
বিশেষ প্রতিনিধি
সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি বিএম গেইট এলাকার মীর ব্রিকফিল্ড রোডের গোয়ালিনী ফ্যাক্টরির সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার জমজমাট জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর দাবি, দিনের পাশাপাশি রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও জমে ওঠে এই জুয়ার আসর। প্রতিদিন শত শত জুয়াড়ির সমাগমে এলাকাটি কার্যত অপরাধপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিউল ও ইব্রাহিম নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এ জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিভিন্ন ধরনের জুয়ার খেলা। এর মধ্যে ফেলাশ খেলা, কাইট খেলা, পয়সা খেলা ছাড়াও আরও কয়েক ধরনের জুয়া প্রকাশ্যে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিদিন এসব খেলায় লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয় এবং দূর-দূরান্ত থেকেও খেলোয়াড়রা সেখানে অংশ নিতে আসেন।এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে অভিযুক্ত রবিউল ও ইব্রাহিমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার এই আসরকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় মাদকের বিশাল বেচাকেনা গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। এলাকাবাসীর ভাষ্য, জুয়ার বোর্ডে প্রতিনিয়ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী যাতায়াত করে এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।অভিযোগ রয়েছে, জুয়ার বোর্ডে প্রবেশের বিপরীত পাশে একটি বড় মদের কারখানা রয়েছে। এছাড়া জুয়ার বোর্ডের পাশেই একটি গরুর খামারের সঙ্গে থাকা বুড়ির ঘরে দেশীয় অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্যমতে, ওই এলাকাটি এখন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অপরাধীদের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীরা সেখানে এসে আড্ডা দেয় এবং অস্ত্র বহন করে। এমনকি চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিও ওই স্থান থেকেই নেওয়া হয় বলে দাবি তাদের। এছাড়া জুয়ার আসরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, মাদক কারবারি, ডাকাত, চোর ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, সীতাকুণ্ড থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন ধরে এই জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে। তাদের দাবি, একাধিকবার বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ওই জুয়ার আসরের নিয়মিত খেলোয়াড় বলে পরিচয় দেন, দাবি করেন, এই জুয়ার ঘরের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেবে না, কারণ প্রতিদিনই নাকি মোটা অঙ্কের টাকা সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও অর্থ পৌঁছায়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, তাদের কাছে এমন কিছু অডিও রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র রয়েছে যেখানে দেখা যায় শত শত খেলোয়াড় ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটের বান্ডিল নিয়ে প্রকাশ্যে জুয়া খেলছেন। এসব ভিডিও ও অডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর কাছেও পৌঁছেছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ভিডিওসহ এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। এছাড়া আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর সীতাকুণ্ড থানার একজন এসআইসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার না করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন- সীতাকুন্ড থানা পুলিশের সাথে জুয়া/ মাদকের কোনো সম্পর্ক নেই।এসব নিয়ন্ত্রনে সীতাকুন্ড থানা পুলিশ জিরো টলারেন্সে বদ্ধ পরিকর।কোথায় কখন কোন এলাকায় জুয়া বসে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন।সীতাকুন্ড থানা পুলিশ ২৪ ঘন্টা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে আপনাদের পাশে থাকবে।আর এই পিকের ঘটনাস্থল সীতাকুন্ড থানার বাইরে লোকেশন দেখলেই বুঝবেন।এই পিকটা পুলিশ সুপার স্যার দেয়ার পর অভিযান করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।তবে সোর্স আর স্থানীয়রা জানায় বিএমএ গেটের দুরে পয়েন্ট ২৪,নামক পাহাড়ী এলাকা যাহা হাটহাজারী পাহাড়ী এলাকায় সংলগ্ন। ২৪ সালে কেউ এই জুয়া চালাত বাট তার পর থেকে ঐ এলাকায় আর হয় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে জুয়ার আসর, মাদক কারবার, অস্ত্রের মজুদ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় স্থায়ীভাবে আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।