ইসমাইল চৌধুরী
চট্টগ্রাম নগরীর মোহরা ওয়ার্ডে ‘কাপ্তাই রাস্তার মাথা’ নামক স্থানে রেলক্রসিং ঘেঁষে সড়কের উপর অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ সিএনজিচালিত অটোরিকশা(গ্রাম) স্ট্যান্ড। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্ট্যান্ডটি ব্যস্ততম কাপ্তাই সড়কের উপর হওয়ায় সড়কটি সংকুচিত হয়ে অন্য যানবাহন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া স্ট্যান্ড ছেড়ে যাওয়ার সময় সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অটোরিকশা প্রতি ৫ টাকা করে চাঁদা নিতে গিয়ে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এসব কারণে সড়কে সারাক্ষণ যানজট লেগে থাকে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৫নং মোহরা ওয়ার্ডে ‘কাপ্তাই রাস্তার মাথা’ নামক স্থানে কাপ্তাই সড়কটি আরাকান সড়কের সাথে যুক্ত হয়। এই তিন রাস্তার মোড়েই কাপ্তাই সড়কের উপর দিয়ে গেছে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন। রেলক্রসিং ঘেঁষে কাপ্তাই সড়কের উপর অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা(গ্রাম) স্ট্যান্ড। উত্তর চট্টগ্রামের অধিকাংশ মানুষ যাতায়াতের ক্ষেত্রে এ স্ট্যান্ডটি ব্যবহার করেন। ফলে এটি বেশ জমজমাট এবং রেলক্রসিং ঘেঁষে হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো মুহুর্তে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার আশংকার কথা জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। সাথে দীর্ঘ যানজটে পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে তাঁরা।
বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাই সড়কের রেলক্রসিংয়ের উপর সিএনজি অটোরিকশাগুলো(গ্রাম) জটলা পেকে আছে, ডাকা-ডাকি করে যাত্রী তুলছে। এমন সময় ট্রেন আসলে রেলক্রসিং থেকে অটোরিকশাগুলো সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, তখন সড়কের উভয় পাশে যানজট লেগে আছে।
সামনে গিয়ে আরো দেখা যায়, সড়কের দুই পাশ জুড়ে সিএনজি চালিত বিশাল অটোরিকশা (গ্রাম) স্ট্যান্ড। এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে এসব যানবাহন তারাহুরো করে যাত্রী নামাচ্ছে, তুলছে। গ্রাম থেকে আসা অটোরিকশাগুলো রাস্তার উপর একপাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী নামাচ্ছে। আর অন্য পাশ থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে এসব অটোরিকশাগুলো। ফলে রাস্তা উভয় পাশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এসময় অন্য যানবাহনগুলোর চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। রেলক্রসিং থেকে কাপ্তাই সড়কের দিকে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজট লেগে আছে। লাঠি হাতে নিয়ে কিছু যুবক যানজট নিরসনে কাজ করছে। তাঁরাই আবার স্টেশন ছাড়ার সময় অটোরিকশাগুলো থেকে ৫ টাকা করে আদায় করছে। ড্রাইভাররা বলছেন, টাকা না দিলে আমাদেরকে এখানে দাঁড়াতে দিবেনা পুলিশ।
যাত্রীদের অভিযোগ, অটোরিকশাগুলো এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে সড়ক দখল করে রাখে। আমাদের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়। অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হয়। রেলক্রসিং এর উপর সারাক্ষণ জ্যাম লেগে থাকে। এমন সময় ট্রেন আসলে ওরা কোথায় যাবে? যে কোনো মুহুর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁরা বলেন, গ্রাম অটোরিকশা শহরে ঢুকার নিয়ম নেই। আর এখানে এসব অটোরিকশাগুলো শহরে এসে রাস্তা দখল করে স্ট্যান্ড তৈরী করেছে। প্রশাসনের সবুজ সংকেত ছাড়া কি এটা সম্ভব? এসব পাগলেও বুঝে। ও-ই যে চাঁদা তুলছে। টাকা দিলে সব মাফ।
সড়কের উপর দাড়াচ্ছেন কেন? – এমন প্রশ্নের উত্তরে একজন অটোরিকশার ড্রাইভার পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘তো আমরা কোথাও দাঁড়াব? এখানে তো বাড়তি জায়গা নেই।’ টাকাগুলো কারা নেন, কেন নেন? – প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘টাকা নেতাদের মাধ্যমে পুলিশের পকেটে যায়। এই টাকা না দিলে এখানে দাঁড়াতে পারব?’
চাঁদাবাজির সত্যতা নিশ্চিত করেন খোদ চসিক সংরক্ষিত ওয়ার্ড-২ এর স্থানীয় কাউন্সিলর জোবায়রা নার্গিস খান। তিনি সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা’কে বলেন, ‘ওখানে কিছু নেতার ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি চলে। আল্লাহর রহমতে আমার এসব টাকার দরকার নেই’।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এই স্টেশনটি সরানোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন’।
এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক-উত্তর বিভাগের সহকারী কমিশনার জনাব মমতাজ উদ্দিন সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা’কে বলেন, ‘আমরা সারাদিন পিঠাপিঠি করি, তাঁরা আবার চলে আসে। সিএনজি চালিত গ্রাম অটোরিকশা শহরে আসার নিয়ম নেই। এখানে অনেক তদবির আছে। তারপরও আমরা মাঝে মাঝে অভিযান চালায়, জরিমানা করি। নিয়মিত ৫-৭ টি গাড়ি ধরা হচ্ছে’।
সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সিএমপি’র (ট্রাফিক-উত্তর) এই সহকারী কমিশনার বলেন, ‘৩ বা ৫ টাকা পুলিশ নেয় না। রাস্তায় চাঁদার টাকাসহ কাউকে পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন খোদ চসিক-৫ মোহরা ওয়ার্ডের স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জনাব কাজী নুরুল আমিন। তিনি সাপ্তাহিক পূর্ব বাংলা’কে জানান, ‘আমি নিজেও এ সমস্যার ভুক্তভোগী। এ সড়ক দিয়ে আমি নিয়মিত বাড়িতে যাতায়াত করি। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট আমাকে যানজটে আটকা পড়তে হয়’।
কাউন্সিলর আরো বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি, এমপি সাহেবের সাথেও কথা বলেছি। দেখা যাক, এমপি সাহেব এবং প্রশাসনের মাধ্যমে স্টেশনটা পাশ্ববর্তী গোলাপের দোকান নামক স্থানে সরানো যায় কিনা। তাহলে বিষয়টি মোটামুটি সমাধান হবে’।