না হয় সেজন্য আগে থেকে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করলে জীবন নিরাপদ হবে।
“সচেতন করতে পারলে এবং যেসব এলাকা থেকে ডেঙ্গু বিস্তার ঘটে সেগুলো পরিচ্ছন্ন রাখতে পারলে ঝুঁকি মুক্ত থাকতে পারি। এখন ডেঙ্গুর সিজন না হওয়া স্বত্ত্বেও লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে। তাই কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হোক সেটা আমরা চাই না।”
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন।
এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৪ জন। ফেব্রুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত জেলায় ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।
২০২৫ সালে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মোট ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২৭ জন।