1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
হোটেল নিবন্ধন বাতিল প্রসংগ : কেউ ওসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ অন্যরা বলছেন আইওয়াশ - পূর্ব বাংলা
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন

হোটেল নিবন্ধন বাতিল প্রসংগ : কেউ ওসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ অন্যরা বলছেন আইওয়াশ

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বুধবার, ২৬ জুলাই, ২০২৩
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

কোতোয়ালী থানার ওসি মো. জাহিদুল কবীর ১৮ হোটেলের লাইসেন্স বাতিলের অনুরোধ করেছেন অন্য এলাকার ওসিরা নিরব কেন?

চট্টগ্রাম শহরের কতিপয় বাসা বাড়ী ও আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে চলেছে। অভিযোগ রয়েছে পুলিশসহ প্রশাসনের যোগসাজশে এসব অসামাজিক চলে ।এসব হোটেলে জুয়া ও মাদক সেবনও দেদারছে। ওয়ারেন্টপ্রাপ্ত দূর্ধর্ষ  পলাতক আসামীরাও এইসব আবাসিক হোটেলকে নিরাপদ আশ্রয়স্হল হিসেবে ভেবে এখানে রাত যাপন করে।নগরীর সব কয়টি থানায় কমবেশী এসব অপকর্ম চলে। পতেঙ্গা, খুলশী, কোতোয়ালী ও চান্দগাঁও – এ শতাধিক আবাসিক হোটেল ও ৫ শতাধিক বাসাবাড়ীতে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

সম্প্রতি অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে চিঠি দিয়েছেন সিএমপির কোতোয়ালী থানার ওসি মো. জাহিদুল কবীর। চিঠিতে তিনি কোতোয়ালী থানা এলাকার ১৮টি হোটেলের নাম উল্লেখ করেছেন। ইতোপূর্বে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসন বিভিন্ন সময় অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে নগরীর বিভিন্ন হোটেল ও কটেজে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি পাঠানোর ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।নগরের অন্য থানাগুলোতে নিবন্ধন বাতিলের জন্য কোন ওসি জেলা প্রশাসক বরাবরে এভাবে আবেদন করতে শুনা যায়নি। অথচ পতেঙ্গা এলাকায় নিরিবিলি হোটেলের নিবন্ধন বাতিলের জন্য স্হানীয় জনগণ মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনও করেছেন ।সর্বশেষ ওই হোটেলটি এখন বন্ধ রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বাতিলের আবেদন করায় মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজের লোকজন ওসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও  অন্যরা বলছেন এসব আইওয়াশ মাত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রশাসনের লোকজন বলেছেন তিনি নিবন্ধন বাতিল চাইবেন কেন তিনি তো অপরাধ দমন করবেন।

এ প্রসঙ্গে ওসি কোতোয়ালী মো. জাহিদুল কবীর  বলেন, অসামাজিক কার্যকলাপ চট্টগ্রামে সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা এমন পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হয়েছি যে, গত মাসে একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে ছেলে–মেয়ে আটক করেছি। এ ধরনের অপকর্ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে এসেছি। এরপর চলতি মাসে একই হোটেলে অভিযান চালাতে গিয়ে দেখেছি, আবারও ব্যবসা চলছে ওই হোটেলে। তাই এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর ১৮টি হোটেলের লাইসেন্স বাতিল করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছি।

হোটেলগুলো হলো বিআরটিসি এলাকায় হোটেল সিলভার ইন ও হোটেল হিলটাউন আবাসিক, স্টেশন রোডে হোটেল গেইটওয়ে আবাসিক, হোটেল মেট্রো ইন, হোটেল গেস্ট ইন, ইকবাল বোর্ডিং, হোটেল গণি আবাসিক ও হোটেল ঢাকা আবাসিক, রঙ্গম কনভেনশন হল রোডের হোটেল ক্যামেলিয়া (সাবেক হোটেল সম্রাট), ফিরিঙ্গিবাজার ব্রিজঘাটে হোটেল নেভাল আবাসিক ও হোটেল কর্ণফুরী আবাসিক, নন্দনকানন শিক্ষা অফিসের পাশে হোটেল মুসলিম আবাসিক ও হোটেল বিরাজ, জহুর হকার্স মার্কেটের পাশে লয়েল রোডে হোটেল দরবার আবাসিক ও হোটেল আদর আবাসিক, পুরাতন গির্জা রোডে হোটেল লুসাই ইন, কেসিদে রোডে হোটেল সাউদিয়া এবং নবগ্রহ বাড়ির পাশে হোটেল এস নাইট (সাবেক সুপার হেস্ট হাউস)।

ওসি কোতোয়ালী চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, আলোচ্য হোটেলসমূহে প্রায় সময় আবাসিক রুম ভাড়া দেওয়ার আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয়। এই হোটেলসমূহ থেকে বেশ কয়েকবার নারী–পুরুষদের গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারদের বারবার অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থেকে লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী আবাসিক হোটেলে সাধারণ বোর্ডারদের কাছে রুম ভাড়া দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এজন্য হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

 

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla