1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
ঠিকাদারের যোগসাজশে ফুলে ফেঁপে সিডিএ প্রকৌশলী রাজিব ? পাঁই পাঁই করে বুঝে নেন কমিশন - পূর্ব বাংলা
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রেলস্টেশনই ছিল যার ঠিকানা ঠিকাদারের যোগসাজশে ফুলে ফেঁপে সিডিএ প্রকৌশলী রাজিব ? পাঁই পাঁই করে বুঝে নেন কমিশন বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গত ৩০০ পরিবারের পাশে প্রগ্রেসিভ ফ্রেন্ডস রাউজানে বন্যা দুর্গতদের পাশে এমপি হুমাম কাদের চৌধুরী স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ২৩ বরিশালে থানায় হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১৮ কক্সবাজারে পাহাড় থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার সেন্টমার্টিনে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আসল ইসলাম জ্ঞান বিজ্ঞান মানবতার শিক্ষা না থাকায় বিকৃত জীব তৈরির আখড়া হয়ে গেছে প্রায় সব মাদ্রাসা-আল্লামা ইমাম হায়াত রেলওয়ের এ কেমন টেন্ডার প্রক্রিয়া!

ঠিকাদারের যোগসাজশে ফুলে ফেঁপে সিডিএ প্রকৌশলী রাজিব ? পাঁই পাঁই করে বুঝে নেন কমিশন

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রায় ৯ কিলোমিটার বাঁধ কাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি হাতে নেয় সিডিএ। ২০১৮ সালের অক্টোবরে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেই থেকে ‘কচ্ছপগতিতে’ চলমান প্রকল্পের চার দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। কিন্ত এরেই মধ্যে নির্মাণকাজ শুরুর ৮ বছর পার হলেও শেষ করতে পারেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ১২টি খালের মুখে জোয়ার-ভাটা প্রতিরোধক রেগুলেটর ও পাম্পহাউস স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাকলিয়ার বলিরহাট, কল্পলোক এলাকার রাজাখালী খাল ও এর দুটি শাখা খাল, দুটি সাব-খাল, ফ’য়স খাল, নোয়াখালী খালের মুখে পাইলিং ও বেইজ ঢালাই করে রেগুলেটর ও পাম্পহাউস স্থাপন করা হয়েছে।

জানা গেছে, সিডিএ’র অধীনে নির্মিত ২৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই খালের মুখে রেগুলেটরের ভিমে ফাটল, পানি প্রতিরোধের জন্য বসানো ব্লক ভেঙ্গে গেছে অনেক জায়গায়। সরেজমিনে দেখতে গিয়েও এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, সিডিএ গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে কর্মকর্তা ও নির্বাহী প্রকৌশলী (আইপি) রাজীব দাশ ও ঠিকাদার মিলে কাজে চরম অনিয়ম-দুর্নীতি করছে। প্রকল্পে নতুন ও মানসম্পন্ন ইট এবং বালুসহ অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা করছে না। কেনো ভাবেই তারা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছে না। এবং প্রকৌশলীর যোগসাজশে ঠিকাদার বিল হাতিয়ে নিচ্ছে।

দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে পুরোনো ভবনের পচাঁ ইট, পলেস্তরা, রাবিশ ও মাটি ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এসব নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করলেও সিডিএ থেকে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এই প্রকল্পের পিডিও বেশ মোটাতাজা হয়ে গেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছেন প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা প্রকৌশলী রাজিব দাশ। তার সঙ্গে ঠিকাদারের সংখ্যতা ও কমিশন বাণিজ্যর কারণে দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে এখনো পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

এলাকাবাসী জানান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও ঠিকাদাররা যোগসাজশে বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েছে মূলত সরকারি অর্থ লোপাট করার জন্য। প্রকল্প নেওয়ার আগেই প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় নির্ধারিত থাকে। সেই অনুসারে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয় না কেন? তিন থেকে চারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হবে কেন? এর কারণ হচ্ছে প্রকল্পে অনিয়ম আর হরিলুট করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা জানান , নানা জটিলতায় কাজ চলছে ধীরগতিতে, ২৭৭৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১৭০ একর জমি একোয়ার করেছে সিডিএি। এরমধ্যে ৮০ শতাংশ জমি সরকারি মালিকানাধিন বন্দরের। বাকী ২০ শতাংশ (৩৪ একর) জমির মধ্যে এই পর্যন্ত ৮০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাকিগুলো একোয়ারের প্রক্রিয়া চলমান। ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ কাম সড়ক প্রকল্পটির নিচের অংশে ২৫০ থেকে ৩০০ ফুট প্রস্থ এবং ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতা হবে। ফলে এটি শহর রক্ষা বাঁধ হিসেবে কাজ করবে।

কিন্তু এখানে নির্মাণ সামগ্রী থেকে শুরু করে বালি, সিমেন্ট, লোহা, কংক্রিট সবকিছুতে নিদিষ্ট গ্রেডের চেয়ে নিচুমানের বা গ্রেডের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে পিডি সংশিষ্টতায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শত শত কোটি টাকা দূর্নীতি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল একনেক সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২০ সালে শেষ করার কথা ছিল। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুনে শেষ করার কথা থাকলেও আবারও সময় বাড়ানোর আবেদনের ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু বর্তমানে ২০২৬ সালের জুন মাস শেষের দিকে হলেও এখন পর্যন্ত শতভাগ কাজ শেষ করতে পারেনি।

ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে ব্যয় ৪৬৯ কোটি টাকা বেড়ে ২ হাজার ৭৭৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মিলে আবারো ব্যয় বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দফতরে দৌড়ঝাঁপ করার পায়তারা করছে। ইতিমধ্যে প্রকল্প পরিচালক রাজিব দাশ শুধুমাত্র এই একটি প্রকল্প থেকে ৫% হারে কমিশন বানিজ্যের মাধ্যমে শত কোটি টাকার উপর অবৈধ আয় করেছে বলে জানা গেছে।

এর আগেও ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আবদুচ ছালামের ঘনিষ্ঠজন থাকার কারণে তাকে বড় বড় প্রকল্পগুলোর পিডি করা হয়েছিলো। এবং সাবেক এই চেয়ারম্যানের হয়ে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের ঠিকাদারদের থেকে টাকা কালেক্টর হিসেবেও রাজীব বিশ্বস্ত ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে জান গেছে। এবং সেইসব প্রকল্প থেকেও বড় অংকের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার, বিভিন্ন ডেভলপারের সাথে পার্টনারে ব্যবসা, সৈয়দ শাহ রোড ফ্রেন্ডস টাওয়ার ও বনিক গ্রুপে টাকা লগ্নিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এই বিষেয় জানার জন্য প্রকৌশলী রাজীব দাশের মুঠোফোনে ফোন ও মেসেজ দিলেও কোন প্রকার সাড়া দেননি। জানা গেছে, বিশেষত অজানা কোন গণমা্ধ্যম কর্মী তাকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন না। ফলে তার বক্তব্য রিপোর্টে সংযুক্ত করতে চাইলেও সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla