বিশেষ প্রতিবেদক:
বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে বৈধ ও নামেমাত্র লাইসেন্সের আড়ালে গড়ে ওঠা পেশাদার আড্ডা বা পানশালায় (বার) এবং লাউঞ্জগুলোতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি নীতিমালা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং আবগারি বিভাগের কড়া নির্দেশিকা থাকার পরও বিভিন্ন হোটেল, ক্লাব ও রেস্তোরাঁয় অবস্থিত বারগুলোয় চলছে নানা অনিয়ম। দেখার কেউ আছে কি না—এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের মুখে মুখে।
১. বয়স যাচাই ও পারমিট আইনের তোয়াক্কা না করা:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী বারে প্রবেশের বয়সসীমা অন্তত ২১ বছর এবং স্থানীয় নাগরিকদের জন্য সরকারি পারমিট বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে এর কড়াকড়ি কদাচিৎ দেখা যায়। অনেক প্রতিষ্ঠানে নামমাত্র পরিচয়ের ভিত্তিতে কিংবা নজরদারির অভাবে কমবয়সী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণদের অবাধে প্রবেশ এবং সেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
২. প্যাকেজ ও ‘টেক-আউট’ বাণিজ্য:
আইনানুযায়ী বেশিরভাগ বারের লাইসেন্স ‘অন-শপ’ (On-Shop) প্রকৃতির অর্থাৎ বারের নির্দিষ্ট সীমানার ভেতরে বসে সেবন করার জন্য। কিন্তু দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠানে সিলড বোতল বা ক্যান বাইরে সরবরাহ করার অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। নির্ধারিত কোটা বা নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত স্টক রেখে তা গোপনে চড়া দামে বিক্রির মতো অনিয়মও মাঝেমধ্যে সামনে আসে।
৩. লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ ও সময়সীমা লঙ্ঘন:
নির্দিষ্ট সময়ের পরে বার খোলা রাখা, নিয়মবহির্ভূতভাবে লাইসেন্সের অপব্যবহার এবং রেজিস্টারে সঠিক হিসাব না রাখার মতো ঘটনা অহরহ ঘটে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতীয় বিশেষ ছুটির দিনগুলোতে বার বন্ধ রাখার সরকারি কঠোর নির্দেশ থাকলেও কোনো কোনো স্থানে পর্দার আড়ালে বা পেছনের গেট দিয়ে অবৈধ কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ শোনা যায়।
৪. ভ্যাট ও রাজস্ব ফাঁকি:
বিক্রয় রেজিস্টারে সঠিক হিসাব সংরক্ষণ না করা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির জন্ম দেয়। নজরদারি সংস্থাগুলোর তদারকির ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি করছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত মনিটরিং থাকার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময় আকস্মিক অভিযান পরিচালিত হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান বা কঠোর দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনিয়মগুলো থামছে না।
বন্দরনগরীতে মাদকের অপব্যবহার রোধ এবং আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রশাসনের কঠোর তদারকি এবং লাইসেন্সধারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। অন্যথায় এই অনিয়ম আরও জেঁকে বসবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো সামাজিক ব্যবস্থার ওপর।