
মাহমুদুল হক আনসারী
দুর্নীতির ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্নীতি একটি ব্যাপক ভাবে অপরাধবোধক শব্দ। এই দুর্নীতি গ্রাস করছে সমাজকে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ছেঁয়ে গেছে। দুর্নীতি গ্রাস করেছে রাজনীতি থেকে প্রশাসন, কর্মী থেকে নেতা। নেতা থেকে দল পর্যন্ত। দলের আদর্শ চরিত্র যাই লেখা থাকুক না কেনো, বাস্তবে কর্মী ও নেতার চরিত্রের মধ্যে সংবিধানের চরিত্র খোঁজে প্ওায়া যায় না। রাজনীতির আদর্শ দেশ জনগনের কল্যানের কথা ছিলো। বর্তমান রাজনীতি কর্মী নেতা ও দলের কল্যানের কথা ভাবে। দেশ ও জনগনের চিন্তার কথা কমভাবে ভাবা হয়। সাধারণ জনগন কী চায়, কেনো চায়, কী প্রয়োজন সব কিছুর চিন্তা সমাধান কীভাবে হবে সেই চিন্তা এখনকার রাজনীতি ও দলের মধ্যে গুরুত্তের সাথে চিন্তা করা হচ্ছে না।
দলীয় সুবিধা, নেতাকর্মীর ভালো মন্দ ব্যবসা চিন্তা করে দলীয় সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়। আম জনগনের চিন্তা জাতীয় উন্নয়ন, অগ্রগতি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা দলের উর্ধ্বে নেতাকর্মীর স্বার্থের বাইরে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে হয়। আমাদের দেশ স্বাধীনতা অর্জনের অর্ধশতক বছর অতিবাহিত করেছে। একটি দেশের সেই সময়ের জুলুম, অত্যাচার, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। আলাদাভাবে মানচিত্র তৈরি করেছে। পৃথিবীর বুকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বী কৃতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” হিসেবে নিজস্ব স্বকিয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই ৫৪ বছরের বাংলাদেশ আজ বিভিন্ন ভাবে সফলতা অর্জন করেছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মানচিত্রের পরিচয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের পরিচিতি আর পাসপোর্ট নিয়ে অর্ধশতের বেশি দেশে বাংলাদেশের নাগরিক সুনামের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সেই দেশে মাতৃভূমি বাংলাদেশের সুনাম অর্জন করে যাচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহলে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ হিসেবেও পরিচিতি অর্জন করছে। বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে গভীরভাবে চিন্তা বিশ্লেষন করা হয়। এই দেশের স্বাধিনতার অর্ধ্বশত বছর পার করল্ওে বাংলাদেশ উন্নতি, অগ্রগতি, মানবকল্যান, মানবাধিকার, দুর্নীতির পরাজয় হ্ওয়ার কথা ছিলো সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ছোট এই দেশটিতে শতাধিক রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম আছে। বৃহৎ আকারের কয়েকটি রাজনৈতিক দল বারবার ক্ষমতার মসনদ ব্যবহার করেছে। বারবার তারা সরকার গঠন করেছে। দীর্ঘ বছরের এই বাংলাদেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলেই শাসন করেছে। এই সময়ে বাংলাদেশের যে পরিমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উন্নতি সফলতা অর্জিত হওয়ার কথা ছিলো সেটি হয়নি। উন্নতির পরিবর্তে হয়েছে পাহাড় পরিমান দুর্নীতি। নেতাকর্মী দল হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে সফল হয়েছে। বিপরীত দিকে দেশ ও সাধারণ মানুষ দেউলিয়া হয়েছে। লুটপাট হয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক খাত। ফলে দেশের আম জনগন নিঃশেষ হয়েছে। দেউলিয়ার পথে ব্যাংক খাত। জনগনের অর্থ রাজনৈতিক নেতা তাদের সমর্থিত ব্যবসায়িদের পকেট ভর্তি হয়েছে। দেশ থেকে পাচার হয়েছে হাজারো লাখো কোটি টাকা। এইসব অর্থ দেশ ও জনগনের। অপরিপক্ষ রাজনীতি, দুর্নীতিগ্রস্থ লোভী নেতা কর্মী নির্দিষ্ট সংখ্যক অসৎ মানুষের কারণে। দেশ আজ অর্থনীতি ও রাজনীতিসহ মানবতা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়।
রাজনীতিতে দুর্নীতি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকে চলে আসছে। এটি আজকের সময়ে আরো শক্তিশালী হয়েছে। নতুন নতুন রাজনৈতিক দল গোছালো সুন্দর সুন্দর মন ভোলানো বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের সহজ সরল জনগনকে বারবার বোকা বানাচ্ছে। বাস্তবে দীর্ঘ এই সময়ে এই দেশের রাজনীতি দলের নেতাকর্মী থেকে শোষন আর নিষ্পেষন ছাড়া কিছুই পায়নি। সোনার বাংলাদেশ নামে নয় বাস্তবে। কিন্তু সেই বাংলাদেশ আজ বারবার বিভিন্ন দলের নিকট লুটপাটের শিকার। গনতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র, জুলুমবাজ, একনায়েকতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। ভোটাধিকার মানবাধিকার হরন হয়েছে। লুটপাট দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে আজকে যেই স্থানে পৌছানোর কথা ছিলো সেই স্টেশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে এই দেশের তথা কথিত রাজনীতি ও দুর্নীতি। এই রাজনীতি আর দুর্নীতি থেকে জাতিকে সরে আসতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগনকে সচেতন হতে হবে। ভোটের নামে প্রহসন প্রতিরোধ করতে হবে। নমিনেশন বেচা বিক্রির মাধ্যমে অযোগ্য লোককে যোগ্য সাজিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক লুটপাট থামিয়ে দিতে হবে। সৎ যোগ্য আদর্শিক নেতাকর্মীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় জনগন। দুর্নীতি নয়, স্বাজনপ্রীতি নয় সঠিক পন্থায় দেশ ও জনগনের কল্যানে পরিচালিত হোক রাজনীতি।