আনোয়ারা প্রতিনিধি
আনোয়ারায় ইয়াবা ব্যবসায়ী করে কানা মান্নান বিশাল ধনকুবের মালিক বনে গেছে । জুইদণ্ডী ইউনিয়নের কানা মান্নানকে ঘিরে আনোয়ারা জুড়ে চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা।এক সময় কানা আলম খানকে নিয়ে পুলিশসহ বিত্তশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সাহায্য নিত কানা মান্নান । ওই সাহায্যের ভাগ পেত এই কানা মান্নানও ।কানা আলম খান সত্যই জন্ম থেকে চোখে দেখেন না । ফলে সাহায্যে পাবার হকদার হলেন কানা আলম খান । ওই কানা আলম খানের বাড়ীও একই ইউনিয়নে।আলম খানকে পুঁজি করে কানা মান্নানের পথ চলা শুরু ।
জানা গেছে, কানা মান্নানের আপন ভাই জালাল কয়েক বছর আগে ইয়াবা মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন । জেল থেকে মুক্ত হলেও এই পেশার হাল ছাড়েননি জালাল ।
পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের (মার্চ) প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজারের টেকনাফ থানায় ধৃত পেশাদার চার ইয়াবা কারবারির বাড়ি আনোয়ারায় । তার মধ্যে আটক দলনেতা আবুল হোসেনের বাড়ি জুঁইদন্ডি এলাকায়। ধৃত আবুল হোসেন হলেন ইয়াবা সম্রাট কানা মান্নানের তালই। অর্থাৎ মান্নানের ছোটো ভাই হামিদুল্লার শ্বশুর হলেন ইয়াবা কারবারি আবুল হোসেন। জুঁইদন্ডি ও গহিরায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কানা মান্নানের রয়েছে ইয়াবা কারবারির বিশাল গ্রুপ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গহিরার জলিল আহমদ, দক্ষিণ পড়ুয়া পাড়া গ্রামের হাসান মাঝি, গহিরার ইয়াবা শফি, গহিরার সালেহ আহমদের ছেলে আব্দুল মান্নান, আলাউদ্দিন, দক্ষিন পরুয়া পাড়ার ছাবের আহমদ, জুঁইদন্ডির জসিম, ইছহাক, জালাল আহমদ, হামিদুল্লাহ্, দোভাষী বাজারের জসিম, আনু মিয়াসহ ৩৫ সদস্যের একটি বিশাল সিন্ডিকেট।
আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কানা মান্নান এক সময় পুলিশের সোর্স ছিল। অনেক ধনাঢ্য ব্যাক্তির সাথে রয়েছে কানা মান্নানের দহরম মহরম সম্পর্ক । উপকূলীয় এলাকার ১ গণপ্রতিনিধিও তার পার্টনার বলে জানা গেছে।কানা মান্নান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেলে ছুটে যান এবং অনুদানও দেন। অনেকের কাছে সে দানবীর হিসেবেও পরিচিত। বিভিন্ন সভা সমিতির অনুষ্ঠানের পোস্টারে নাম ছাপাতে সে বেশ আগ্রহী বলে অনেকে জেনে গেছে। একবার আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম খান দায়িত্বে থাকা অবস্হায় পোষ্টারে নাম ছাপানো নিয়ে কানা মান্নান নিগৃহিতও হয়েছিলেন।