1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
গৌরবের ভাষার মাস - পূর্ব বাংলা
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৭:২৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

গৌরবের ভাষার মাস

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  • ২৮৭ বার পড়া হয়েছে

মাহমুদুল হক আনসারী

গৌরবের ভাষার মাস শুরু হয়েছে। বাঙালি জাতির রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার মাস। পাকিস্তানি ভাষা উর্দুর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন প্রতিষ্ঠা হয়। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন না হলে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা হতো না। ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে বাঙালি জাতি। শহিদ হয়েছে অনেক তাজা প্রাণ। ভাষা শহিদ রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত আরো অনেক। তাদের রক্ত এবং আন্দোলনের সিড়ি বেয়ে আজকের বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষা এখন শুধু বাঙালি জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জাতিসংঘের মাধ্যমে বাংলা ভাষা পৃথিবী ব্যাপী বিস্তৃতি লাভ করেছে। মাসব্যাপী বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা উপজেলা শহর নগর সবখানে, বাংলা ভাষার গৌরব ইতিহাস তুলে ধরে আলোচনা সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি জেলায় কোভিড-১৯ এর মধ্যেও ছোট পরিসরে বইমেলা অনুষ্ঠান হবে বলে জানা যাচ্ছে। ভাষা বাঙালি জাতির গৌরব। বাংলা ভাষা অর্জনের জন্য পৃথিবীতে রক্ত দেওয়ার মতো জাতি বিরল। বাঙালি জাতি রক্ত দিয়ে বাংলা ভাষা অর্জন করেছে। এ অর্জন দুনিয়াব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। বাংলা ভাষার মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকার প্রধান , অপরাপর সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ বিদেশের মাটিতে সভা সেমিনারে বাংলা ভাষা দিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বাংলা ভাষার প্রচার প্রসার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ মাসব্যাপী বাংলা ভাষার ব্যাপক চর্চা অনুশীলন অনুষ্ঠিত হবে। হাজার হাজার লেখক তাদের মূল্যবান প্রবন্ধ নিবন্ধ কবিতা নাটিকা লিখে প্রতি গ্রহণ করে রেখেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম অন্যান্য জেলা উপজেলায় অনুষ্ঠিতব্য বইমেলা গুলোতে লেখকদের হরেক রকমের বই প্রকাশের জোর প্রতি অব্যাহত আছে। মহামারীর মধ্যে স্বাস্হ্যবিধি মেনে বইমেলা অনুষ্ঠান যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হউক। সে প্রত্যাশা লেখক, পাঠক , আয়োজক সকলেই আশা করছে। বইমেলাকে আকর্ষণীয় এবং প্রাণবন্ত করতে কর্তৃপক্ষের সব ধরনের সহযোগীতা করা দরকার। নানা আঙ্গিকের বই বের করতে গিয়ে লেখকগণ অনেক ভাবে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়ে থাকেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মন্ত্রণালয় লেখকদের সৃজনশীল বই, নিবন্ধ, প্রবন্ধ প্রকাশে সহযোগীতা পেলে বাংলা ভাষা আরো সমৃদ্ধি অর্জন করবে। ভাষার মাস আসলে বাংলা ভাষা নিয়ে লেখকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বাংলা চর্চা অনুশীলন নিয়ে বাংলায় গবেষণা বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক , সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলা ভাষা নিয়ে কথা বলেনা। সরকারের মন্ত্রণালয় থেকেও নানা সার্কুলার প্রজ্ঞাপন চোখে পড়ে।মায়ের ভাষা বাংলা ভাষা। এ ভাষায় কথা বলতে পারা গৌরবের ।
পৃথিবীতে অনেক ভাষাভাষী মানুষ বাস করে। যার যার ভাষা তার জন্য মর্যাদাবান। কোনো ভাষা ছোট নয়। সৃষ্টির সেরা মানবজাতি। মানব সমাজ নিজের চিন্তা-চেতনা মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য ভাষা ব্যবহার করে। ভাষার ব্যবহার পৃথিবীর শুরু থেকে ছিলো। এখনো আছে , ভবিষ্যতেও থাকবে। সব ভাষা জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেনা। একটা দেশে অনেক ধরনের ভাষাভাষী জনগণের বসবাস হলেও সেখানে স্হানীয়  এবং জাতীয়ভাবে বহু ভাষার প্রচলন চলতে থাকে। তন্মধ্যে একটি মাত্র জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে। জাতীয় ভাষার মাধ্যমে অফিস আদালত শিক্ষা, সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পায়। স্থানীয়ভাবে জেলা উপজেলায় বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে স্হানীয় ভাষা প্রচলন দেখা যায়। স্হানীয়ভাবে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর ভাষা আছে এবং থাকবে। সেগুলো আঞ্চলিক ভাষা হিসেবে আমরা জানি। এসব ভাষা আমাদের সংস্কৃতি হিসেবে চালু আছে। এগুলো থাকবে। এসব ভাষা সংস্কৃতি, কালচার নিয়ে বাঙালি জাতি। বাঙালি জাতির হাসি খুশি , আনন্দ-উৎসব ঐতিহ্য বাংলা ভাষা নিয়ে। আঞ্চলিক ভাষাতেও আমাদের দেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আঞ্চলিকভাবে হয়ে থাকে। কোনো কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জাতীয়ভাবেও পালিত হয়। বাঙালি জাতি তার সংস্কৃতি ঐতিহ্য আদর্শ নিয়ে বেঁচে আছে। আগামীতে এ সংস্কৃতি সভ্যতা কালচার দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাবে। ভাষার জন্য বাঙালি জাতির অবদান ত্যাগ কখনো ছোট করে দেখার মতো নয়। স্বাধীনতার আজকের এ বয়সে ভাষা দিবস এবং বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধি ও প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক লেখক বুদ্ধিজীবি তাদের অমূল্য মতামত এবং পরামর্শ রেখে গেছেন। বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রীয় যত ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে সবগুলো প্রতিষ্ঠান বাংলাকে সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠার জন্য অবিরাম ত্যাগ দিয়ে যাচ্ছে। তাদের চেষ্টা ও প্রচেষ্টার সুফল হচ্ছে আজকের বাংলা ভাষার এ অবস্থান। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাকে নিয়ে গবেষণা, কর্মসূচি, প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন না করলে এভাবে মায়ের ভাষা সমাদৃত ও প্রতিষ্ঠিত হতো না। তাই এসব কর্মকান্ডে যারাই কাজ করছেন সকলের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছি।
এখনো পর্যন্ত যে সকল প্রতিষ্ঠান মায়ের ভাষার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সর্বস্তরে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করেনি, তাদেরকে বলবো মায়ের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করুন। মায়ের ভাষায় কথা বলুন। লিখুন, পড়ুন, ব্যবসা-বানিজ্য হিসেবে নিকেশে সব জায়গায় মায়ের ভাষাকে অগ্রাধিকার দিন। বিদেশি ভাষা যা আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে বেশি প্রচলিত তাও আমাদের সন্তানদের শিক্ষা দিতে হবে। আমার ভাষা আগে অর্জন , পরে বিদেশী ভাষা অর্জন শিক্ষা দোষের কিছু নয়। বিশ্বের সাথে খাপ খেয়ে চলতে হলে তাদের ভাষা জ্ঞান জানতে হবে। সে জানাও জ্ঞানের মধ্যে রাখতে হবে। বিদেশী জ্ঞানী গুণীদের লিখনি পড়তে এবং জানতে হলে তাদের ভাষায় পড়তে হয়। সে কারণে অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানের ভাষার প্রতিও দুর্বল হওয়া উচিত নয়। পৃথিবীতে চলতে গেলে অবশ্যই দুনিয়ার অন্যান্য দেশের ভাষা রপ্ত করা দরকার। আমাদের দেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা সমূহে নানা ধরনের ভাষার পার্থক্যে শিক্ষা দেওয়া হয়। সরকারী, বেসরকারী, প্রাইভেট শিক্ষাকেন্দ্রসমূহে কোথাও বাংলাভাষা, কোথাও বিদেশিভাষা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো চালাতে দেখা যায়। মায়ের ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম পুরো দমে চলছেনা। এখানে একেক প্রতিষ্ঠান একেক নিয়মে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিদেশী ভাষায় শিক্ষার্থীদের তৈরি করে বিদেশে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করা হয়। ওখান থেকে পাশ করা অনেক শিক্ষার্থী ঠিকভাবে বাংলায় কথা বলতে জানেনা। তারা কথায় কথায় ভিনদেশী ভাষা ব্যবহার করে। ঘরে বাইরে মায়ের ভাষায় কথা বলেনা। এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। বাংলাদেশে বাংলাভাষার চর্চা অনুশীলন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করতে হবে। দেশে অনেক বেসরকারি প্রাইভেট মাদ্রাসা চালু আছে। সেখানে বাংলা ভাষায় পাঠদান হয়না। সেটাও অমার্জনীয় অপরাধ। সব প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষার জন্য আলাদাভাবে গুরুত্ব রাখতে হবে। শিখাতে হবে। ছাত্র-শিক্ষক সকলের মধ্যে মায়ের ভাষার প্রতি অবশ্যই আনুগত্য থাকতে হবে। এরপর অন্যান্য ভাষার চর্চা অনুশীলন প্রয়োজনের কারণে থাকতে পারে। এসব বিষয় রাষ্ট্রীয়ভাবে মনিটরিং করতে হবে। যারা মায়ের ভাষার প্রতি সম্মান আনুগত্য প্রদর্শন করবেনা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাদেশে প্রতিদিন অসংখ্য দৈনিক , সাপ্তাহিক, পাক্ষিক , ম্যাগাজিন ও বই বের হচ্ছে। বাংলা ভাষার ওপরেই হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার দৈনিক পত্রিকায় মায়ের ভাষায় প্রবন্ধ নিবন্ধ গল্প কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে। এটাই আমাদের মায়ের ভাষার সংস্কৃতি, গৌরব এবং ঐতিহ্য। এভাবেই জাতিকে এগিয়ে যেতে হবে, এগিয়ে নিতে হবে। দিন দিন ভাষার চর্চা লিখালিখি প্রবন্ধ নিবন্ধ আরো সমৃদ্ধি পাক সেটাই লেখকদের প্রত্যাশা। বইমেলায় বইপ্রেমী লেখক পাঠকদের আনন্দঘন পরিবেশে সমাগম ঘটুক সেটায় ভাষার মাসের প্রত্যাশা। বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে , পাড়া-মহল্লায় মায়ের ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হউক।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla