
ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিলের পরও থামছে না জিয়ানি ইনফান্তিনোকে ঘিরে সংকট। নিজের অবস্থান শক্ত করতে বুধবার মরক্কোয় ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ফিফা সভাপতি।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা সামনে আনার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। পরিকল্পনাটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।
শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার পরিকল্পনাটি বাতিল করে পিছু হটেন ইনফান্তিনো। কিন্তু তাতেও সমালোচনা থামেনি। ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা প্রকাশ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আর আস্থা নেই। ফলে মার্চে ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদে তার পুনর্নির্বাচনও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
কয়েকটি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। আরও বড় ধাক্কা এসেছে ফিফার ভেতর থেকেই। ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় বিতর্কিত পরিকল্পনাটিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহকে ‘দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ধারাবাহিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামোরও বলেছিলেন, কর্মীদের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে ‘বিভ্রান্ত করা হয়েছিল’ এবং এটি ছিল ‘একজন ব্যক্তির প্রকল্প’।
ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরোও পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। আর মঙ্গলবার ফিফার বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ও আর্সেনালের সাবেক কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও পরিকল্পনাটি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে বলেন, এটি বাতিল করা ‘একেবারেই প্রয়োজনীয়’ ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবারের বৈঠককে ইনফান্তিনোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মরক্কোর সালেতে ফিফার আফ্রিকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে প্রথমেই আলোচনা হতে পারে কীভাবে অন্তত আগামী মার্চের নির্বাচন পর্যন্ত তার অবস্থান ধরে রাখা যায়।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে যদি ফিফার সদস্য দেশগুলোর অন্তত ৪৩টি লিখিতভাবে আবেদন করে জরুরি কংগ্রেস ডাকার দাবি জানায়। এমন কংগ্রেসে তার নেতৃত্ব নিয়ে আস্থাভোটের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
এরই মধ্যে উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। লন্ডনের টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইনফান্তিনো পদত্যাগ না করলে এসব সংস্থা ফিফাকে অচল করে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের আলাদা প্রতিযোগিতা আয়োজনের পথেও যেতে পারে।
তবে ইনফান্তিনোর পক্ষে এখনও বড় সমর্থনভিত্তি রয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। কাতার, কুয়েত, লেবানন, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া এরই মধ্যে তার প্রতি আনুগত্যের কথা জানিয়েছে।
বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ফুটবল দেশগুলোর মধ্যে ইনফান্তিনোর জনপ্রিয়তার বড় কারণ ফিফার উন্নয়ন তহবিল। তার প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় সমর্থনকারী প্রতিটি সদস্য দেশকে আগামী বছরের শুরুতে ২ থেকে ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল।