কর্ণফুলী নদীর পাড়ে বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই ডিঅ্যান্ডসি নামের ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। এ ইটভাটার মাটিও নদীর পাড় থেকে কেটে তোলা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইট পোড়ানোর কাজ শুরু হবে। এ ইটভাটার নদীর পানি দূষণ করবে। যা জনস্বাস্থ্যেও হুমকি হবে।
সরজমিন দেখা যায়, বোয়ালখারী উপজেলার চরখিজিরপুর এলাকায় কর্ণফুলী নদীপাড় ঘেঁষে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা গড়ে ওঠছে। এরমধ্য ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করছে। দুই শতাধিক শ্রমিক দিনরাত কাজ করছে। চলতি মাসে ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করার জন্য প্রস্তুত। এর মধ্যে মাটি সংগ্রহ সহ সকল ধরণের প্রস্তুুত শেষ করেছে। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ ধরণের ইট ভাটার কালো ধোঁয়া আর বর্জ্যে কর্ণফুলী নদী প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ভাটার বর্জ্য, আধলা ও মাটি ফেলে নদীপাড়ের জায়গা ভরাট করে দখল করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে অন্য পাড়ে নদীভাঙনে বনভূমি ও বসতভিটা বিলীন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা ইট তৈরির মাটি সংগ্রহ করে ভাটার নদীপাড় সংলগ্ন জায়গায় স্তুপ করে রাখছে। পরে ইট বানানোর জন্য ব্যবহার করবে। এ ছাড়া বর্জ্য ও আধলা ফেলেও ভরাট করা হচ্ছে। পাশে শ্রমিকদের থাকার জন্য ঘরও বানানো হচ্ছে। পাশে একটি খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব বলেন, আমরা জানি ইটভাটার কোনো অনুমোদন নেই। আমরা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। আর ইটভাটা চালু হলে এলাকার বায়ুর মান খারাপ হবে। এছাড়া নদীরপাড়ে ইটভাটা হওয়ায় নদীর পানির সরাসরি দূষিত হবে। এতে জীববৈচিত্র্যেরও ক্ষতির কারন হবে। এরমধ্যে পাশে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে মাটির র্উবরতাশক্তি নষ্ট হবে। পাশে একটা লবণ কারাখানা আছে। তাদের লবণের গুনাগুণও নষ্ট হবে। তাই প্রসাশনের উচিত হবে এ ধরণের পরিবেশবিরোধী কাজের নিৎসাহিত করা।
ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের উৎপাদন কার্যক্রম দেখাশোনা করেন জানে আলম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ২৬ বছরের পুরাতন প্রতিষ্ঠান। মাঝে তিন বছর উৎপাদন বন্ধ ছিল। কারণ তখন আমাদের ইটভাটা প্রশাসন ভেঙে দিয়েছিল। তখন আমাদের চিমনি ছিল ৭০ ফুট। এখন ৫০ ফুট করা হয়েছে। এখন আমরা সবকিছু নতুন করে রেডি করেছি। সামনে ইট পোড়ানোর কাজ শুরু হবে। আমাদের কয়লার মাধ্যমে ইট পোড়ানোর কাজ শুরু হবে। আমরা কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করব না। প্রতি মাসে সাত- আট লাখ পিস ইট বানানো হবে। প্রতিটি ইট ১২ টাকা করে বিক্রি হবে।
এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিাচলক মোজাহিদুল রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংযোগটি রিসিভ করেনি। পরে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জান্নাতুল ফেরদৌস কে বলেন, বোয়ালখালীর চর খিজিরপুররের নদীর পাড়ে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের কোনো ধরণের অনুমোদন নেই। এটি পুরোপুরি অবৈধ। আমরা দ্রুত সময়ে অভিযান পরিচালনা করে এটি বন্ধ করব। অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর জিরো টলারেন্স।

ইটভাটা বিষয়ে জানার ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের স্বত্ত্বাধিকারী শাহজাহানের যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের ছাড়পত্র নেই। তবে আমরা ছাড়পত্র বা অনুমোদন নিয়ে ইটভাটা ও কার্যক্রম পরিচালনা করব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার ভূমি কানিস ফাতেমা বলেন, বোয়ালখালীতে একটি মাত্র ইটভাটার অনুমোদন আছে। বাকিগুলোর অনুমোদন নাই। এগুলো অবৈধ। আর পরিবেশ অধিদপ্তর যদি অভিযান পরিচালনা করতে আসলে আমরা উনাদের সহযোগিতা করব।
মালিকও ছাড়পত্র না থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের আগে প্রকাশিত হিসাবে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় থাকা ৪২৫টি ইটভাটার মধ্যে ৩৪৯টি অবৈধ, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৮২ শতাংশ। বৈধ ভাটা মাত্র ৭৬টি। তবে এটি নভেম্বরের হালনাগাদ হিসাব নয়। নতুন মৌসুমে কতটি ভাটা চালু হয়েছে, কতটি বন্ধ এবং কতটির অনুমোদনের অবস্থায় পরিবর্তন এসেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে নদীর পাড়ে অনুমোদনহীন ভাটার পুনর্নির্মাণ উচ্ছেদ-পরবর্তী নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বোয়ালখালী উপজেলার চরখিজিরপুরে কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের নির্মাণকাজের প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন। ইট তৈরির জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি এনে স্তূপ করা হয়েছে। বর্জ্য ও ইটের আধলা ফেলে জায়গা ভরাটের পাশাপাশি শ্রমিকদের থাকার ঘরও নির্মাণ করা হচ্ছে। কাছেই রয়েছে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, ভাটার জন্য নদীর পাড়ের মাটিও কেটে নেওয়া হচ্ছে। তবে কতটুকু মাটি কাটা হয়েছে কিংবা নদীর সীমানার মধ্যে ভরাট হয়েছে কি না, তার পরিমাপভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায়

নি। এসব অভিযোগ যাচাইয়ে ভাটার জমির সীমানা, নদীর সীমানা এবং মাটি সংগ্রহের স্থান পরীক্ষা করা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব জানান, অনুমোদনহীন ভাটার বিষয়ে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। তাঁর আশঙ্কা, ভাটাটি চালু হলে ধোঁয়ায় এলাকার বায়ুর মান খারাপ হবে এবং বর্জ্যে নদীর পানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আশপাশের মাটি কাটায় জমির উর্বরতা এবং পাশের লবণ কারখানার উৎপাদিত পণ্যের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের উৎপাদন কার্যক্রম দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা জানে আলম জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২৬ বছরের পুরোনো। প্রশাসন ভেঙে দেওয়ার পর তিন বছর উৎপাদন বন্ধ ছিল। তখন চিমনির উচ্চতা ছিল ৭০ ফুট, এখন করা হয়েছে ৫০ ফুট। নতুন করে সব প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই ইট পোড়ানো শুরু হবে। তাঁর দাবি, কাঠ ব্যবহার করা হবে না; কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হবে। প্রতি মাসে সাত থেকে আট লাখ ইট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ইট ১২ টাকা দরে বিক্রির কথা জানান তিনি। এই হিসাবে পরিকল্পিত সব ইট বিক্রি হলে মাসিক বিক্রয়মূল্য হবে ৮৪ থেকে ৯৬ লাখ টাকা। এটি সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য, মুনাফা নয়।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শাহজাহান স্বীকার করেন, তাঁদের ছাড়পত্র নেই। তবে ছাড়পত্র বা অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে অনুমোদন নেওয়ার কথা বলা হলেও ইতোমধ্যে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও উৎপাদনের প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, চরখিজিরপুরে ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের কোনো অনুমোদন নেই। এটি অবৈধ। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ভাটাটি বন্ধ করা হবে। অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি। বোয়ালখালীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিস ফাতেমা জানান, উপজেলায় মাত্র একটি ইটভাটার অনুমোদন রয়েছে। বাকিগুলোর অনুমোদন নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করতে এলে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ধরনের ভাটার ধোঁয়া ও বর্জ্য নদীদূষণের কারণ হতে পারে। ইটের আধলা, বর্জ্য ও মাটি ফেলে নদীর পাড়ু ভরাট করা হলে স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে বিপরীত পাড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়ে বনভূমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের আগে প্রকাশিত হিসাবে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৭০টি ইটভাটা রয়েছে সাতকানিয়ায়। এর মধ্যে ২৯টি বৈধ ও ৪১টি অবৈধ। রাঙ্গুনিয়ার ৬৯টি ভাটার মধ্যে বৈধ মাত্র তিনটি, বাকি ৬৬টি অবৈধ। আনোয়ারায় দুটি ভাটার একটি বৈধ ও অন্যটি অবৈধ ছিল।
জেলার ভাটাগুলোর মধ্যে জিগজ্যাগ চিমনিযুক্ত ২৫২টি, ফিক্সড চিমনিযুক্ত ১৫৯টি, হাইব্রিড হফম্যান আটটি এবং স্বয়ংক্রিয় ভাটা ছয়টি বলে ওই হিসাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রযুক্তির ধরন এবং প্রতিষ্ঠানের বৈধতা পৃথক বিষয়। কোনো ভাটায় নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই সেটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মার্চে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আগের ছয় মাসে চট্টগ্রামে ২৪টি অবৈধ ভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের তথ্য ছিল। এই পরিসংখ্যানকে চলতি নভেম্বর পর্যন্ত অভিযানের মোট হিসাব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে ধারাবাহিক অভিযানের পরও অনুমোদনহীন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে না আসার বিষয়টি এতে স্পষ্ট হয়।
চলতি বছরের ২ এপ্রিল চন্দনাইশের পূর্ব এলাহাবাদ এলাকায় পাঁচটি ইটভাটাকে চার লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পটিয়া ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং, শাহ আমানত ব্রিকস, জোহাদিয়া ব্রিকস, ন্যাশনাল ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ও চৌধুরী ব্রিকস। নতুন মৌসুমে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। নতুন মৌসুম সামনে রেখে গত ৩১ আগস্ট জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাঠ ও ক ষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। খাল খননের মাটি ইট তৈরিতে ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়। সেপ্টেম্বরে রাঙ্গুনিয়ার ১৭টি ভাটা বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়। অক্টোবরে মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং লোহাগাড়ায় লিফলেট বিতরণ করে অবৈধ ভাটায় আগুন না দিতে সতর্ক করা হয়। কিন্তু ২৯ অক্টোবররাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলায় আবার উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হয়। সেখানে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালনার কারণে খাজা আজমির ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের চিমনি ও কিলন ভেঙে দেওয়া হয়। একই এলাকার খাজা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিংকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে লাইসেন্সবিহীন ভাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশও এসেছে। সব অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নাম-ঠিকানাসহ সুনির্দিষ্টভাবে আদালতে দাখিলের বিষয়টিও সামনে আসে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনজীবী মনজিল মোরশেদ অভিযোগ করেছেন, কিছুদিন বন্ধ রাখার পর আবার ভাটা চালু করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এটি তাঁর অভিযোগ; নির্দিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত নয়।
রাঙ্গুনিয়া, সাতকানিয়া ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে ভাটা স্থাপন এবং ইট তৈরির জন্য উপরিভাগের মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানিয়েছেন, দুই বা ততোধিক ফসল উৎপাদিত হয় এমন জমিতে ভাটা স্থাপনের অনুকূলে তাঁরা প্রত্যয়ন দেন না। টপসয়েল কাটায় জমির উর্বরতা ও উৎপাদন কমে যাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো. জমির উদ্দিন আগে দেওয়া বক্তব্যে বাজেট স্বল্পতা ও নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট না থাকাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, উচ্ছেদের পর মালিকেরা কোনো কোনো ভাটা পুনর্নির্মাণ করেন। বোয়ালখালীর ডিঅ্যান্ডসি ব্রিকসের ক্ষেত্রে পুনর্নির্মাণের কথা প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিই জানিয়েছেন। ফলে অভিযান শেষে নজরদারি থাকছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পরিবেশ অধিদপ্তর ভাটাটি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে অভিযান সম্পন্ন হওয়ার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। উৎপাদন শুরুর আগেই কার্যক্রম বন্ধ এবং নদীর পাড়ের মাটি কাটা ও ভরাটের অভিযোগ যাচাইয়ে ঘোষিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অপেক্ষা রয়েছে।