
মীরসরাই প্রতিনিধি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায় যে তিনজন দুষ্কৃতকারী অত্যন্ত নৃশংসভাবে একটি চিত্রা হরিণকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করছে। ভিডিওটি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সাথে সাথে মীরসরাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহানশাহ নওশাদ তার অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যান।
জানা গেছে, অপরাধ সংঘটিত এলাকাটি মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ৬ নং ইছাখালী ইউনিয়নের ফেনী নদীর তীরবর্তী মুহুরি প্রজেক্ট এলাকা। এই এলাকায় বন বিভাগের কোনো বনাঞ্চল বা বনভূমি না থাকায় এবং বন বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় সচরাচর সেখানে বনকর্মীদের তৎপরতা থাকে না । এমনকি ঘটনাস্থলের ৩/৪ কিলোমিটারের মধ্যেও উপকূলীয় বন বিভাগ, মীরসরাই রেঞ্জের কোনো বনভূমি নেই ও মীরসরাই রেঞ্জ হতে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ২৫ কি:মি:।
রেঞ্জ কর্মকর্তা পূর্ব বাংলাকে জানান , এলাকাটি জনবসতিহীন হওয়ায় ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে মুহুরি প্রজেক্টের বিভিন্ন মৎস্য খামারে কর্মরত শ্রমিকদের ভিডিওটি দেখিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হলে জানা যায় যে, অপরাধীরা ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নয়। তারা মূলত রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সদস্য, যারা এখানে অস্থায়ীভাবে এক-দুই সপ্তাহের জন্য কাজ করতে আসে এবং এই নৃশংস অপরাধ সংঘটিত করার পরপরই নিজ এলাকায় পালিয়ে গেছে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহানশাহ নওশাদ আরও জানান যে, তিনি ঘটনাস্থলে নিবিড়ভাবে তল্লাশি চালিয়ে মাছ ধরার জাল, রশি, জুতা ও হরিণের চামড়ার লোম আলামত হিসেবে জব্দ করেছেন। এই ঘটনায় চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বন আদালত, চট্টগ্রামে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । মামলা নং- ০২/বামন অব ২০২৫ – ২০২৬ । আসামিদের গ্রেফতারের জন্য সোর্স নিয়োগসহ যাবতীয় আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।