শহিদুল ইসলাম বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
বান্দরবান-কেরানীহাট জাতীয় মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণ করা কোটি কোটি টাকা মূল্যের জমি অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট, বসতঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও কোথাও রাতের আঁধারেও স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে মহাসড়কের প্রশস্ততা কমে যাচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল। পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশেষ করে বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানজট নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এই ধারাবাহিক দখলের মধ্যেই সুয়ালক বাজারসংলগ্ন সওজের বিশ্রামাগারের সামনে সরকারি জায়গায় রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণের একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। সওজ বিভাগের নিরাপত্তা প্রহরী মো. শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, “সুয়ালকে সওজের জায়গায় একটি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রাজীব বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সেখানে নতুন কোনো ঘর নির্মাণ করা হয়নি। আগে থেকে থাকা একটি ঘর সামান্য মেরামত করা হয়েছে মাত্র।” সওজ সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার। সড়কের উভয় পাশে স্থানভেদে ১০০ থেকে ১৫০ ফুট পর্যন্ত জমি সওজের নামে অধিগ্রহণ করা আছে এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণও পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে এসব জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করার কোনো সুযোগ নেই। অনুমতি ছাড়া নির্মিত যেকোনো স্থাপনাই অবৈধ ও উচ্ছেদযোগ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবান বাজার, বালাঘাটা, ক্যচিংঘাটা, সুয়ালক বাজার, মাঝেরপাড়া রাস্তার মাথা, বাজালিয়া, বুড়ির দোকান ও কেরানীহাটসহ প্রায় প্রতিটি বাণিজ্যিক পয়েন্টেই একই চিত্র। একটি দখলের পর তার আশপাশে আরও নতুন দখল গড়ে উঠছে। ধীরে ধীরে অস্থায়ী স্থাপনাগুলোও স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। এ বিষয়ে বান্দরবান সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “২২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে ১০০ থেকে ১৫০ ফুট পর্যন্ত আমাদের অধিগ্রহণ করা জায়গা রয়েছে। অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন পাওয়া গেলেই আমরা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করব।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা না হলে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে এবং মহাসড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।