
প্রধানমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী ও রেলওয়ের ডিজির হস্তক্ষেপ কামনা
বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ রেলওয়ের এক টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে রহস্যজনক লুকোচুরি । আর এই লুকোচুরি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত রয়েছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট । যে সিন্ডিকেট এক দশকেরও বেশি সময় যাবত নিয়ন্ত্রণ করে আসছে টেন্ডার প্রক্রিয়া।
এই সিন্ডিকেটটা এতই শক্তিশালী যে তাদের সিন্ডিকেটের বাইরে টেন্ডার প্রক্রিয়ার সাথে নতুন কোন কোম্পানির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উপক্রম হলে তারা ওই টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং কোম্পানির নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া নানা অজুহাতে বাঁধাগ্রস্থ করে। ক্ষেত্র বিশেষ টেন্ডার ওপেন হলেও সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় না ।
আমাদের বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জোনের সিসিএস পাহাড়তলীতে ” ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমেোটিভ স্পেয়ার পার্টস ” সরবরাহের জন্য ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর অভিজ্ঞ ও দক্ষ কোম্পানির নাম অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জোনের আওতাধীন পাহাড়তলী স্টোর এর প্রধান নিয়ন্ত্রক ফরিদ আহমেদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে নাম অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর দুপুর ২ টা থেকে এবং শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর দুপুর ১২ টায় । এছাড়া আবেদনপত্র উন্মুক্তকরণের সময় ও তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের ৮ই অক্টোবর দুপুর সাড়ে বারোটায় । ধার্যকৃত তারিখ ও সময়সীমার মধ্যে সর্বমোট ৫৪ টি কোম্পানি নাম অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য আবেদন করে। নানা অজুহাতে নাম অন্তর্ভুক্তকরণের এই টেন্ডারটি ৭ বার পিছানো হয়। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর দুপুর সাড়ে বারোটায় টেন্ডারটি ওপেন করা হয় ।
কিন্তু দুর্ভাগের বিষয় দেড় বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও নাম অন্তর্ভুক্তি দূরে থাক এখনো পর্যন্ত এই আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কারণ হিসেবে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ” দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় যাবত ঢাকা ও চট্টগ্রামের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট একচ্ছত্রভাবে তাদের পছন্দের কোম্পানির মাধ্যমে ” ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এসপেয়ার পার্টস ” সরবরাহ করে আসছে। আর এই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত আছে রেলওয়ের অনেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা । যারা বছরের পর বছর ওইসব কোম্পানি থেকে মোটা অংকের কমিশন পেয়ে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাম অন্তর্ভুক্ত এর জন্য আবেদন করা বিভিন্ন কোম্পানির কর্ণধাররা বলেন,” কবে আমাদের এই প্রতীক্ষার অবসান হবে আমরা জানি না। অদক্ষ এবং অযোগ্য কোম্পানির নিম্নমানের সামগ্রীর সরবরাহের সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে রেলওয়ের যে সমস্ত কর্মকর্তা মোটা অংকের অর্থ পেয়ে আসছেন তারাই নাম অন্তর্ভুক্ত করণের প্রক্রিয়াটিকে আটকে রেখেছেন বছরের পর বছর। তালিকাভুক্ত পুরনো প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্ণধারদের মধ্যে অনেকেই এই টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় নতুন করে টেন্ডার করার জন্য জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে । টেন্ডার নিয়ে এই অনিয়ম বন্ধের ব্যাপারে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী ও রেলওয়ের ডিজির হস্তক্ষেপ কামনা করছি”।
এই ব্যাপারে জানর জন্য সিসিএস বেলাল সরকারের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন যাবত জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে থাকা এই সিন্ডিকেটের মূলোটপাটন না করলে সরকার রাজস্ব বঞ্চিতের পাশাপাশি দক্ষ ও যোগ্য কোম্পানিগুলো রেল বিমুখ হয়ে পড়বে।