মাহমুদুল হক আনসারী
ধর্ম মানব জীবনের অলংকার। ধর্ম মানুষকে শালীনতা শিখায়। মানবজীবনে শৃংখলা প্রতিষ্ঠা করে। মানবতার মধ্যে আন্তরিকতা,হৃদ্যতা , মহানুভবতা তৈরী করে। সমাজে শৃংখলা ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ধর্ম মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী করে। কোনো ধর্মই মানুষকে উশৃংখলতা বেহায়াপনা অশ্লীলতা করতে বলেনা। সকল ধর্মের মূল উদ্দেশ্য হলো মানব সমাজে শান্তি শৃংখলা ভ্রাতৃত্ববোধ সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আজকের সমাজ ও দুনিয়ায় ধর্ম গোত্র সমাজে সমাজে আমরা কী দেখছি? ধর্ম মানুষকে যেখনে শান্তি ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরী করার কথা ছিল সেখানে ধর্ম ও ধর্মীয় গোত্র সমাজ ও মানুষকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, সে জায়গায় আমার বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করব। ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ্য কর্মসূচী পরিকল্পনা এক বলে মনে হয়না। আমি বিশ্বের ধর্মের আচার অনুষ্ঠানের কথা বলবনা। বাংলাদেশের ধর্ম ও ধর্মীয় নেতাদের সামান্যতম আলোচনা করতে চেষ্টা করব। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ হচ্ছে ইসলাম ধর্মের অনুসারী। ইসলাম ধর্মের শেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সা:) এর উম্মত হিসেবে মুসলমানগণ নিজদের পরিচয় দাবী করে থাকেন। উনাকে অনুসরণ অনুকরণ অনুশীলনের সংগঠন ও সংস্থা হচ্ছে “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত” যে সংস্থার কথা পবিত্র হাদীস শরীফে বলা হয়েছে। এ একটি দল ছাড়া অন্য কোনো দল নবীর আদর্শের পতাকাবাহী সংগঠন হিসেবে দাবী করতে পারবেনা। করলেও সেটা গ্রহণযোগ্যতা পাবেনা। কোরান ও সুন্নাহর বাস্তব অনুসরণ ও অনুকরণের সংগঠন হলো “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত”। কথা হচ্ছে কারা এ সংগঠনের অনুসারী কারা নবীর সুন্নাতের কথা বলছে, কারা নবী মুহাম্মদ (সা:) কে সঠিকভাবে অনুসরণ করছে এসব আমি সঠিকভাবে বলতে পারবনা। আমি বলছি যারা ধর্ম নিয়ে কথা বলছে কাজ করছে, কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে আমি তাদের কথায় বলবো। বাংলাদেশে সঠিকভাবে ধর্ম নিয়ে কাজ করা সংগঠন দল, উপদল, গোত্র কী পরিমাণ আছে তা আমি নিরুপণ করতে পারবোনা। তবে কয়েকশত ধর্মীয় গোত্র ও সংগঠন আছে এমনিই ধারণা দিতে পারবো। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হচ্ছে একজন মাওলানা, পীর, খতীব,ইমাম, খলিফা যারা এসব দল গোত্রকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদেরকে যদি টার্গেট করে জরিপ করা হয়, তাহলে দেখা যায়, পূর্বসূরী হতে প্রাপ্ত হয়ে তারা খলিফা, পীর, খতীব, ইমাম, সভাপতি, চেয়ারম্যান, আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা অন্য দশজন মানুষের মতো তাদের চাল-চলন ভেষেভূষে। সবকিছু সমাজের অন্য দশজনের মতো ব্যবসা বাণিজ্য করে চলে। তারা নিজদেরকে ধর্মীয়গুরু নেতা হিসেবে ভাব দেখায়। মুসলমানদেরকে ধর্মের বাণী প্রচার করে নবীর সুন্নাত, মুস্তাহাব, পথ নির্দেশনা নিয়ে কথা বলে। তারা ইমাম খতীব হিসেবে সমাজে ধর্মীয় বাণী প্রচার করে থাকে। তাদের চাল-চলনে মনে হয় তারাই ইসলামের ধারক বাহক। ধর্মের আড়ালে তারা প্রচুরভাবে অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছে। সব গোত্র ও ধর্মীয় সংগঠনের মাধ্যমে মুসলমানদের বৃহত্তর ঐক্য নষ্ট করছে। ইসলাম ধর্ম একটা কোরান একটা নবী একজন। সব কিছু ঠিক থাকলেও আহলে সুন্নাতের জামাতের কথা বলে এক এক সংগঠন এক একটা দল তৈরী করে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের বদলে অনৈক্যে তৈরী করা কোনো অবস্থায় মুসলীম সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। এসব দল উপদলের ফলে মুসলমান তাদের ঐক্য হারাচ্ছে। এসব দল তাদের অনুসারীদের নিয়ে খানকাহ মসজিদ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে একটি সংগঠণ প্রতিষ্ঠা করে। সংগঠনের মাধ্যম বিভিন্নসূত্র থেকে আর্থিকভাবে ফায়দা সংগ্রহ করা হয়। এ ফান্ড দিয়ে সমাজে কতিপয় লাভজনক কাজ করা হলেও বৃহত্তরভাবে ধর্মীয় গোত্র গোত্র হানাহানি মারামারি সংঘর্ষ হতেও দেখা যায়। মুসলমানদের মধ্যে যতপ্রকারের দল উপদল হচ্ছে ততই দূরত্ব ও সংঘর্ষ বাঁধে। যে কথাটি বলার জন্য কলম ধরেছি, সেটি হচ্ছে আমাদের ইসলামের ধর্মীয় আঙিনায় কী দেখছি? ধর্মীয় দল উপদল তৈরী করে যেসব মসজিদ, মাদ্রাসা, খানেকাহ তৈরী করা হয় এসব প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়, একটা প্রতিষ্ঠানের সাথে আরেকটা প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব ১০০ মিটারের মধ্যে। একটা মসজিদ থেকে আরেকটা মসজিদে ইমামের নামাজের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। এসব মসজিদে ইমামগণ তাদের খুৎবা আর ভাষণে একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখে। মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে। যে সকল খাস জমিতে এসব ধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে তার মালিক সরকার অথবা স্থানীয় কোনো নিরীহ মানুষের। সরকারী খাস জমিতে এভাবে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলা কোনো অবস্থায় ধর্মীয় নিয়মনীতির মধ্যে পড়েনা। ধর্মীয় দৃষ্টিতে বৈধ বলা যাবেনা। এসব প্রতিষ্ঠান দিয়ে গোত্র দলের আর্থিক উন্নতি লাভ ছাড়া কিছুই দেখছিনা। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি আর ফ্যাসাদ তৈরী করে সমাজে বিভাজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক বাণিজ্য ছাড়া কিছুই দেখছিনা। ধর্মীয় হানাহানি, ফিৎনা ফ্যাসাদ দূর করতে যত্রতত্র অনুমোদনবিহীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অবশ্যই আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে। কোথায় কোন্ জায়গায় কীভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে তার একটা ফর্মূলা নিয়মনীতি থাকা চায়। এবং তা বাস্তবায়নযোগ্য হতে হবে। অনুমোদন রেজিঃ ছাড়া কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেেেনা নিয়ম নীতির বাইরে হতে না পারে তা স্থানীয় প্রশাসনকে অবশ্যই নজরদারী ও কার্যকর দেখতে চায় সচেতন ও শান্তিপ্রিয় জনগণ।