
কাওসার আলী
নীতির বিপরীতে দুর্নীতি । বলা হয়ে থাকে যে, ‘অর্থই অনর্থের মূল কারণ। মানুষ যখন লোভে পড়ে বিরতীহিনভাবে অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে ক্ষনিকের বিলাসিতায় গাঁ ভাসিয়ে পাগলা ঘোড়ার ন্যায় টগবগিয়ে জীবনে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে, তখন তার চরিত্রের মধ্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়। যেটি মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়। পেছনের মূল্যবান দিনগুলোকে সে ভুলে যেতে থাকে। অতীতের ফেলে আসা স্মৃতিগুলো মন থেকে মুছে যায়। ধীরে ধীরে হিংস্রতা তাকে পেয়ে বসে। মানবিক গুণাবলি লোপ পেতে থাকে। সে যদি উচ্ছশিক্ষায় শিক্ষিতও হয় শিক্ষার প্রভাব তার কাছ থেকে সরে যেতে থাকে। তখন তার জীবনে শিক্ষা, আদর্শ, মানবতা, উদারতা এসব হয়ে উঠে দূর্মূল্য। সে তখন ভুলে যায় যে, ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।’ সে জানে না লোভে পড়লে অপরাধ বাড়তে থাকে, ফলে সে অপরাধগুলো ধীরে ধীরে মনের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। যার ফলে সে মনের দিক থেকে দূর্বল হয়ে পড়ে। আস্তে আস্তে মনোবল ভেঙ্গে যায়। শরীরে বিভিন্ন রোগের লক্ষণ ধরা পড়ে। একসময় সে অকাল মৃত্যুর জন্য দিন গুণতে থাকে। দুর্নীতি কি ?
এমন প্রশ্নের জবাবে বলতে হয়, সাদাকে সাদা বলা, কালোকে কালো বলা, দিনকে দিন ও রাতকে রাত বলা। সাদার যেমন প্রয়োজন আছে, কালোকেও সমানে প্রয়োজন হয়। তেমনি সাধারণ দৃষ্টিতে বলা হয়ে থাকে অন্ধকার ছাড়া আলো মূল্যহীন। কোনটা কালো আর কোনট সাদা তা নির্ণয় করে থাকে মানুষ। তাই হয়তো কবি বলেছেন,“সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই”।
এই পৃথিবীর ভূখন্ডে যা কিছু রয়েছে সবই মানুষের জন্য। এমনকি মহাকাশ পর্যন্ত মানুষের পদচারনা দৃশ্যমান। মানুষকে বাদ দিয়ে কোন কিছু নয়। নীতি ও দুর্নীতি এই দুটি বিষয় একটি অপরটির সাথে সম্পৃক্ত। কে কোনটি গ্রহণ করবে আর কোনটি বাদ দিতে হবে তা বিচারের দায়িত্ব মানুষের । বৈধ ও অবৈধর বৈষম্য দূরীকরণের চেষ্টা বৈষম্যকে আরো বাড়াতে পারে। কারণ সমাজে ধনী-গরীর, সাদা-কালো, নীতি-দুনীতি সবই একই সাথে বসবাস করবে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। দুনীতির দোহাই দিয়ে কোন একটি শ্রেণী বা গোষ্ঠীকে হেয় করে পেছনে ফেলে রাখা হবে তা যেমন কোন নীতিতে পড়েনা বরং এটাই দুনীতি। তাই কথায় কথায় নীতি বা দুর্নীতির বাড়াবাড়িতে না গিয়ে সমাজে সবাইকে সমানচোখে দেখার বৈষম্য দূরীকরণের সহজ উপায় বলা চলে। কারণ দোষে-গুণে মানুষ স্বার্থপরের মতো নিজেকে সাধু, সৎলোক ভেবে অন্যকে অধম বলে গালমন্দ ও দোষী সাব্যস্থ করবার কোন সুযোগ নেই।
কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের উৎসে হস্তক্ষেপও বাঁধা প্রদান করা কিংবা কোন টুনকো অজুহাতে উৎপাদন বন্ধ করা ব্যক্তিস্বার্থে আঘাত করার সামিল। এমন ঘৃণ্য অপরাধ কেবল কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অথবা যেকোন আয়ের উৎসে শত্রুতাবশত কোন ব্যক্তির পক্ষে করা সম্ভব হয়ে থাকে যা আইন বহির্ভূত ও অনৈতিক কর্মকান্ড প্রতিহিংসামূলক কাজ হতে পারে। যেটি কোন সরকারী কমিশন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা অসম্ভব। কারণ যেকোন সরকার কখনো কোন জনগণের আয়ের উৎসে কিংবা অর্থ উর্পাজনের গতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে না। পাশাপাশি জনগণের বা ব্যক্তির আয়ের উৎস থেকেও সরকারি রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। কোন স্বার্থন্বেষি মহল সরকারি কমিশনের নামে ব্যক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বাঁধা প্রদান করলে সে সরকারি কর্মকান্ড নিয়ম বহির্ভূত ও জনগণের মঙ্গল কামনার সরকার না বলা চলে। সাধারণ দৃষ্টে কোন সরকারের অধীনে এক কোটি থেকে ষোল-সতের কোটি মানুষ থাকতে পারে বা তারও কম সংখ্যক মানুষ থাকে কিন্তু একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কিছুসংখ্যক মানুষ কর্মচারী বা কর্মকর্তারা কাজ করে যা সংখ্যায় নগন্য। হাঁসির ছলে বা ভুলবশত যেকোন সরকারী ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের আয়ের উৎসে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে যা দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। দুর্বল ও অসহায় জনগণের দৃষ্টিকোণ থেকে যদিও বা বাঁধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠানের কিছুই করার থাকে না। কারণ হাতেগুণা কিছুসংখ্যক কর্মচারী বা কর্মকর্তা নিয়ে সে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবার কোন সুযোগ বা শক্তি নেই। এমনি অনেক প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় হরহামেশা আমাদের, ব্যবসায়ী মহলের, প্রতিষ্ঠানের মালিকের অথবা কোন ক্ষুদ্র উদ্যোগক্তাদের ।
যারা কিনা আইনের সুযোগ সুবিধা বা সরকারী সুযোগ ভোগ করার বিপরীতে লাঞ্চিত, অপমানিত হয়ে কর্মস্থান ছেড়ে ঘুরমুখো হতে বাধ্য হয়। সরকার যেখানে জনগণের কর্মসংস্থান সুযোগ সৃষ্টি করার কথা সেখানে দেখা যায় দুর্নীতি দমনের নামে পেটে লাথি মারার কল্পকাহিনীর বাস্তবচিত্র। বলছিলাম আমাদের দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের কথা। দুদক স্বপ্নকে কী কোন ব্যক্তি বা যুবকের আঙুল ফুলে কলাগাছে রূপান্তরের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবার সরকারী প্রতিষ্ঠান ? নাকি চলচিত্র ইন্ডাষ্ট্রিজের মনোনিত নায়ক কিংবা ভিলেন তৈরীর কমিশন ? যেখানে দক্ষ শৈল্পিক গল্পকার পরিচালক দ্বারা কাল্পনিক গল্প অবলম্বনে নাটক বা শর্টফিল্ম নির্মানের মাধ্যমে বাস্তব জগতের মানবদেশে থেকে থেকে নেমে এসে কর্মমুখী মানুষদের তাড়িৎ করার একটি বিখ্যাত ব্যক্তিফার্ম ? যদি তাই হয়, তাহলে বলতে কোন দ্বিধা নেই যে, দুদক হলো কোন জনৈক পরিচালকের কাল্পনিক চরিত্রের বাস্তব চিত্রের প্রতিচ্ছবি । কোন পরিচালক তার ছবিতে এমন একটি চরিত্র ফুটিঁয়ে তোলার জন্য হয়তো কখনো ভেবেছিলেন যে, সে এমন একটি চরিত্রের রূপক ্একটি নাটক কিংবা ছবি নির্মাণ করবে । তা ভুলবশত পরিচালকের ভাবনাটি ভাইরাল হলে পরে মানবদেশে বাস্তবে দৃশ্যমান হয়ে উঠে সময়ের সাথে সাথে। তাই বলি, সত্যিকার অর্থে দুদক কোন মানুষের কল্যাণের জন্য নয়। বরং এটি একটি অকল্যাণকর অসেবামূলক প্রতিষ্ঠান বা কম্পিশন যা বন্ধ করার মহৎ উদ্যোগ সরকারের। উল্লেখ্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুতের দেখভালের জন্য সরকারের অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা চাইলে সরকারী বিধিমোতাবেক জনগণকে অনিরাপদ খাদ্য প্রস্তুতে সবধরনের বাঁধা ও নিষেধাজ্ঞা চালাতে পারে । সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় যে, আমি যদি কোন বিষয়ে কাউকে বাঁধা প্রদান বা বারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সে বিষয়ের উপর নিজের স্বচ্ছতা থাকা জরুরী।
স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশের নাগরিক, স্বাধীনভাবে অর্থ উপার্জন করবে বাঁধাবিঘ্ন উপেক্ষা করে। নির্বিঘ্নে মানুষের মৌলিক চাহিদার পাশাপাশি যৌগিক চাহিদা থেকে শুরু করে , সৌখিন চাহিদা মেটানেরা প্রয়োজন পড়ে। তাছাড়া মানুষের চাহিদা সীমাহীন। জীবনের চাহিদা পূরণের জন্য সে কত কিছুইনা করে থাকে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হয় তাকে। জীবনে চলার পথে কোন শক্তি তার বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে পরে সেখানে সে থেমে থাকে না। সোনার হরিণটিকে নাগালে আনবার জন্য শতচেষ্টায় পিছপা হয়না কখনো। এটাই মানুষের চিরাচরিৎ অভ্যাস। একটি উদ্ভিদ একদিনে বৃক্ষে পরিণত হয় না। তেমনি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শিল্পোদ্যোক্তা কিংবা শিল্পপতি। কোন দেশ বা জাতির কারোও কাম্য না কোন ব্যক্তিস্বার্থে আঘাত হানবার বা আয়ের উৎসকে হাঁসিরছলে উড়িয়ে দেবার, ব্যবসা বা অর্থ উপার্জন তার অধিকার । কারোও অধিক পরিমান অর্থের অংকে হতবাক চরিত্রে প্রতিহিংসামূলক কোন কর্মকান্ড ্উদ্যোমি ব্যক্তিটির চলার পথকে বাঁধাগ্রস্থ করতে পারে এমনটি করা মানবতা লঙ্গনের সামিল। যদি তা জনগণ বা ব্যক্তির আদলে সরকারপক্ষ অথবা কোন রাজনৈতিক দল না হয়ে থাকে। কারণ জনগণের জন্য সরকারি সব সুযোগ সুবিধার বৈধ দুয়ার সমানে খোলা থাকা বাঞ্চনিয়।