1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
৩০টি ইটভাটায় পাহাড় সাবাড় হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ - পূর্ব বাংলা
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
মতাজুল হক সাহেবের ৩৫ তম ওফাত বার্ষিকী ও ইছালে সাওয়াব উপলক্ষে খতমে কুরআন, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাজধানীতে মাথাবিহীন ৭ টুকরো মরদেহ উদ্ধার দেশে পৌঁছেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযান অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অপরাধে ১১ গ্রেফতার সৌন্দর্যের চাদরে ঢাকা এক উপেক্ষিত স্বর্গ: বাঁশখালী সৈকতের কান্না শুনবে কে? বাবা ক্যান্সার রোগী, স্ত্রীর প্যারালাইসি ইতিস তনচংগ্যা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন   জনগণের দাবি থাকলে কুমিল্লা বিভাগ হবে: প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের আলোচিত ৫ খুন মামলার আসামির মরদেহ উদ্ধার কারিনার মরদেহ আসবে রোববার, সোমবার মুন্সিগঞ্জে দাফন

৩০টি ইটভাটায় পাহাড় সাবাড় হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩
  • ২৭০ বার পড়া হয়েছে

বান্দরবান প্রতিনিধি

সাবেক মেম্বার মোক্তার হোসেন ও কবির আহাম্মদের নেতৃত্বে বিশাল সিন্ডিকেট

বান্দরবানের  ফাইতং ইউনিয়নের ফাইতং এলাকায় একটি পাহাড়ের ৫০ একর কেটে সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। সুউচ্চ পাহাড়টি এখন সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। এই পাহাড়ের মাটি নেওয়া হয়েছে ওই ইউনিয়নের ৩০টি ইটভাটায়। এখন আশপাশের পাহাড়গুলোও কাটা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফাইতং ইউনিয়নে ছোট বড় মিলিয়ে ১০টি পাহাড় রয়েছে। এই ইউনিয়নের ৩০টি স্থানে ৩২টির মতো ইটভাটা আছে। কোথাও পাহাড়ের কোলে, কোথাও কৃষি জমিতে, আবার কোথাও জনবসতি, প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনঘেঁষে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা। মাটির জন্য ভাটার মালিকরা ১০-১৫টি ভেকু মেশিন (খননযন্ত্র) দিয়ে দিনে-রাতে কাটছেন পাহাড়। মাটি স্তূপ করে রাখার পর ট্রাক দিয়ে রাতে ও দিনে নিয়ে  যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। শুধু পাহাড়ের মাটি নয়, ইটভাটায় পোড়ানোর জন্য সাবাড় করা হচ্ছে প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের গাছপালাও।

ফাইতং ইউনিয়নের বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফাইতং এলাকার মানিকপুর অংশে ফোরবিএম, এনআরবি, ইউবিএম, ওয়াইএসবি ও থ্রিবিএম, ফাইভবিএম, এবিসি, এনআরবি ও বিবিএমসহ অন্তত ২০টি ইটভাটা রয়েছে। ফাইতংয়ের পাহাড়ি এলাকায় আরও ১২টির মতো ভাটা আছে। এক প্রকার প্রতিযোগিতা করে এসব এলাকার পাহাড়গুলো কাটছেন ভাটার মালিকরা। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাইতং ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এবং ওই ইউনিয়নের সাবেক সদস্য (মেম্বার) মোক্তার হোসেন ও কবির আহাম্মদ নামে দু ব্যক্তি।

স্থানীয় সুত্রে  জানা গেছে , গত এক বছর ধরে এখানে পাহাড় কাটা অব্যাহত আছে। আশপাশের কয়েকটি পাহাড়ের মাটি কেটে সমতল করে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পাহাড়ের ৫০ একরের বেশি সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি পরিবেশ অধিদফতরকে একাধিকার জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।  মাঝে মধ্যে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুই-একটি ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়।প্রশাসন চলে যাওয়ার পর দিন থেকে শুরু হয় আবার পাহাড় কাটা। যা এখনও অব্যাহত আছে। তবে কোনও কোনও ভাটা মালিক পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিতে দিনে না কেটে রাতে পাহাড় কাটছে এমন দৃশ্যও দেখা গেছে।

স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকি দেওয়া হয় এমন অভিযোগ রয়েছে প্রচুর। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এ জন্য পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইটভাটা মালিক বলেন, ‘পাঁচ লাখ করে এখানের ৩০টি ভাটার মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি তুলেছেন ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার মেম্বার। ওই টাকা দিয়ে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেছেন। ফলে অভিযান চালানো হয় না।

পাহাড় কেটে বন উজাড়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য ইটভাটার প্রয়োজন আছে। তাই বলে এক ইউনিয়নে এতগুলো ইটভাটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তারা আমার এলাকার সবগুলো বড় বড় সব পাহাড় সাবাড় করে ফেলছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি ব্যবস্থা না নেন, তাহলে এখানে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কোনও পাহাড় থাকবে না। সবগুলো সমতলে পরিণত হবে।’

পাহাড় কিংবা বনাঞ্চল ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না জানতে চাইলে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তফা জাবেদ কায়সার বলেন, ‘ফাইতং ইউনিয়নে ইটভাটার মালিকরা পাহাড় কাটছে বলে জেনেছি। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটি ভাটায় অভিযান চালিয়েছি। অভিযানের সময় পাহাড় কাটার প্রমাণ পেলে জরিমানা করা হয়। তবে ওই এলাকা উপজেলা সদর থেকে দূরে হওয়ায় আমরা যখন-তখন চাইলেও যেতে পারি না। তবে অবশ্যই আবারও অভিযান চালাবো আমরা।’

পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পাহাড় কাটা হচ্ছে ইটভাটা মালিকদের এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক ফখর উদ্দিন আহমেদ, ‘তাদের এমন দাবি মিথ্যা। আমরা আগেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি, জরিমানা করেছি। তবে তাদের সিন্ডিকেট অনেক শক্তিশালী। আমরা তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছি। কোনোভাবেই থামাতে পারছি না। বারবার মামলাও দিতে পারছি না। তারপরও যতটুকু পারছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, ‘ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড় কেটে বন উজাড়ের খবর পেয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে অভিযান চালাবো আমরা।’

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla