দেশে সার উৎপাদনের বড় প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) গেল বছর ৩৫ দিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ হয়েছে। এই ৩৫ দিনে প্রতিষ্ঠানটির ২১৫ জন কর্মী শুধু চা-নাস্তা খেয়েছেন ১ কোটি ২৮ লাখ টাকার। খরচের এখানেই শেষ নেই। আরও আছে খাট-পালঙ্ক, বেডশিট, বালিশ কেনা এবং রেস্টহাউস মেরামতের ব্যয়। এতে খরচ দেখানো হয়েছে আরও ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির নিজের খরচের হিসাব থেকেই এ তথ্য মিলেছে।
সিইউএফএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের ২৬ জুন থেকে ৩১ জুলাই—এই ৩৫ দিন চলে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। এতে মোট খরচ দেখানো হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। এত টাকা ব্যয়ের পর মাত্র চার মাস চলেছে কারখানাটি। এরপর ৩ ডিসেম্বর আবার বন্ধ হয়ে যায় সার উৎপাদন। ৭৯ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর ২০ ফেব্রুয়ারি আবার শুরু হয় উৎপাদন। এই ৭৯ দিনে শুধু সার উৎপাদনে ক্ষতি হয়েছে ন্যূনতম ১৩২ কোটি টাকা। এ ছাড়া অ্যামোনিয়া উৎপাদনের ক্ষতিও আছে। এর পাশাপাশি সিইউএফএল বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারদরে কাফকো থেকে সার কিনতে হয়েছে সরকারকে। ফলে সরকারের ক্ষতি ছিল ত্রিমুখী।
সিইউএফএলের এই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরুর সময় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্বে ছিলেন মো. আবদুর রহিম। যোগাযোগ করা হলে আবদুর রহিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি এখন চাকরিতে নাই। রক্ষণাবেক্ষণের নামে কী হয়েছে, যাঁরা দায়িত্বে আছেন তাঁরাই বলবেন। আমি কিছু বলতে পারব না।’
বর্তমান এমডি আকতারুজ্জামানের দাবি, ‘এই সবকিছু আমার আগের এমডি সাহেবের আমলের। আমি দায় নেব কেন?’ তাঁদের বক্তব্য, সিইউএফএলের যন্ত্রপাতি পুরোনো ও অকেজো হয়ে গেছে। ফলে এ রকম সমস্যা চলতেই থাকবে। তবে এই পুরোনো ও অকেজো জিনিস ঠিক করার জন্য আড়াই শ কোটি টাকা খরচ কেন করা হলো, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা সিইউএফএলের কর্তারা দিতে পারেননি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য দেশি-বিদেশি ২৬০ বিশেষজ্ঞ ও টেকনিশিয়ান নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কোনো বিদেশি বিশেষজ্ঞ আসেননি। দেখা গেছে, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ৫৩ জন দেশের বিভিন্ন কারখানা থেকে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা। এ ছাড়া বাইরে থেকে চার শ শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়, যাঁদের দৈনিক মজুরি গড়ে ৬০০ টাকা। এই খাতে খরচ হয়েছে দেড় কোটি টাকার বেশি। অথচ রক্ষণাবেক্ষণের ৩৫ দিনে সিইউএফএলের ৭২৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সবাই কর্মরত ছিলেন।
স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, সিইউএফএলের অভিজ্ঞ ও স্থায়ী ৭২৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার পরও বহিরাগত ৬৬০ জনকে কেন নিতে হলো? আদৌ কী তাঁরা ছিলেন? নাকি এর অনেক কিছুই খাতা-কলমে? এর জবাবে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আকতারুজ্জমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এগুলো সব সময় হয়। আগের এমডিও তা-ই করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘এ ফ্যাক্টরির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া এটা কোনো সাধারণ ফ্যাক্টরি নয়, এটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি। এখানে প্রায় এক শ কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। হয়তো সে জন্য এত বিশেষজ্ঞ ও টেকনিশিয়ান প্রয়োজন হতে পারে।’
এত খরচ
সিইউএফএলের খরচের হিসাবে দেখা যায়, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা না আসায় তাঁদের জন্য বরাদ্দের ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা খরচ হয়নি। তবে দেশের ৬৬০ জনের দৈনিকভিত্তিক মজুরি, ভাতা, টিফিন ও অধিকাল ভাতা (ওভারটাইম অ্যালাউন্স) খাতে খরচ করা হয় ১৬ কোটি ৯৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় ১৪ জন বিশেষজ্ঞ ও ৫৩ জন অবসরপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ানের দৈনিক মজুরির বাইরে খাওয়া ও সার্ভিস খাতে ব্যয় দেখানো হয় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য ব্যাপার মনে করেন সিইউএফএলের অনেক কর্মকর্তা।
বন্ধ কারখানার জন্য এই রিফ্রেশমেন্ট অ্যালাউন্স যৌক্তিক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইউএফএলের হিসাব বিভাগের একজন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, আসলে অ্যালাউন্স হিসাবে জনপ্রতি দিনে ২ হাজার টাকা করে তাঁরা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন। সিইউএফএলের হিসাব শাখার উপপ্রধান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একই শাখার আরেক উপপ্রধান মোবারক হোসেন অবশ্য বলেছেন, রক্ষণাবেক্ষণের নামে যেসব খাতে টাকা খরচ দেখানো হয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা তাঁর কাছে নেই।
বিশেষজ্ঞের তালিকায় সাবেক এমডি
স্থানীয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে যাঁদের নিয়োগ দেখানো হয়, অভিযোগ আছে, তাঁদের প্রায় সবাই সাবেক এমডি মো. আবদুর রহিমের ঘনিষ্ঠ। দিনে আট ঘণ্টার জন্য ৮ হাজার টাকা অর্থাৎ মাসে ১০ দিন ডিউটির চুক্তিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ করা হয় মো. মনিরুল হককে। বছর দেড়েক আগে তিনি সিলেটের শাহজালাল সার কারখানার এমডি হিসেবে অবসরে যান। মনিরুল হকের বাড়ি ঢাকায় হলেও তিনি বিয়ে করেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। সাবেক এমডি আবদুর রহিমের গ্রামের বাড়িও বাঁশখালীতে। যোগাযোগ করা হলে মনিরুল হক এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সার রক্ষার উদ্যোগ নেই
কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, ঢোকার মুখে সার মজুত রাখার জরাজীর্ণ বাল্ক গোডাউনের চালার টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। এতে মজুত সার নষ্ট হচ্ছে। অথচ রক্ষণাবেক্ষণের সময় রেস্টহাউস মেরামত, খাট-পালঙ্ক কেনা বা ভালো খাবারের খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এ সময় ফুটো টিন পরিবর্তনে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এ বিষয়ে এমডি আকতারুজ্জমান বলেন, সেনাকল্যাণ সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে, শিগগিরই মেরামতকাজ শুরু হবে।
অনিয়ম দুর্নীতির ষোলকলা পূর্ণ করেছেন ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল সারকারখানার সাবেক সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষক ও হিসাব বিভাগীয় প্রধান খোন্দকার মো. ইকবাল। অর্থ-আত্মসাতে তার সঙ্গী হয়েছেন কারখানার সাবেক রসায়নবিদ নেছার উদ্দিন ও স্ত্রী, শ্যালক ও ঘনিষ্টজন এবং অন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও।
এখন ওই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।একাধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইকবাল। শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অনুকূলে ঢাকার দিলকুশা জনতা ব্যাংক শাখার দুটি হিসাব থেকে অর্থ-আত্মসাৎ করেন তিনি। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভুয়া বিল-ভাউচার ও জালিয়াতির মাধ্যমে এ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।
অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তথ্য পেয়েছে আত্মসাতকৃত অর্থে নামে ও বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সার কারখানার সাবেক সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষক ইকবাল। এ ঘটনায় ওই চক্রের বিরুদ্ধে নতুন করে ১১টিসহ ২৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইকবালের নেতৃত্বে চক্রটির বিরুদ্ধে ১৩ কোটি ৬৭ লাখ ৫ হাজার ৪৫৬ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করেছে দুদক।
জানা গেছে, ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা এবং শ্যালক জামসেদুর রহমান মিলে ১২ কোটি ৪৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৩৩ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা মিলে আত্মসাৎ করেছেন ১০ কোটি ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৬ টাকা। স্ত্রী হালিমা আক্তার মেসার্স নুসরাত ট্রেডার্স, মেসার্স টি আই ইন্টারন্যাশনাল ও ইউটোপিয়া প্রোপার্টিজ নামের তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক।
স্ত্রী হালিমা আক্তারের তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে, ৮৬/৪ সিদ্ধেশ্বরী রোড, রমনা, ঢাকা। একই ঠিকানা খোন্দকার ইকবালেরও।
এর আগে, গত বছরের ৪ আগস্ট ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা, শ্যালক জামসেদুর রহমানসহ ওই চক্রটির বিরুদ্ধে ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৪ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আরও ১৫টি মামলা দায়ের করেছিল দুদক। এর মধ্যে মোট ৫২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার ৪৮০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইকবাল চক্র।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ইকবাল সিদ্ধেশ্বরী, বনশ্রীসহ ঢাকার চারটি স্থানে অন্তত ১০টি ফ্ল্যাটের মালিক। কাকরাইল ও মালিবাগ এলাকায় রয়েছে জমিসহ ভবন। এছাড়া ঢাকার বাইরে নিজ জেলা ফেনীতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে তার। দুদকের প্রাথমিক তদন্তেও তার অবৈধ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইকবাল রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতেই ১১শ’ বর্গফুটের পাঁচটি ফ্ল্যাটের মালিক। বনশ্রীতে রয়েছে তার আরও তিনটি ফ্ল্যাট। খিলগাঁও এবং বাসাবোতে রয়েছে আরেকটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট। কাকরাইল ও মালিবাগে জমিসহ ভবনও কিনেছেন তিনি। দুটি ভবন ভাড়া দেওয়া, দুটিতে চালু আছে রেস্টুরেন্ট ও খাবার দোকান, চারটি চেইন সুপারশপ, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রেন্ট-এ কারের মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তার বিভিন্ন ধরনের অন্তত ৪০টি গাড়ি রয়েছে। নিজ জেলা ফেনীর পরশুরাম উপজেলাসহ ফেনীতেও নামে-বেনামে অনেক সম্পদ রয়েছে।
দুদকের দায়ের করা নতুন ১১টি মামলার এজাহারে দেখা যায়, দুদক তদন্ত নম্বর- ১/২২, মামলায় ইকবাল ও তার শ্যালক কুমিল্লার জামসেদুর দুটি চেকে পাঁচ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫৮ টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া ২/২২ নম্বর মামলায় সার কারখানার সাবেক রসায়নবিদ নেছার উদ্দিন আহমদ ও ইকবাল মিলে আরও পাঁচটি চেকে তুলে নেন ৬ লাখ ১৫ হাজার ৩৯১ টাকা। ৩/২২ নম্বর মামলায় ইকবাল ২১টি চেকে একাই এক কোটি ৮৫ হাজার ৬৬২ টাকা আত্মসাৎ করেন। ৪/২২ নম্বর মামলায় সাবেক রসায়নবিদ নেছার উদ্দিন আহমদ ও ইকবাল ছয়টি চেকে ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৫২ টাকা আত্মসাৎ করেন। ৫/২২ নম্বর মামলায় মেসার্স নুসরাত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী স্ত্রী মোছা. হালিমা আক্তার ও তার স্বামী ইকবাল মিলে ১৮টি চেকে চার কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ৭৭০ টাকা আত্মসাৎ করেন। ৬/২২ নম্বর মামলায় ইকবালের স্ত্রীর মালিকানা টিআই ইন্টারন্যাশনালের নামে ছয়টি চেকে তিন কোটি ৫ লাখ ৬৮ হাজার ২৫৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। ৭/২২ নম্বর মামলায় ইকবাল তার শ্যালক জামসেদুরের প্রতিষ্ঠানের নামে দুটি চেকে আরও ৬৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৫ টাকা আত্মসাৎ করেন। ৮/২২ নম্বর মামলায় নোয়াখালীর হেলাল উদ্দিনের মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ দিয়ে চারটি চেকে ৯৫ লাখ ৮১ হাজার ৩২৭ টাকা আত্মসাৎ করে নেন। ৯/২২ নম্বর নিজের নামে একটি চেকে ২ লাখ ৬ হাজার ১৫০ টাকা আত্মসাৎ করেন ইকবাল। ১০/২২ নম্বর মামলায় স্ত্রীর মালিকানা আরেকটি ইউটোপিয়া প্রোপারটিজ দিয়ে চারটি চেকে দুই কোটি ৩৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৬১ টাকা আত্মসাৎ এবং ১১ মামলায় ঢাকা মিরপুরের মাসুদ রানার মালিকানাধীন সানসাইন আইটি সল্যুউশন প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ইকবাল আরও দুটি চেকে চার লাখ ৮৬ হাজার ৪৯৫ টাকা আত্মসাৎ করেন।
মামলায় আরও অভিযুক্তরা হলেন- ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নুসরাত ট্রেডার্স, মেসার্স রাফি এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. নুরুল হোসেন, ফাল্গুনী ট্রেডার্সের এমডি এএসএম ইসমাইল খান, মেসার্স আয়মান এন্টারপ্রাইজের মালিক সাইফুল হক, মেসার্স এন আহমদ অ্যান্ড সন্সের মালিক নাজির আহমদ (বচন), মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হেলাল উদ্দিন, মেসার্স সাকিব ট্রেডার্সের মালিক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটের উপ-পরিচালক মো. নূর-ই-আলম বলেন, ‘দুদকের প্রাথমিক তদন্তে ইকবাল, তার স্ত্রী হালিমা, শ্যালক জামসেদসহ চক্রটির অবৈধ সম্পদের প্রমাণ মিলেছে। তবে, ইকবালের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। চক্রটির বিরুদ্ধে ৫২ কোটি টাকা আত্মসাতে মোট ২৬টি মামলা হয়েছে। ’
সুত্র: আজকের পত্রিকা, ভোরের পাতা ও বাংলা নিউজ