1. editor@purbobabgla.net : Web Editor : Web Editor
  2. admin@purbobangla.net : purbabangla :
  3. jashad1989@gmail.com : Web Editor : Web Editor
'ক্যাশিয়ার' মোরশেদের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ - পূর্ব বাংলা
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী  জসিম উদ্দিন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান  সাংবাদিক মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত সংবর্ধিত ইবিএল চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ দুদকের জন্য বরাদ্দ ১৯৭ কোটি টাকা চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের বাজেট বিবৃতি সিডিএ’র চেয়ারম্যান হলেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ‘জীবন ও কর্ম’ নিয়ে আলোচনা সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন  মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত চট্টগ্রামের তারকা সাংবাদিক, দেশ ও জাতির অহংকার  চকবাজার ব্লাড ডোনার’স ক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সিএমপির তিন পুলিশ পরিদর্শককে বদলি

‘ক্যাশিয়ার’ মোরশেদের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

পূর্ব বাংলা ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

চাঁদাবাজির মামলায় কারাভোগের পরও পদোন্নতি!

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র এবং সিটি করপোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন-আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের ঘনিষ্ঠ ‘ক্যাশিয়ার’ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সাবেক উপ প্রধান পরিচ্ছন্না কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার বেনামী সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও তার বিলাসবহুল জীবনযাপন, একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাবসায়িক মালিকানা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ঘনিষ্ঠ ক্যাশিয়ার’ পরিচয় ব্যবহার করে গত কয়েক বছরে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। দায়িত্ব পালনের আড়ালে বছরের পর বছর ধরে তিনি নীরবে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।

সুত্র জানায়, নগরের বিভিন্ন এলাকায় তার স্ত্রী, সন্তান ও নিকট আত্মীয়দের নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট কেনা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে তিনি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের শ্রমিক নিয়োগ বানিজ্য ও বর্জ্য পরিবহন প্রকল্প থেকে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।

চসিকে পরিচ্ছন্ন বিভাগের উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মবর্তার দায়িত্বে ছিলেন মোরশেদুল আলম চৌধুরী। পদবীর আগে উপ থাকলেও মূলত প্রধানের দায়িত্ব পালন করতেন। আর সেই সুযোগে একের পর এক দুর্নীতির মাধ্যমে সেই নামে বেনামে গড়েছেন অঢেল সম্পত্তি। এসব অপরাধের কারণে তাকে পরিচ্ছন্ন বিভাগ থেকে সরানোও হয়। তবে চাকরিবিধি উপেক্ষা করে আগ্রাবাদে কোটি টাকায় সুপারসপ দিয়ে নিজেই ব্যবসা করছেন বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক অভিযোগ, মামলা থাকলেও শ্রমিক লীগের নেতা হওয়ার সুবাদে ও সাবেক মেয়রের সাথে সখ্যতার ফলে সব অপরাধ ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন।

বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পরিচ্ছন্ন বিভাগের সুপরভাইজার থেকে পদোন্নতি পেয়ে চসিকের উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা হন মোরশেদুল আলম চৌধুরী। মেয়র মঞ্জুর আলম থেকে শুরু করে আ জ ম নাছির উদ্দীন ও রেজাউল করিমের সাথে ছিল গভীর সখ্যতা। আ জ ম নাছির উদ্দীনের ক্যাশিয়ার হিসেবে যত্রতত্র দুর্নীতি, লুটপাট, অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান।

তিনি পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করতেন। মেয়রের ব্যাক্তিগত ক্যাশিয়ার সেজে বাঁশখালীর খোরশেদুল আলম থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। চসিকের ডোর-টু-ডোর প্রোগ্রামে নিয়োগ বাণিজ্যে ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন।

এমনকি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ছেলে, ভাতিজা, ভাগিনা, ভাই ও শ্যালককে চাকরী দিয়েছেন। একই প্রোগ্রামে ২১জন শ্রমিককে সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি দিয়ে জন প্রতি ২ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া শ্রমিক নিয়োগে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ আছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রকৌশল বিভাগের যান্ত্রিক শাখায় ৪১টি ওয়ার্ডে লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে টমটম গাড়িতে চালক নিয়োগ দিয়েছেন। চালকদের অধিকাংশেরই বৈধ লাইসেন্স নেই।

সাবেক মেয়র মনজুর আলমের সময় অস্থায়ী কর্মচারীদেরকে চাকুরীতে স্থায়ী করার জন্য হাইকোর্টে মামলা পরিচালনা ও মন্ত্রণালয়ে ঘুষ দেয়ার নাম করে জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেন। ২০১৭ সালে ১০ জন ছাত্রীকে বাওয়া স্কুলে ভর্তি করে ১৫ লাখ টাকা আদায় করেছেন।

চাঁদাবাজির বিষয়ে বাঁশখালী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। (মামলা নং- ১৯ তারিখ-২৩/০১/২০১৫)। জি.আর মামলা ৪৬/১৫, যার চার্জশীট কোর্টে দাখিল হয়। এই মামলায় আটক হয়ে ১ মাস জেল খাঁটেন। নিয়ম অনুযায়ী তখন সে বরখাস্ত হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে উল্টো, পেয়েছেন পদোন্নতি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা হওয়ার পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই ঠিকাদারদের সাথে আঁতাত করে কর্পোরেশনে ব্যবসা করা শুরু করেছেন।

জানা গেছে,  দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে প্রথমে সুপারভাইজার, পরে পরিদর্শক, তার পরে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে একচেটিয়ে দায়িত্ব পালন করেন মোরশেদ। সেই ওয়ার্ডের শ্রমিকদের কাছ থেকে মাসিক মোটা অংকের মাসোয়ারা নিয়ে কাজ না করে বেতন ভাতা উত্তোলন করতেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানায়।

তার ক্ষমতার অপব্যবহার, অনৈতিক কর্মকান্ড ও স্বেচ্ছাচারীতার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবরে আবেদন করেছিলেন বাঁশখালীর একজন। সচিবালয়ের সিটি কর্পোরেশন-২ শাখার উপসচিব এর স্বাক্ষরিত পত্রে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, আয়কর ফাঁকি ও চোরাচালান সংক্রান্ত অভিযোগসমূহ তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব পরিমল কুমার দেবকে এক মাসের সময় দিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সব কিছু ম্যানেজ করে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন বলে চসিকের বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।

দুর্নীতির টাকায় অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছন মোরশেদ আলম চৌধুরী। চট্টগ্রাম শহরের আগ্রাবাদ ও বাকলিয়াতে রয়েছে তার ভবন। আগ্রাবাদে কোটি টাকা মূল্যের চৌধুরী সপের মালিকও তিনি। নিজেই বসছেন দোকানে।

আমাদের বাঁশখালী প্রতিনিধি জানান, বাঁশখালীর ইলশা গ্রামে তার নিজ নামে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি রয়েছে। এছাড়াও নামে-বেনামে নিজ গ্রাম ও চট্টগ্রাম শহরে অনেক সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে সে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দাপটে চলার কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারতো না। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ৩১ আগষ্ট তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। উপ – প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরীকে পরিচ্ছন্ন বিভাগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় অঞ্চল ১ এ সংযুক্ত করা হয়।

চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হঠাৎ করে তার সম্পদের পরিমান কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। মোরশেদের মালিকানায় এখন একাধিক বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক সুপারসপ, নগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমি রয়েছে। অথচ তার সরকারি পদমর্যাদা ও বেতন কাঠামো এমন সম্পদ বৈধভাবে অর্জনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের সাবেক উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আপনার নাম কি ? কোন পত্রিকা ? আমি পরে কথা বলব’। কয়েক ঘন্টা পর কয়েকবার ফোন করে ও মেসেজ দিয়েও সাড়া মেলেনি। ফলে মোরশেদুল আলম চৌধুরীর কোন বক্তব্য আমাদের পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা গেল না।

শেয়ার করুন-
এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2021 purbobangla