এস ইউ আহমেদ
নগরীর স্টেশন রোডের ‘হোটেল গেইটওয়ে ইন্টান্যাশনাল ‘ -এ মদ, জুয়া ইয়াবা সেবনসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে কোন বাঁধা ছাড়াই।
আবাসিক হোটেলের নামে সকল অপকর্মের ঠিকানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে চলেছে এটি। অসামাজিক কর্মকাণ্ড, মদ, জুয়া ও ইয়াবা সেবনের নিরব ঘাঁটি এটি। মো: আলী নামক জনৈক ব্যক্তি এসবের মূল হোতা। থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ তার পকেটে। ডিবি, এসবি,সিআইডিসহ প্রশাসনের সকলের সাথে আলীর দহরম মহরম সম্পর্ক আছে এইরকম কথা সে সবখানে বলে বেড়ায়। হোটেলের মালিক জিয়াউর রহমানের প্রধান আয়ের কারিগর এই মোঃ আলী।
জানা গেছে, মো. আলী সকল খদ্দেরদের সকল প্রকার নিরাপত্তা দিয়ে এই হোটেলে মদ, জুয়া, ইয়াবা সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দেয়। মূলত এটি একটি অপরাধীদের আশ্রয়স্থল। রাতে এই হোটেলে কখনো পুলিশী অভিযান হয় না। ফলে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীর ওয়ারেন্ট প্রাপ্ত আসামীরা এখানে অবস্থান নিয়ে নিশি যাপন করে থাকেন। কোন বোর্ডার ওয়ারেন্ট আছে এই কথা হোটেল ম্যানেজারকে বললে অতি নিরাপত্তার জন্য বাড়তি গুনতে হয় পাঁচশত টাকা । এই কারণে ওয়ারেন্ট আছে বিষয়টি এড়িয়ে যায় প্রায়ই বোর্ডার গণ । এই হোটেলে রাতে অবস্থান নেয় এমন ব্যাক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেলে আসল তথ্য বেড়িয়ে আসবে।
এখানে রুম ভাড়া ঘণ্টা, দিন ও কিছুক্ষণের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। তবে ভাড়া শোধ করতে হয় গোটা দিনের জন্য। কেউ যদি একদিনের ভাড়া নিয়ে এক ঘন্টায় চলে যায় তখন মালিক পক্ষ খুশি হয় বেশি। কারন এই রুমটি আবারও ভাড়া দেবে অন্য কাস্টমারকে। হোটেলের আসে -পাশের ব্যবসায়ীরা এসবের প্রতিবাদ করারও সাহস পায়না।
মো. আলী সবাইকে বলে বেড়ায় তার মালিকের সাথে পুলিশ, এনসিপি নেতা,ব্যবসায়ী সমিতির নেতা, ডিবি ও এসবির লোকের
সাথে সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তাদের এসব কর্মকাণ্ড চালাতে কোন অসুবিধা হয় না।
খবর নিয়ে জানা গেছে এই হোটেলের মালিক জিয়াউর রহমান মিরসরাইল এর অধিবাসী। তিনি আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থাকা অবস্থায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নাম বিক্রি করে চলত। এখন তিনি বিএনপির ডোনার পরিচয় দেয়।
প্রসংগত গত বছর ২৪ মে রাতে হোটেল গেইটওয়ে আবাসিক হোটেলের ভিতর থেকে ৬ নারীসহ ১২ জনকে আটক করেছিল পুলিশ।
হোটেলের ভিতরে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়েছিল। এ যাবৎ এই অপরাধের ঘাঁটিতে আর কখনো হানা দেবার খবর পাওয়া যায়নি।