
আসাদুল ইসলাম
চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মুখে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যত্রতত্র পার্কিং, সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা ও বেপরোয়া চলাচলে প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। একই সঙ্গে উল্টো পথে যানবাহন চলাচল ও সড়কের মাঝপথে অটোরিকশা ঘোরানোর কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, যাত্রী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মুখে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো সড়কের বিভিন্ন অংশে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। অনেক চালক সড়কের মোড়ে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের ডাকাডাকি করে গাড়িতে তুলছেন। যাত্রী ওঠানোর সময় হঠাৎ সড়কের ওপর গাড়ি থামিয়ে দেওয়ায় পেছনে থাকা যানবাহনগুলোকে আকস্মিকভাবে গতি কমাতে হচ্ছে।
এ ছাড়া যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের দিকে যাওয়ার সময় অনেক অটোরিকশাকে সড়কের মাঝপথে ঘুরে যেতে দেখা যায়। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। ব্যস্ত সড়কের এই অংশে একসঙ্গে একাধিক অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অটোরিকশার এমন বেপরোয়া চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার কারণে এর আগেও বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে সড়কের মোড় ও ব্যস্ত অংশে হঠাৎ গাড়ি থামানো এবং ঘুরিয়ে দেওয়ার কারণে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহন প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
এদিকে উল্টো পথে যানবাহন চলাচল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে সড়কের ওপর অটোরিকশা দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে, অন্যদিকে বিপরীত দিক থেকে যানবাহন আসায় সড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দিনের কিছু সময় ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও তাদের নজরদারির বাইরে সুযোগ নিয়ে অটোরিকশাগুলো এক্সেস রোডের মুখে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ সড়কের ওপর অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট তৈরি হয়।
তাদের দাবি, চন্দনপুরা এক্সেরোডের মুখে অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার স্থান নির্ধারণ, উল্টো পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
জনদুর্ভোগ ও সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের।