1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
কমিশন বাণিজ্যে শতকোটির মালিক চট্টগ্রাম পাউবো’র তানজির! টাকার নেশায় বিচ্ছেদ সংসারও - পূর্ব বাংলা
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ৪৬৫তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত কমিশন বাণিজ্যে শতকোটির মালিক চট্টগ্রাম পাউবো’র তানজির! টাকার নেশায় বিচ্ছেদ সংসারও কোস্ট গার্ডের অভিযান মায়ানমারে পাচারকালে সারসহ ৬জন আটক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোরে গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করা প্রাক্তন শিক্ষককে চট্টগ্রাম বন্দর কলেজে সংবর্ধনা প্রদান পতেঙ্গা এখন দখলদার ও গাজাখোরদের আস্তানা: সিডিএ, চসিক ও জেলা প্রশাসনের চরম দায়িত্বে অবহেলায় কোটি কোটি টাকার হরিলুট! ১ নং করেরহাটে অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলাল হোসেন সিরাজের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে ছাত্রদল নেতা ছবুর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান ২৭ তম রাফি স্মৃতি আর্ট কম্পিটিশনে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে শিল্পচর্চার কোনো বিকল্প নেই আমার দেখা সিন্দুরমতি দীঘি

কমিশন বাণিজ্যে শতকোটির মালিক চট্টগ্রাম পাউবো’র তানজির! টাকার নেশায় বিচ্ছেদ সংসারও

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

শাহীন আহমদ ও হা. মু. চৌধুরী

জনরোষে পতিত ফ্যাসিবাদ সরকারের অনৈতিক সুবিধাভোগী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। তৎকালীন মন্ত্রী, সচিব ও উর্ধ্বতন আমালাদের ম্যানেজ করে চালিয়ে যাওয়া বেপরোয়া কমিশন বাণিজ্য এখনো অব্যাহত আছে বলে জানা গেছে। আর এসব অনৈতিক অর্থে তিনি ভোগ করছেন বিলাসী জীবন। অন্যদিকে তার এসব কাজে সরকারের অপচয় হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরের দূর্নীতির রেসের ঘোড়া এখনি তাকে থামানো না গেলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা মুশকিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, প্রকৌশলী তানজীর সাইফ ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, মন্ত্রী পরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, আইইবির সাবেক সভাপতি ও দাউদকান্দির এমপি ইঞ্জিনিয়ার সবুর সহ অনেক এমপি মন্ত্রী ও সিনিয়ির আমলাদের আস্থাভাজন। সেই সম্পর্কের প্রভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তিনি দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছেন। সেই ফ্যাসিবাদ সরকার পতনের এক বছর অতিক্রম করলেও তানজীর সাইফের কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতি অব্যাহত আছে সমানতালে। বরং ক্ষেত্রবিশেষ কমিশনের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়াও তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাপ-দাদা-নানার সম্পত্তি হিসেবেও মনে করেন। কারণ তার বাবা ও নানাও পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরীর সুবাদে দূর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন। আর তাদেরই উত্তরসুরী হিসেবে তানজীর তাদের কুকীর্তিকে  চাপিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।তিনি নিঃসন্তান হলেও ধন সম্পত্তির লোভে সদা ব্যস্ত থাকেন। অথচ তিনি বলে বেড়ান আমাার খাবার কেউ নেই আমি অন্যায় ভাবে উপার্জন করিনা ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২ দফায় কাজের মূল্যের উপর ৮ শতাংশ কমিশন দিতে হয় তানজীর সাইফকে। প্রথমে ৫ শতাংশ পরে বিল ছাড়ের সময় আরো ৩ শতাংশ। যে ঠিকাদার এই কমিশন দিতে রাজি হবে সেই কাজ পাবে আর যারা দিতে রাজি হবেনা তারা টেন্ডারে অংশ নিলেও কাজ পাবে না। আর পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে দফায় দফায় টেন্ডারের শর্ত পরিবর্তণ করা হয়। সম্প্রতি কমিশন বাণিজ্য ঠেকাতে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (৯৫৮৪/২৫) দায়ের করছেন এক ঠিকাদার। রিটে তানজীরকে ৩ নং বিবাদী করা হয়েছে। ৪ নং বিবাদী করা হয়েছে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রপার্টি ডেভলাপমেন্ট লিমিটেডকে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাপরিচালককে যথাক্রমে ১ ও ২ নং বিবাদী করা হয়েছে।

কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ ও এইচএমসিএল (জেভি) এর পক্ষে মো. হারুন অর রশিদ এর দায়ের করা রিট পিটিশনে বলা হয়েছে, টেন্ডার প্যাকেজ নং   ২০২৪-২০২৫ এর আওতায় বাঁশবারিয়া (সীতাকুণ্ড) ফেরিঘাট ও সংযুক্ত রাস্তার টেন্ডারে (আইডি নং ০৯৪৮৪৩) (অহহবীঁৎব-অ) অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। অনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে তার অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছে। ৩ নং বিবাদী কর্তৃক প্রকাশিত ও ৪ নং বিবাদীর অনুকূলে প্রদানকৃত টেন্ডার কেন অবৈধ ও আইনগত কার্যকারিতা শূন্য বলে ঘোষণা করা হবে না।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকা অবস্থায় তাদের আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে হাজার কোটি টাকার কাজে ঘুষ বাণিজ্য করলেও তার কোন তদন্ত বা বিচার হয়নি। আবার বর্তমান সময়ে এসে সেই অনৈতিক বাণিজ্য অব্যাহত থাকলেও কারো কোন টু শব্দ নেই। তানজীর বর্তমানে সন্দ্বীপে বেড়িবাঁধ প্রকল্পের ৫৬২ কোটি ২১ লাখ টাকার কাজের দ্বায়িত্বে রয়েছে। খাগড়াছড়িতে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য ড্রেজিং, নদী পুনঃখনন ও চর অপসারণ এবং তীর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সরকারের ৫৮৬ কোটি টাকার প্রকল্প তার অধিনেই চলমান।
সুত্র জানায়, তাঁর অধিনে অতীতে বাঁশখালীর কদমরসুল প্রেমাশিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় ৩শ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে কাজ শেষের এক বছরের মধ্যে ওই বেড়িবাঁধ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়াও কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডে থাকা অবস্থায় সে কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার মহেশখালী মাতারবাড়ি, ধলঘাটা, কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরং এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরিন ড্রাইভ রোডে জিও ব্যাগ প্রকল্পের কাজে কয়েক হাজার কোটি টাকার কাজে ব্যাপক দুর্নীতি করেন প্রকৌশলী তানজীর সাইফ।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী তানজীর সাইফ রিট পিটিশনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ইজিপি টেন্ডারের শর্ত পূরণ করতে না পেরে একজন ঠিকাদার রিট করেছেন, আমরা আমাদের জবাব দিয়েছি।

অপর একটি সুত্র জানায়, ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ তুললে, তাদের পরিণতি হতো ভয়াবহ। এমনকি খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তাও তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেতো না। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের নেতারা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি খোলস পাল্টে প্রভাবশালীদের হাত ধরে আগের সকল অপকর্মগুলো ধামা চাপা দিয়ে এখনো সমান তালে চালাচ্ছেন অপকর্ম। তার অনৈতিক ফায়দার ভাগ সরকারের প্রভাবশালী কারো পকেটে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

এদিকে দূর্নীতি করে সম্পদ অর্জন করা ও দিনরাত টাকার নেশার কারণে তার নিজের সংসার বারবার বিচ্ছেদ হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।নিউজ সংশ্লিষ্ট  বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী তানজীরকে ফোন করা হলে তিনি ফোনে কোন কথা না বলে প্রতিবেদককে তার অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla