
এম. আলী হোসেন
নিয়োগ পরীক্ষা না দিয়েও পরীক্ষায় পাসের অভিযোগ উঠছে । নাসিরাবাদ কেন্দ্রে দেখে দেখে লেখার অভিযোগও আছে পরীক্ষার্থীর । প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযুক্ত ‘রাহি’ নামক ব্যাক্তিকে রহস্যজনক উপায়ে থানা থেকে ছেড়ে দেবার সুযোগ দেয়া, পরীক্ষার্থীর দের ডাকযোগে প্রবেশ পত্র দেবার নামে প্রবেশপত্র না পাবার আগেই পরীক্ষা নিয়ে নেয়া , তরিঘড়ি করে ফল প্রকাশ, মেধাবীদের বাদ দিয়ে সিডিএ’র কর্মকর্তা নিকটজনদেরকে পাস দেখানো, প্রবেশপত্রে রোল নং ও কেন্দ্র ভুল ছাপিয়ে পরীক্ষাদের হয়রানি ও সময়ক্ষেপণ করা সর্বোপরি পত্রিকার বিজ্ঞাপনেও ভুল ‘তারিখ’ ও ‘বার’ ছাপিয়ে নানান অসংগতি ও বিভ্রান্তি তৈরী করে সিডিএ’র ভাবমূর্তি নগরবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে ।
দৈনিক আজাদী পত্রিকায় একবার শুক্রবার পরে শনিবার পরীক্ষা দেবার ঘোষণা দেয়। অবশেষে চলিত সপ্তাহে শনিবারই পরীক্ষা হয়।
বিগত ২১ অক্টোবর ‘২৫ তারিখে ৩১টি পদের অনুকূলে সিডিএ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। নিয়মমতো পে-অর্ডারসহ আবেদন জমা নেয় সিডিএ। জমার অনুকূলে কোন প্রকার কাগজপত্র দেয়নি সিডিএ। তবু প্রার্থীরা বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে কোন প্রশ্ন তোলেনি। মোবাইলে মেসেজ, বিজ্ঞাপন ও ডাকযোগের মাধ্যমে প্রবেশপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা নিলে সকল আবেদিত প্রার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিত পারত। পে অর্ডার দিয়েও বিপুল চাকুরী প্রার্থীরা প্রবেশ পত্র না পাবার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।
জানা গেছে, রোল নং ১৭১৯৪৬, ১৭২৭০৫, ১৭২৭০৭ এই রকম বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পাশ করেছে। এসব রোল নং এর কাছাকাছি রোল নং এর পরীক্ষার্থীরা জানান, উল্লেখিত পরীক্ষার্থীরা তাদের সাথে ওইসব পরীক্ষার্থী পরীক্ষাও দেয়নি। বিষয়টি তদন্ত হওয়া দরকার বলে দাবী করছে দেশপ্রেমিক জনতা।
রোল নং ১৭২৭০২ পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র প্রবেশপত্রে গভ.মুসলিম হাই স্কুল ছাপিয়ে দিলেও মূলত ওই পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র ছিল কলেজিয়েট হাইস্কুল।ফলে ওই প্রার্থীকে দুই কেন্দ্র্রে যেতে হয়েছে। এই রকম আরো অনেক প্রার্থীর বেলায়ও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যোগ্য অনেক প্রার্থীরা ডাকযোগে প্রবেশ পত্র পায়নি। খুব কম সময়ের ব্যবধানে ডাকে প্রবেশ পত্র পাঠানো সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে সচেতনমহল ধারণা করছে।
সিডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের অফিসে সাময়িক কর্মরত আশরাফুল ইসলাম , স্টেট অফিসার সাদেকুর রহমানের ড্রাইভার জনৈক চাকমা বাবু, অফিস সহকারী পিপলু নাথের ঘনিষ্টজনসহ বেশ কয়েকজনের পাসের খবরে সিডিএ অফিসে কানাঘুষা ও তোলপাড় চলছে। করণিক ভুল দেখিয়ে একজনের স্থলে অন্যজনকে নিয়োগ দেবার পায়তারাও চলছে । চলছে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে নানান কথাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিডিএ সংশ্লিষ্ট লোকজন এসব তথ্য জানান।
সৎ ও দক্ষ অফিসার প্রকৌশলী নুরুল করিমসহ আরো ৪ সদস্য নিয়ে নিয়োগ কমিটি এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। প্রশ্ন উঠছে, এসব অনিয়ম কীভাবে সৎ অফিসারদের এড়িয়ে করা সম্ভব ? এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ক্লীন ইমেজের সুনামধারী ব্যাক্তিত্ব প্রকৌশলী নুরুল করিমকে আড়ালে রেখে কেউ পায়দা নিয়েছে কিনা তাও বিবেচনায় নেয়া উচিত বলে সচেতনমহল মনে করছে।
নিয়োগ পরীক্ষার সদস্য সচিব রবীন্দ্র চামকার বিশ্বস্ত ও অফিস পিয়ন নুর মোহাম্মদ বাদশার ছেলে রায়হানের বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগও উঠে। রায়হানের সহযোগী রাফিকে জনতা ধরে কোতোয়ালী থানায় নেয়া হয়। রহস্যজনক কারণে সিডিএ’র লোকজন ও যারা ধরে নিয়ে থানায় দিয়েছে তারাই আবার থানা থেকে কৌশলে ছাড়িয়ে নেয়। রাফির স্বীকার উক্তির ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরালও হয়। আছে আমাদের অফিসে সংরক্ষিতও। কোতোয়ালী থানা পুলিশও জানে রাফিকে ধরে আনা ও ছাড়িয়ে নেবার ঘটনাটিও।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাকুরী প্রার্থী মেয়ে নাসিরাবাদ স্কুলে পরীক্ষা দেয়। ওই মেয়ের বাপ আমাদেরকে জানান, ১৮০০৫২, ১৮০০৫৪,১৮০০৫৬ ও১৮০০৭৪ নং রোল নাম্বারধারী ব্যাক্তিরা মোবাইল স্কীন দেখে দেখে লিখেছে । এসব রোল নাম্বার ধারীরা পরীক্ষায় পাশও করেছে । এ বিষয়টি কিভাবে প্রমাণ করা যায় তা জানতে চাইলে তিনি বলেন সিসিটিভি ফুটেস দেখলে সত্যতা পাওয়া যাবে। ওই কেন্দ্রটি হলো নাসিরাবাদ হাইস্কুলের নতুন ভবন।যেখানে উল্লেখিত নাম্বারধারী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
প্রসংগত, ১৭ জানুয়ারী নগরীর ৩টি স্কুলে জুনিয়র হিসাব রক্ষক, সাঁট লিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, মার্কেট সুপারিনটেনডেন্ট, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর, ড্রাফটসম্যান, ড্রাইভার, মেইনটেন্যান্স ইন্সপেক্টর, সহকারী ক্যাশিয়ার, ইমারত পরিদর্শক, সার্ভেয়ার পদের জন্য সিডিএ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা নেয়। তরিঘড়ি করেই ১৮ জানুয়ারী এ সব পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশ ও পরীক্ষা হয়ে যাবার পর পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা চাকুরী প্রার্থীরা হা-হুতাশ করতে দেখা গেছে ।
এসব বিষয়ে সিডিএ’র সচিব রবীন্দ্র চাকমার মোবাইল নং (০১৫৫৩৫৩৫৭৫০) এ ফোন করলেও ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। মেসেজ দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।