সঞ্জু বনিক সৌরভ
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সরকারি রাস্তা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগে বাধা দিতে গিয়ে এলজিইডির কর্মকর্তাসহ স্থানীয়দের হুমকি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক সাব-ঠিকাদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বোদা থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ মামলার এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে নিম্নমানের ইট জব্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫ নম্বর বড়শশী ইউনিয়নের মহিষবাথান-ভাউলাগঞ্জ ভায়া নায়েকপাড়া মোড় পর্যন্ত ৭৪৭ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার কাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ভাই বোন ট্রেডার্স’। পরে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার ‘মেসার্স দুলাল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. শাহীনুর ইসলাম শাহীন (৩৩)।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে বড়শশী ইউনিয়নের মৌলভীপাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন রাস্তার দুই পাশের এজিংয়ে নিম্নমানের ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান ও সার্ভেয়ার মো. হযরত আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ পরিদর্শন করেন।
এ সময় নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাব-ঠিকাদার শাহীনুর ইসলাম ও তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন এবং উপস্থিত স্থানীয়দেরও হুমকি দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলা হয়, তারা নিজেদের মতো করে রাস্তার কাজ করবেন এবং কেউ বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর দেওয়া হয় বোদা থানা পুলিশকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শাহীনুর ইসলামের সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ শাহীনুর ইসলামকে আটক করে পরে গ্রেপ্তার দেখায়।
এ ঘটনায় বোদা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মো. হযরত আলী বাদী হয়ে বোদা থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৪০৬, ৪২০, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) তপন কুমার রায় ঘটনাস্থলের পাশের মো. মিনারুল ইসলামের বাড়ির খোলা জায়গা থেকে রাস্তা নির্মাণের জন্য রাখা ১০০টি নিম্নমানের ইট জব্দ করেন। জব্দ করা ইটগুলোর গায়ে ‘MMR2’ লেখা রয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বোদা উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান বলেন, নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার এজিংয়ের কাজ করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পরে পুলিশের সহায়তা নিতে হয়েছে।
এলজিইডি পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম বলেন, সরকারি রাস্তার কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, সরকারি কাজে বাধা, অর্থ অপচয়, প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।