আসাদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন খাজা রোড সাবানঘাটা এলাকার আবদুল কাদের মিস্ত্রি বাড়িতে পুকুর ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে নূর নাহার ওরফে নুনুনি নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাঁর নির্মিত একটি বসতঘর ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চান্দগাঁওয়ের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খাজা রোড সাবানঘাটা এলাকার আবদুল কাদের মিস্ত্রি বাড়ির মোহাম্মদ এয়াকুব, মোহাম্মদ নবী, এসকান্দর, সেকান্দর ও নজির (প্রকাশ কফিলের বাবা)–এর কাছ থেকে একটি পুকুর ক্রয় করেন নূর নাহার ওরফে নুনুনি। অভিযোগ রয়েছে, পুকুরটি সংস্কার ও উন্নয়নের কথা বলে ক্রয় করা হলেও পরবর্তী সময়ে সেটি ভরাট করে সেখানে দেয়াল নির্মাণ ও বাড়িঘর তৈরি করা হয়। নির্মিত ঘরগুলো ভাড়া দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
বিক্রেতা পক্ষের শরিকদের দাবি, পুকুরটি সংস্কার ও উন্নয়নের কথা বলেই বিক্রি করা হয়েছিল। এটি ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ করা হবে—এমনটি জানলে তাঁরা কখনোই পুকুরটি বিক্রি করতেন না।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুর ভরাটের পর নির্মিত বসতঘরটির একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে পড়েছে। ঘরটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঘরটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে ঘরের বাসিন্দাসহ আশপাশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে নূর নাহার বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্ল্যান নিয়েই বসতবাড়িটি নির্মাণ করেছি। আশপাশে এমন কোনো ভবন নেই, যার কারণে আমার ঘর হেলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমি নতুন করে দুইতলা ঘর নির্মাণ করেছি। এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনারা ভুল অভিযোগ শুনেছেন।’
সিডিএর অনুমোদিত নকশার কপি দেখতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার ছেলেরা ও স্বামী জানেন। তাঁরাই বলতে পারবেন।’ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বিক্রেতা এয়াকুবের ছেলে সাইফুল বলেন, ‘আমি এসব বিষয়ে কিছু জানি না। আমার চাচা পুকুরটি বিক্রি করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে আমরা কিছু জানি না।’
এয়াকুবের আরেক ছেলে তাজুল বলেন, ‘তাঁরা যে ঘর নির্মাণ করেছেন, সেখানে হেলে পড়া বা ভেঙে যাওয়ার মতো কোনো কারণ আমি দেখছি না। ঘরটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে পড়েছে—এমন কিছু আমার চোখে পড়েনি।’
অন্যদিকে, সেলিম মুন্সির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। নজির ওরফে কফিলের বাবার মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় পুকুর ভরাটের বৈধতা, বসতঘরের নির্মাণ অনুমোদন এবং ভবনটির প্রকৃত অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে পুকুর ভরাটের বিষয়টি তদন্ত, সিডিএর অনুমোদিত নকশা যাচাই এবং হেলে পড়া বসতঘরটির নিরাপত্তা পরীক্ষা করুক। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।